অনলাইন ব্যবসায় ভিন্নতা জরুরী

করেছে Tania Akter

অনলাইনে আধুনিক ধাঁচের জুয়েলারি নিয়ে কাজ করছেন তরুণ উদ্যোক্তা মুমু তাবাচ্ছুম। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অর্জিত জ্ঞান নিয়ে বাস্তবে কাজ করছেন।  ভার্চুয়াল জগতেও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে মন জয় করেছেন অসংখ্য গ্রাহকের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তানিয়া আক্তার

 

উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছের শুরুটা বলুন

মুমু তাবাচ্ছুম: শৈশব কেটেছে ময়মনসিংহে। কৈশোরে পা দিয়েই পরিবারসহ থাকছি নগরীর উত্তরাতে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিউপি) থেকে বিবিএ (সাধারণ) নিয়ে স্নাতক শেষ করেছি মাসখানেক হলো। উদোক্তা হওয়ার ইচ্ছেটা স্নাতকে পড়ার সময়ই তৈরি হয়। এর পেছনে বিবিএ নিয়ে পড়ার ভূমিকাটাই বেশি ছিলো। কারণ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছি বিজ্ঞান বিভাগে। কিন্তু স্নাতকে ব্যবসায় শিক্ষার প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়। আগ্রহ আর পরিবেশ যখন অনুকূলে থাকায় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নটা তৈরি হয়।

 

 

 

শাড়িতে ঝলমলে মুমু তাবাচ্ছুম

 প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অর্জিত জ্ঞান কী উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য জরুরী?

মুমু তাবাচ্ছুম: উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অর্জিত জ্ঞান জরুরী না। তবে শুধু প্র্যাকটিক্যাল নলেজ নিয়ে ব্যবসা করার চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা সাথে থাকলে কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। এখন তো ইউটিউবেও অনেক কনন্টেন্ট রয়েছে। এছাড়াও অনেক আর্টিকেল থেকেও অনেক শেখা যায়।

উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অর্জিত জ্ঞান কিভাবে কাজে লাগতে পারে?

মুমু তাবাচ্ছুম: বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের শিখানো হতো যে একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে হলে প্রথমে একটা কমপেটেটিভ অ্যাডভান্টেজ দরকার হয়। শুধু ব্যবসার জন্যই না দক্ষতা ও অর্জনের ভিত্তিতে ব্যক্তিকেও এটা দিয়ে বিচার করা যায়। এই বিষয়টি ভালোভাবে জানার কারণে নিজেকে এই পেশায় কিভাবে উপস্থাপন করবো সে বিষয়ে একটা ধারণা পেয়েছি। তখন ভাবলাম যে আমাকে যদি কোন করপোরেশন নেয় তাহলে অন্যদের থেকে আমার ভিন্নতাটা কোথায়? তখন অনলাইন ব্লুমিং চলছে। সময় নষ্ট না করে স্নাতক প্রথম বর্ষের মাঝামাঝি সময় থেকেই এই উদ্যোক্তার যাত্রা শুরু করে দিয়ে।

’রে বাই লাইজু’ এর গয়না

 

তারপর নিজের কাজকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে স্নাতক শেষ হতে না হতেই ৩০ হাজারের মতো সদস্যের দীর্ঘ পরিবারের সাথে যুক্ত থাকতে পারেছি। আমার কাজের ভিন্নতাই আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আর এই গুণগুলো আমি পেয়েছি আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর এর অনবদ্য পরিবেশ থেকে।

 

এই পথচলার শুরু কোন কাজটি দিয়ে?

মুমু তাবাচ্ছুম: আমার প্রথম অনলাইন কাজ শুরু হয় ‘ইন  মাই রুম’ দিয়ে। তবে একা নয় সাথে আরও দুই থেকে তিনজন মিলে এই পেইজ শুরু করি। সেটা একবছরের মতো ছিলো। এছাড়া মার্চেন্ডাইজারের ব্যবসাও ছিলো। স্নাতক প্রথম বর্ষের মাঝামাঝি সময় থেকেই যেহেতু এই উদ্যোক্তার যাত্রা শুরু করেছি তাই দ্বিতীয় বর্ষের মাঝামাঝিতে একা কিছু করার ইচ্ছে জাগে। ‘রে বাই লাইজু’ দিয়ে আমার একার কাজ শুরু। আধুনিক ধাঁচের জুয়েলারির পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে বিশ্বস্ততা অর্জন করার পর মানুষের মুখে মুখে আমার পেইজের সুনাম বয়ে বেড়ায়। কারণ মানুষ যখন বুঝতে পারে এই পেইজের প্রোডাক্টের কোয়ালিটি ভালো তখন অন্যদের কাছে এর প্রশংসা করে। এভাবেই  গ্রাহকের একটি বিশাল পরিবার তৈরি হয়েছে।

স্নিগ্ধ সাজে মুমু তাবাচ্ছুম

 

 

রে বাই লাইজু নামকরনের বিষয়ে বলুন?

