প্রিন্সেস ডায়ানার অমীমাংসিত রহস্য

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিন্সেস ডায়ানার অমীমাংসিত রহস্য

জীবনে খ্যাতির শীর্ষে থাকা অনেক নারীই প্রাচুর্যের মধ্য দিয়ে জীবন পার করলেও সুখের সন্ধান পাননি। শেষ পর্যন্ত নিজেরাই পরিণত হয়েছেন রহস্যে। রহস্যময় জীবনের এমনই সুপরিচিত নারী প্রিন্সেস ডায়ানা।



প্রায় দুই যুগ আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া সুপরিচিত নারী প্রিন্সেস ডায়ানা। জীবিত থাকাকালীন তো বটেই, তার মৃত্যুর পরেও তাকে নিয়ে আগ্রহের কোনো শেষ ছিল না, সম্ভবত এখনো শেষ হয়নি। রাজপরিবারের হাস্যোজ্জ্বল এই বধূ খুব দ্রুত জায়গা করে নিয়েছিলেন বিশ্ববাসীর মনে। তাই তো গাড়ি দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু আজও এক রহস্য।



নরফোকের বিখ্যাত স্পেনসার পরিবারে ১৯৬১ সালের ১ জুলাই জন্ম হয় প্রিন্সেস ডায়ানার। পৃথিবীর সুন্দরীতমাদের মাঝে একজনের নাম বললে শীর্ষেই উঠে আসে তার নাম। শুধু রূপ-লাবণ্যেই নয়, ঐশ্বর্য, প্রাচুর্য, প্রেম আর রাজকীয়তার কিংবদন্তি ছিলেন তিনি। ২০ বছর বয়সী ডায়ানার সঙ্গে ৩২ বছরের প্রিন্স চার্লসের ছিল গভীর প্রণয়। তাদের প্রণয়ের কথা তখন প্রচার মাধ্যমে বেশ সরব। প্রণয়টা পরিণয়ে পরিণত হোক এমনটা চাননি রানী এলিজাবেথ। তবে সব জল্পনা-কল্পনা শেষে তারা ঠিকই বিয়ে করেন। ১৯৮১ সালের ২৯ জুলাই বাকিংহাম প্যালেসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নববধূ ডায়ানা বিশ্ববাসীকে জানান দেন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে জুড়ে গেল তার নাম। 



এখন থেকে তিনি রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য। তারা ভূষিত হলেন প্রিন্স ও প্রিন্সেস ওয়েলস পদে। এখানেই হয়তো ডায়ানার জীবননাশের গল্প লেখার শুরু হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই রাজপরিবারে তিনি সুখী নন, প্রেমের বিয়ে হলেও প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তিনি বিরোধে জড়িয়ে যাচ্ছেন এমন অনেক গল্প সামনে আসতে থাকে। আরও যুক্ত হতে থাকে ডায়ানার ঘনিষ্ঠদের নাম। এই তালিকায় নাম ছিল ডায়ানার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ব্যারি মান্নাকির নাম। ১৯৮৫ সালে মান্নাকিকে ডায়ানার দেহরক্ষী হিসেবে যুক্ত করে দেওয়ার এক বছর পর আবার সরিয়ে নেওয়া হয়। ধারণা করা হয় ডায়ানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে জানার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনার মাত্র দুই বছর পর ১৯৮৭ সালে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান মান্নাকি।


মান্নাকির পর ডায়ানার সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্ক হয় ব্রিটেনের পদাতিক বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জেমস হিউইটের সঙ্গে। তালিকায় আরও ছিলেন পাকিস্তানি চিকিৎসক হাসনাত খান, প্রপার্টি কনসাল্ট্যান্ট জেমস গিলবি, মিসরের যুবরাজ দোদি আল ফায়েদের নাম। এদের মধ্যে যুবরাজের সঙ্গে মৃত্যুর আগে সম্পর্ক ছিল ডায়ানার। তাদের এই সম্পর্ক নিয়ে রাজপরিবার তো বটেই পুরো ব্রিটেনের জনগণের মাঝেই একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। তাদের দুজনের ছুটি কাটানোর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মিডিয়ায়। তাদের একসঙ্গে থাকার কথা অল্পস্বল্প ছড়ালেও সেই সময় পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে হয়নি। কারণ তার আগেই ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় দুজনের।



মৃত্যু স্বাভাবিক একটি বিষয় হলেও তাদের মৃত্যু নিয়ে তৈরি হলো নানা গল্প। মৃত্যুর আগে তাদের গাড়ি যিনি চালাচ্ছিলেন তার নাম ছিল হেনরি পল। অনেকের ধারণা তিনি ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার একজন লোক। দুর্ঘটনায় হেনরি এবং দোদির মৃত্যু হলেও হাসপাতালে নেওয়ার তিন ঘণ্টা পর মারা যান ডায়ানা। জানা যায়, হেনরি মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এই বিষয়টিতেই সন্দেহ ঘনীভূত হয় সবচেয়ে বেশি। রাজপরিবারের বধূর গাড়ি কী করে একজন মাতাল মানুষ চালাচ্ছিলেন তাতেই প্রশ্নের উদ্রেক হয়। মুসলমান কারও সঙ্গে ডায়ানার বিয়ে হবে এমন সম্ভাবনা মেনে নিতে পারেনি রাজপরিবার। তাই নিজেদের আভিজাত্য বাঁচাতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এমন সন্দেহও ছড়িয়েছে। তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে ডায়ানার আপন বোন লেডি সারাহও যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করেন অনেকে। রাজপরিবারের বধূ হয়েও সুখী ছিলেন না ডায়ানা। তার মৃত্যুও ঘেরা রহস্যের জালে। দুই দশক পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যু রহস্যের কিনারা হয়নি আজও। বিশ্ববাসীর কাছে সত্যিটা অজানাই রয়ে গেছে।

sidebar ad