অফিস-সম্পর্ক

করেছে Rodoshee Magazine

আমাদের প্রতিদিনকার সময়ের প্রায় অর্ধেকই কাটে কর্মক্ষেত্রে। তাই অফিসে ইতিবাচক পরিবেশ, উচ্চপদস্থ, অধীনস্থ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে অনেক কিছুই। বিস্তারিত লিখেছেন লিহান লিমা।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্টাডিজের মতে, চাকরি পাওয়া, চাকরি ধরে রাখা এবং চাকরিতে পদোন্নতি লাভ করার ক্ষেত্রে ৮৫% নির্ভর করে দক্ষতা এবং অফিসে নিজের আচরণের ওপর। বাকি ১৫% টেকনিক্যাল জ্ঞানের ওপর।

কেন রাখবে ভালো সম্পর্ক?

মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই সামাজিক জীব। আর এর কারণেই কর্মক্ষেত্রে সুন্দর সম্পর্ক আমাদের আরও সুখী এবং উৎপাদনশীল করে তোলে। অ্যারিস্টটল এবং মায়মনিডিসের মতো দার্শনিকেরা অনেক আগেই বন্ধুত্ব এবং সুস্থতার মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ কাজের প্রতি আন্তরিকতার ক্ষেত্রেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যালাপ অর্গানাইজেশনের মতে, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব সাত গুণের বেশি কাজের সঙ্গে আমাদের বন্ধনকে দৃঢ় করে। কাজ তখন উপভোগ্য হয়ে ওঠে, আমরা তখন সৃষ্টিশীল হয়ে উঠি। ভালো সম্পর্ক আমাদের দেয় স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা। সম্পর্কের নেতিবাচক দিকগুলো মোকাবিলায় সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে আমরা আমাদের মেধাকে তখন সুযোগের সন্ধানে কাজে লাগাই। বিশেষ উচ্চপদস্থের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যদি তোমার বস তোমাকে বিশ্বাস না করেন, তিনি অবশ্যই নতুন কোনো দায়িত্বের জন্য তোমাকে ভাববেন না।

ভালো সম্পর্ক মানে কী?

সম্পর্কের কি যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ আছে? কিংবা সম্পর্কের সমীকরণ কী? একে কি দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায়? যায় ওজন করা? উত্তরটা হবে, নিশ্চয়ই না। তবে কিছু দিক তো অবশ্যই আছে যাতে কিনা আমরা বুঝতে পারি অধীনস্থ, উচ্চপদস্থ কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা ভালোই চলছে। যে কোনো সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস, পারস্পরিক সম্মান, মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও খোলাখুলি যোগাযোগ। যখন তুমি সহকর্মীদের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারবে, স্বাধীন এবং সৎভাবে কাজ করতে পারবে। পেছনে কী হচ্ছে, তা নিয়ে তোমার মাথা ঘামাতে হবে না। অন্যদিকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কারণে একে অপরের কাজ ও দক্ষতাকে মূল্যায়ন করার বিষয়টি কর্মপরিবেশকে করবে আন্তরিকতাপূর্ণ।

কীভাবে কর্মক্ষেত্রে ভালো সম্পর্ক রাখবে?

দ্বন্দ্ব, প্রতিযোগিতা ও মতানৈক্যের কর্মপরিবেশে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখাটা চ্যালেঞ্জ বললে ভুল হবে না। সেই সঙ্গে অফিস পলিটিকসের ঝক্কি-ঝামেলা তো আছেই। কিছু বিষয় তো অবশ্যই থাকবে। তবে ভালো সম্পর্কের স্বাদ পেতে হলে সবার আগে নিজকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য অবশ্য হাসিমুখের বিকল্প নেই। প্রাণখোলা হাসিমুখে সম্ভাষণ, অভিনন্দন কিংবা শুভকামনা অনেক নেতিবাচক দিককে দূরে ঠেলে দিতে সক্ষম।

প্রথমেই জানো তোমার সহকর্মীদের। তারা কেমন, কীভাবে এবং তারা কী পছন্দ করে তা জানলে ভবিষ্যতে তুমি হয়ে উঠবে তাদেরই কাছে একজন। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে হওয়া চাই কিছুটা কৌশলীও। সন্ধান করো পারস্পরিক স্বার্থের। যেমন, তোমরা হয়তো একই টিভি শো ভালোবাসো, কেউ পোষা প্রাণী অন্তপ্রাণ, আবার কেউ কোনো একটি ফুটবল দলের ভক্ত, এ রকম অনেক কিছু।

মনে রাখো, কর্মক্ষেত্র শুধু টাকা আয় করার স্থান নয়। বিশ্বাস রাখো এবং বিশ্বাস তৈরি করো, ইতিবাচকভাবে কথা বলো এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করো। এটি অবশ্যই কর্মক্ষেত্রে পরিবেশকে সুন্দর করে তুলবে।

শক্তিশালী সম্পর্কের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্যকে সহায়তা করা। টাইম টু চেঞ্জের ডিরেক্টর শু বেকারের মতে, ‘সহকর্মীকে সহযোগিতা করার জন্য এক্সপার্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই। তার কথা মন দিয়ে শোনা এবং তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় না করানোই যথেষ্ট।’

খেয়াল রাখতে হবে যেসব বিষয়ে

জার্মান মনোবিজ্ঞানী হাইকে স্ট্রুভেলের মতে, ‘শারীরিক বা পারিবারিক সমস্যার কথা সহকর্মীদের সাথে বেশি না বলাই ভালো। এতে অনেকে মনে করতে পারে তুমি সহানুভূতি বা বাড়তি সুবিধা পেতে চাও। তা ছাড়া সমস্যার কথা সুন্দর পরিবেশকে খানিকটা হলেও নষ্ট করে। তাই যতটা সম্ভব হাসিখুশি থাকো। তবে কারও সাহায্যের প্রয়োজন হলে এগিয়ে যেতে দ্বিধা করবে না।’
ভাগাভাগি করো জ্ঞান, কাজ, পছন্দ ও অপছন্দ। থাকো ইতিবাচক। নিজেকে প্রকাশ করো, সামাজিক যোগাযোগ বাড়াও। অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে রেষারেষি-বিদ্বেষ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো বিষয়ে নালিশ দেওয়ার আগে ভাবতে হবে বিষয়টি এমন হয় কি না ‘মা, দেখ না সে আমাকে পছন্দ করে না’। যেন কর্তৃপক্ষ না ভেবে বসে যে পাঁচ বছরের এক বাচ্চা আরেক বাচ্চার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। সততা এবং সহনশীলতা তোমাকে অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

রোদসী/আরএস

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nineteen + five =