অধিকারের কথাগুলো আমরা বেমালুম ভুলে যাই

করেছে Rodoshee

কেমন আছো সবাই? রোদ-গরমে ঘেমেনেয়ে নিশ্চয় একাকার? কী আর করা বলো, গ্রীষ্মকাল বলে কথা। এই গরমে সুস্থ থাকতে দরকার বাড়তি সচেতনতা। প্রচুর বিশুদ্ধ পানি তো পান করবেই। সম্ভব হলে পানির সঙ্গে স্যালাইন মেশাও। বাজারে মৌসুমি ফলের আধিক্য। ফল খাও। শরীর ভালো থাকবে।
প্রতিবছর মহান মে দিবস আসে, চলেও যায়। বাংলাদেশ লেবার ফোর্সের সার্ভে অনুযায়ী দেশের মোট শ্রমিকের সংখ্যা ছয় কোটির বেশি, এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশ নারী। বাংলাদেশের এই বিশালসংখ্যক শ্রমিকের ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিবছরই মে দিবস পালিত হলেও এ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে যারা সবচেয়ে বড় অংশীদার, তাদের অধিকারের কথাগুলো আমরা বেমালুম ভুলে যাই।
বিবিএসের জরিপ বলছে, দিন দিন কমছে নারীর গড় মজুরি। দুই বছরের ব্যবধানে নারী শ্রমিক বা চাকরিজীবীদের মজুরি ৩১৯ টাকা কমে গড়ে ১০ হাজার ৮১৭ টাকা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, কম মজুরির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের নারী শ্রমিকদের ওপর। আবার পুরুষের সমান কাজ করেও কম মজুরি পাওয়ার ব্যাপারটি তো একরকম নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, বিনা মজুরিতে গৃহস্থালির কাজে সহায়তাকারীর সংখ্যাও গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কিন্তু এখনো বিনা মজুরিতে ৭৩ লাখ লোক কাজ করে। এদের অধিকাংশই নারী। এসব তো গেল তথ্য-উপাত্তের কথা। আসল চিত্র নিশ্চয় আরও ভয়াবহ। গা শিউরে ওঠার মতো।
শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও বিশালসংখ্যক শ্রমিক জনগোষ্ঠী দেশে অর্থ পাঠিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করছে। কিন্তু এখানেও নারী শ্রমিকদের দুর্দশা। কয়েক দিন পরপরই মিডিয়ায় প্রবাসী নারী শ্রমিকদের যৌন নিপীড়নের খবর চাউর হয়। আমরা হায় হায় বলে আক্ষেপে ফেটে পড়ি। কিন্তু এত দিনেও নারীদের সুন্দর কাজের পরিবেশ কি নিশ্চিত করা গেছে? যায়নি। নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি আইন পাস করে ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে বটে, বাস্তবায়ন হলো কতটা?
দাবদাহ গত ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। তাই বাইরে বেরোলে অবশ্যই ছাতা সঙ্গে রেখো। রোদ-বৃষ্টি দুটোর হাত থেকেই রক্ষা করবে। ভালো থেকো সবাই।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

one × 1 =