আইন

করেছে Sabiha Zaman

উচ্চমাধ্যমিকের পর ইঞ্জিনিয়ারিং-বি কমের মতো গতানুগতিক কোর্স পড়তে মন চাইছে না? আবার পিওর আর্টস নিতেও মন নারাজ? তা হলে বিএ এলএলবি (BALLB) পড়তে পারো। আইন বিশেষজ্ঞ হতে চাইলে এই ডিগ্রি তোমার কাছে হয়ে উঠবে এক ভার্সাটাইল এবং আকর্ষক ক্যারিয়ারের চাবিকাঠি।

প্রয়োজনীয় দক্ষতা

আইনজীবীর প্রধান কাজ হচ্ছে সংবিধানকে (Constitution) ব্যাখ্যা করে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মক্কেলের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান করা। একজন সফল আইনজীবী হতে গেলে চাই সব রকম আইন জানার প্রতি অফুরন্ত কৌতূহল এবং আইনি অসংগতি ধরার ক্ষমতা। তা ছাড়াও অন্যান্য দক্ষতা যেমন সূক্ষ্মভাবে কমিউনিকেট করার ক্ষমতা (মৌখিক এবং লিখিত), বিস্তৃত গবেষণা করার ক্ষমতা ইত্যাদি। আর চাই প্রচুর পরিমাণে ‘Logical reasoning’-এর ক্ষমতা।

একজন আইনজীবী হিসেবে তোমায় নানা প্রকার তথ্যকে নিরপেক্ষভাবে বিচার করে একটা যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তে আসতে হবে। তুমি যদি চটপটে ও সপ্রতিভ হও এবং দ্বিধাহীনভাবে, যুক্তির সঙ্গে নিজের মতামত পেশ করতে সক্ষম হও তাহলে তোমায় আটকায় কে!

কাজের ধরন

এই পেশা কিন্তু শুধু ওকালতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন কিন্তু পেশা হিসেবে বেশ বিস্তীর্ণ এবং বিচিত্র। তোমার পছন্দ এবং সহজাত প্রতিভা অনুযায়ী লিটিগেশন (আদালতে মামলা-মোকদ্দমা লড়া) থেকে আরম্ভ করে কোনো বেসরকারি সংস্থায় ল অফিসারের পদে নিয়োজিত হওয়া, একবার  ঠিকমতো পস করে বেরোতে পারলে অপশনের শেষ নেই বস! তবে কোন চাকরিতে যাবে, সে অনুযায়ী লেখাপড়া চালাতে হবে।

ক্রিমিনাল  ল                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                             

এ ধরনের আইনজীবীরা সাধারণত নানা ধরনের ব্যক্তি এবং সংস্থাআআর যাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিন্যাল চার্জ আনা হয়েছে তাদের হয়ে কেস লড়েন। ক্রিমিনাল আইনজীবীদের প্রত্যেকটা কেস নিখুঁতভাবে তদন্ত করতে হয়, অভিযুক্ত এবং সাক্ষীদের সাক্ষাৎকার নিতে হয়। কেস জড়িত সমস্ত আইন তন্নতন্ন করে ঘেঁটে মক্কেলের জন্য একটা যুক্তিসম্মত কেস আগাগোড়া গোছাতে হয়।

বিজনেস ল বা ব্যবসাসংক্রান্ত আইন

এ ধরনের আইনজীবীরা সাধারণত লেনদেনসংক্রান্ত আইন (Transaction law), মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন আইন ইত্যাদি সংক্রান্ত আইন নিয়ে কাজ করে।

ফ্যামিলি ল

সব পারিবারিক এবং সাংসারিক বিষয়সংক্রান্ত কেস লড়তে হয় এ ধরনের আইনজীবীদের। সাধারণত ডিভোর্স, সন্তানের কাস্টডি, ডাউরি সংক্রান্ত কেস, বধূ নির্যাতন, ইত্যাদি বিষয়ক কেস এ ধরনের আইনজীবীদের আওতায় আসে।

ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট

এদের ছাড়া তাবড় তাবড় বিজ্ঞানী দিশেহারা হয়ে যেতেন! এ ধরনের আইনজীবীরা নানা ধরনের বিজ্ঞানীদের তাদের আবিষ্কারকে আইনের দ্বারা রক্ষা করে, যাতে সম্মতি ছাড়া কেউ ব্যবহার না করতে পারে।

কাজের সুযোগ

ল ফার্ম

এটি নিঃসন্দেহে আইন স্নাতকদের কাছে সবচেয়ে লোভনীয় পেশার মধ্যে অন্যতম। স্নাতকেরা বিভিন্ন ল ফার্মে অ্যাসোসিয়েট হয়ে ঢুকতে পার। দক্ষতা এবং অধ্যবসায় থাকলে তোমার ফার্মের অংশীদারও হতে পারবে। কপালে থাকলে সব বড় বড় ল ফার্ম, যেমন Cyril Amardes & Mangalchand, Luthra & Luthra, AZB & Partnees , ইত্যাদিতে কাজ পেতে পার। সাধারণত স্নাতকেরা এই সব ফার্মে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেয়। ইন্টার্ন হিসেবে উত্তীর্ণ হতে পারলে অ্যাসোসিয়েট হিসেবে জয়েন করতে পারবে। একেকটা ফার্মে অনেকগুলো আইনজীবী অ্যাসোসিয়েট হয়। ফার্মের নানা আইনজীবীরা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে আইনি পরামর্শ দেন।

