অফিসে একসঙ্গে

করেছে Rodoshee Magazine

অফিসে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কাজ করলে ব্যক্তিগত জীবনে তার প্রভাব অনেকটাই পড়ে। কীভাবে ব্যক্তিগত জীবন ও অফিসে ব্যালেন্স মেইনটেইন করবে তা জেনে নাও।

স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে অফিসে কাজ করলে বাড়ি এবং অফিসের সম্পর্ক আলাদা রাখো। বাড়িতে তোমরা স্বামী-স্ত্রী কিন্তু অফিসে কলিগ ছাড়া আর কিছু নও। এই কথাটা কখনো ভুলে যাবে না। অফিসের আলোচনা বা মনোমালিন্য অফিসেই ছেড়ে আসো। এ নিয়ে বাড়িতে আর আলোচনা না করলেই ভালো। এতে অশান্তি বাড়বে, কমবে না। আর দুজনের মধ্যে ইগো নিয়ে লড়াইয়ের সম্ভাবনাও অনেকটা কম থাকবে।

অফিসে নিজেদের মধ্যে একটি ফরমাল রিলেশনশিপ বজায় রাখা ভালো। দেখা হলে অবশ্যই কথা বলবে কিন্তু ব্যক্তিগত আলোচনা নয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প বা পারিবারিক আলোচনা বাড়ির জন্যই তুলে রাখো।
স্বামী বা স্ত্রী এবং অন্য কলিগদের সঙ্গে ব্যবহারে যেন কোনো তারতম্য না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর রাখো। কাজের ক্ষেত্রে পার্টনারের কোনো ভুলকে প্রশ্রয় দেবে না। টিফিন আওয়ারে দুজন একসঙ্গে বসে না খেয়ে অন্য কলিগদের সঙ্গে যাওয়াই ভালো। এতে দুজনেই একটু স্পেস পাবে। মাঝে মাঝে আলাদা হয়ে বাড়িতে ফিরো। এতে একঘেয়েমি কিছুটা হলেও কমবে। একসঙ্গে ফিরলেও অফিসের আলোচনা বন্ধ রাখো। দেখবে নিজেদের সম্পর্কের মধুরভাব বজায় থাকবে।

অফিসের কাছে কোনোভাবেই যেন ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছায়া না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর দাও। একসঙ্গে আড্ডা, ফোনে গল্প করা, এসএমএস পাঠানো বা মেইল করার মতো ভুল করলে কলিগদের গসিপে তুমিই ইন্ধন জোগাবে।

অফিসের কোনো জিনিস ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কর্তৃপক্ষকে বা সহকর্মী কেউই ভালো চোখে দেখে না। একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে গেলে কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই জানাও। তাহলে দুজনের একসঙ্গে ছুটি পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কাজ করলে কিছুটা কথা চালাচালি হবেই। তবে সব কথায় কান দেবে না। কিন্তু এই গসিপের কারণে যেন নিজেদের দাম্পত্য জীবনে কোনো প্রভাব না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকো। যতটা সম্ভব এ ধরনের গসিপ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করো। অফিসে যাওয়ার সময় বা ফেরার সময় অফিসের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করে নাও, যাতে অফিসকে বাড়ি পর্যন্ত টেনে নিয়ে না আসতে হয়।

বাড়িতে অফিসের কাজ ও অফিস কলিগদের নিয়ে সব সময় আলোচনা করলে দেখবে একটা সময় পরে নতুন কোনো কথা খুঁজে পাবে না। তখন তোমারই বিরক্ত লাগবে। আবার অফিসের কাজের তুলনা দিয়ে নিজের পার্টনারকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিচার করবে না। এতে অযথা ভুল বোঝাবুঝি বাড়বে। মনে রাখবে নিজের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো থাকলে সব রকম সমস্যার সমাধান সহজেই করতে পারবে।

লেখা: রবিউল কমল

রোদসী/এনপি

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eight + eleven =