আসক্তিময় আবেগ

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

এডিকশান বা আসক্তি কথাটি বলতেই আমরা বুঝি এমন একটি শব্দ যা মাদক বা অ্যালকোহলের নির্ভরতার সাথে যুক্ত। এটি খাওয়া, জুয়া এমনকি যৌনতার সাথেও যুক্ত হতে পারে। কিন্তু আরো এক ধরনের আসক্তি আছে যা একেবারেই অভ্যন্তরীণ; আর তা হল মানসিক আসক্তি। আমাদের জীবনে আবেগের উত্থান-পতন ঘটে। কিন্তু কখনও কখনও এই আবেগের ঢেউ এমনভাবে উপস্থাপিত হয় যা জীবনে বিপদরুপে ধরা দেয়।

আবেগ কি? একে কোন সংজ্ঞায়নে আবদ্ধ করা কঠিন। আবেগকে অনেকে অনুভূতির সমার্থক হিসেবে ধরে নেয়। যদিও অনুভূতির শারিরীক ও মানসিক দু দিকই আছে। আবেগ মূলত মানসিক। মনোবিজ্ঞানের সংজ্ঞায়, আবেগ মানব মস্তিষ্কের একধরনের সংকেত পদ্ধতি। রাগ,ভয়, হিংসা,আনন্দ  এসব দিয়ে মনের বিশেষ অবস্থাকে বুঝানোই হল আবেগ। এটি মানব জীবনের এক প্রয়োজনীয় দিক। আবেগ কাজের পিছনে শক্তি যোগায়, আচরনের ধরন ও প্রকৃতি নিয়ন্ত্রন করে। কিন্তু এই আবেগ যখন আসক্তিতে রূপ নেয় তখনই এর চিত্র ভিন্ন হয়ে যায়। এই ধরনের মানসিক আসক্তি মাদক বা অ্যালকোহলের আসক্তির চেয়ে আলাদা। যাদের মধ্যে এই অবস্থার সৃষ্টি হয় তাদের মনে হতে পারে যেন তারা তাদের অনুভূতির করুণায় বেঁচে থাকে এবং তখনই কিছু আচরনগত  প্রতিক্রিয়া দেখা যায়-

-অবিবেচনাপুর্ন সিদ্ধান্ত

-অনুপযুক্ত আচরন

-ত্রুটিপূর্ন স্ব-ব্যবস্থাপনা বা পরিকল্পনা

-সম্পর্কের ভঙ্গুরতা

-স্ট্রেস কমানোর জন্য ড্রাগ এবং অ্যালকোহলের উপর নির্ভরতা

সমাধানের উপায়ঃ

মানসিক আসক্তি ভাঙ্গার উপায় হল নিজ আবেগ সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রন তৈরি করা। মানসিক স্থিতিস্থাপকতা অর্জন এবং মানসিক আসক্তি ভাঙ্গার কিছু পদ্ধতি আছে-

-প্রথমত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে হবে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখ, ইচ্ছার প্রাধান্য দাও। এতে বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ার মাত্রা কমে আসবে।

-নিজ সংবেদনশীল অভ্যাস গুলো সনাক্ত করতে হবে। দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো সময়ে নিজেকে পর্যবেক্ষন করতে হবে এবং সবকিছুর উপর নিজের রিয়্যাকশনের প্যাটার্ন গুলো দেখতে হবে। একবার যদি এই আবেগপ্রবনতার কারনগুলো চিনতে পারা যায়, তবে খুব সহজেই তা নিয়ন্ত্রন করে  সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

-লক্ষ্য থাকতে হবে পরিবর্তিত আচরন মোকাবেলার জন্য নিজেকে তৈরি করা। যখনই কোন পরিস্থিতি তোমাকে পরাভূত করতে শুরু করে, উত্তেজিত না হয়ে নিজেকে শান্ত করার জন্য সময় দাও। চেষ্টা করতে হবে শরীর ও পেশীকে শিথিল রাখার জন্য। শরীর রিলাক্স হলে অনুভুতিতেও কিছুটা লাগাম আসবে।

-মাথায় নেগেটিভিটি না রেখে ইতিবাচক কার্যকলাপের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। এটা হতে পারে টিভি দেখা, পছন্দের গান শোনা, ব্যায়াম বা ক্রসওয়ার্ড পাজল খেলা।

-সবচাইতে বড় ব্যাপার হল ক্ষতিকর মানুষগুলোর সংস্পর্শ থেকে সরে আসতে হবে। দুষ্ট গরুর থেকে শুন্য গোয়াল ভালো। এতে মানসিকভাবে নিজে সুস্থ থাকা যাবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

18 − 3 =