মুমু তাবাচ্ছুম: এই উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলেন আমার মা। আমার মায়ের নাম উম্মে লাইজু। তিনিও একজন উদ্যোক্তা। তার নামেই আমার এই উদ্যোক্তা জীবনের যাত্রা শুরু। আমার বাবা সরকারি চাকুরীজীবি। তাই তিনি প্রথমে না বুঝতে পারলেও পরে ভালো লাগতে শুরু করেছে। এখন আমার কাজের অবস্থান দেখে তারা বেশ আনন্দিত।

কাজ করতে গিয়ে কোন ধরণের বাধার সমুক্ষিন হতে হচ্ছে?

মুমু তাবাচ্ছুম:  রে বাই লাইজু’ দিয়ে কাজ শুরুর প্রথম দিকে কঠিন ছিল। কারণ অনেক অর্থের বিনিয়োগের দরকার ছিলো। আর পুরো বিনিয়োগ একা করতে হয়েছে। এটা আসলেই বেশ কঠিন। দায়িত্বের জায়গাটাতেও একা সামলাতে হয়েছে। প্রথম আমি নিজেই সব কাজ করতাম। এখন কর্মী নিয়োগ করেছি। বিশেষ করে নারীদের সুযোগ দিয়েছি। অর্থ বিনিয়োগের বাইরেও এই অনলাইন ব্যবসায় আরেকটা বাধা হলো গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করা। শুরুতে কেউ বিশ্বাস করতে চাইতো না।

’রে বাই লাইজু’ এর গয়না

 

তাই পুরোপুরি ক্যাশ অন ডেলিভারি দিতে হতো। অনেক সময়   গ্রাহকদের কাছ থেকে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কারণ আমার পণ্যগুলো চায়না বেজড। আর এমন অনেকেই একই ধরণের ব্যবসা করছে।  তাই এই ভীড়ের মধ্যে নিজেকে আলাদা করতে পারা একটা বড় বাধা ছিলো। যেহেতু বিজনেস নিয়ে পড়েছি তাই অনেক থিওরি জানা ছিলো। সেগুলো মেনে বাস্তবজীবনে কাজ করেছি। তাই এই বাধা কাবু করতে পারে। আর গ্রাহকের রুচি অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করতে পারা একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জিং অন্যদিকে আনন্দ পাওয়া যায়। আর এই কাজে আনন্দ পেয়েছি বলেই সমস্যা এলেও সমাধান করে এগিয়ে যাচিছ।

 

’রে বাই লাইজু’ এর গয়না

 

রে বাই লাইজু এর অবস্থান ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান?

মুমু তাবাচ্ছুম: আমার টার্গেট ছিলো যে রে বাই লাইজু ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি হবে। কারণ চায়না বেডজ জুয়েলারির অনলাইন ব্যবসা অনেকেই করছে। সেখানে আমার ভিন্নতাটা যেন থাকে সেভাবেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে প্রথম দিকে ইমর্পোট করতাম। যেহেতু আধুনিক ধাঁচের জুয়েলারি নিয়ে ব্যবসাটি করছি আর এর ট্রেন্ড সারা বিশ্বেই খুব দ্রুত পরিবতন হয়। সেই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে চলছি। অনেক বছরের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায়  কিছু জুয়েলারি নিজের পছন্দমতো ডিজাইনও করিয়ে আনতে পারছি। যা অন্য অনেকেই তা পারছে না।

’রে বাই লাইজু’ এর গয়না

 

 

ফলে আমার পেইজের পণ্যগুলো অন্যদের থেকে বেশ ভিন্ন। এই ভিন্নতা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। এছাড়াও অফলাইনেও নিয়ে আসতে চাই। তবে খুব বেশি ইচ্ছে নেই । কারণ ভবিষ্যতের পৃথিবীতে অফলাইন বিজনেস আরো কমে আসবে। তাই অনলাইনে থাকার ইচ্ছেটাই বেশি। আগামী পাঁচ বছরে এই উদ্যোক্তার জায়গাটিতে নেত্রীস্থানীয় অবস্থানে নিজেকে দেখতে চাই।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ

মুমু তাবাচ্ছুম: রোদসীকেও অনেক ধন্যবাদ

গয়নার ফটোগ্রাফার: মাশিয়াত বিনতে রহমান

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

6 + sixteen =