স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিসেস

যদি সরকারি চাকরি চাও, তাহলে এই পেশা তোমার জন্য আদর্শ। তা হলে তোমাকে জুডিশিয়াল সার্ভিসেস এগজামিনেশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই পরীক্ষা দিতে গেলে LLB ডিগ্রি আবশ্যক। পরীক্ষার্থীর বয়স হতে হবে ২১-৩৫-এর মধ্যে।

লিটিগেশন বা ওকালতি

এই পেশা অধিকাংশ আইন স্নাতকের কাছে সত্যিই খুব জনপ্রিয়। ক্যারিয়ারের গোড়ার দিকে অবশ্য পেশাজনিত সব খুঁটিনাটি শেখার জন্য একজন সিনিয়র আইনজীবী বা কাউন্সেলরের অধীনে বেশ কিছু বছর কাজ করতে হবে তোমায়। কোর্টে ওকালতি করতে গেলে বার এগজামিনেশনেও উত্তীর্ণ হতে হবে। লিটিগেশনকে পেশা হিসেবে বেছে নিলে সরকারি অথবা বেসরকারি দুই সংস্থাতেই কাজের অভাব হবে না, বিশেষ করে তোমার যদি সিভিল ল প্র্যাকটিসে অভিজ্ঞতা থাকে।

ভালো হয় যদি তুমি কোনো একটি ক্ষেত্র, যেমন ট্যাক্সেশন, সংবিধান, লেবর, বা পরিবারসংক্রান্ত আইন, যেকোনো একটিতে পারদর্শী হয়ে উঠতে পার। এ ছাড়াও ক্রিমিন্যাল কেসেও স্পেশালাইজ করতে পারো লিটিগেটর হিসেবে।

করপোরেট কাউন্সেল

এটিও অনেকের কাছে পেশা হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ পেশায় আসতে গেলে ব্যবসাজনিত আইন নখদর্পণে থাকতেই হবে। এ ধরনের আইনজীবীরা সাধারণত নানান বেসরকারি সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয়ে আইনি সহায়তা করে, নানা রকম ব্যবসায়িক চুক্তির (Contracts) মধ্য দিয়ে। এ ছাড়াও কোম্পানির তরফ থেকে সব আইনি বিবাদও তোমাকেই লড়তে হবে সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে। করপোরেট কাউন্সেল হিসেবে তুমি নানা রকম বেসরকারি সংস্থা, নানা ধরনের মাল্টিন্যাশনাল করপোরেশন, ব্যাংকের আইন দপ্তরে অনায়াসেই চাকরি পেতে পার।

লিগ্যাল প্রসেস আউটসোর্সিং

ল গ্র্যাজুয়েটের কাছে LPO (লিগ্যাল প্রসেস আউটসোর্সিং) কাজও একটা ভালো অপশন হয়ে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ল ফার্ম আছে যারা নানা কারণের জন্য ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশে অবস্থিত LPO গুলোর কাছে অনেক জরুরি আইনি কাজ অর্পণ করে।

LPO-এর কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নানা কেসের খসড়া বানানো, নানা প্রকারের আইনি গবেষণা করা ইত্যাদি কাজের দায়িত্ব নিতে হয়। যারা এই পেশায় আসতে চাও, তারা নানা LPO যেমন Pangea3, CPA Global, ইত্যাদি সংস্থায় কাজ পেতে পারো।

বেতন

তোমার কেমন পসার হবে, তা নির্ভর করছে তোমার আইনের জ্ঞান ও ব্যাখ্যার ক্ষমতার ওপর। তা ছাড়াও কোন ল কলেজ থেকে স্নাতক হয়েছ সেটাও খুব জরুরি। সাধারণত বেশির ভাগ কোম্পানি এবং ল ফার্ম নামজাদা কলেজ থেকেই কর্মচারী নিয়োগ করতে চায়। ল ফার্ম সাধারণত ৭ লাখ থেকে ১৫ লাখ বেতন দেয়। নানা ধরনের সংস্থা (তাদের আইনি দপ্তরে কাজের জন্য) ৩ থেকে ১৩ লাখ টাকা বেতন দেয়।

তবে বেসরকারি সংস্থায় কী রকম মাইনে পাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে কোন কলেজ বা ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করেছ এবং অবশ্যই তোমার রেজাল্ট, ইন্টার্নশিপ অভিজ্ঞতা, এসব কিছুর ওপর। LPO বেতন দেয় ২.২-৫ লাখ টাকা। লিটিগেশন ২.২-৩ লাখ টাকা বেতন দেয়। স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিসেস মনোনীত হলেও বেশ ভালো বেতনই পাবে।

লেখা : রোদসী ডেস্ক

 

 

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

one × one =