ঈদের চাঁদ সঙ্গে মেহেদি সাজ

করেছে Sabiha Zaman

ঈদসাজের প্রধান অনুষঙ্গ হলো মেহেদি। চাঁদরাতে পড়ে যায় মেহেদি পরার ধুম। ছোট-বড় সবাই হাতে হাতে আঁকে আকর্ষণীয় নকশা। ঈদসাজে মেহেদি কীভাবে আরও চমৎকার করা যায়, তা নিয়ে লিখেছেন সুরাইয়া নাজনীন

কিশোরীদের জন্য মেহেদির নকশা হতে পারে ভরাট। পাশাপাশি চিকন রেখা টেনে মেহেদি দেওয়াটাও এখন নতুন ট্রেন্ড। হাতের উল্টো দিকেও গর্জিয়াস নকশায় ফুটে উঠতে পারে উৎসবের আমেজ।

আবার অনেকেই পছন্দ করে না হাতভর্তি মেহেদি। তারা হালকা কিংবা খুব সাধারণ নকশা করতে পারো। আর যারা ঈদে লম্বা হাতার পোশাক পরবে, তাদের কনুই পর্যন্ত মেহেদি না পরাই ভালো। কালো মেহেদি হাতের তালুতে না দিয়ে ওপরে দিতে পারো। কালো মেহেদির জ্যামিতিক নকশাই বেশি মানানসই লাগে।

আর লাল মেহেদির ক্ষেত্রে ফুলেল নকশাও চলছে। অনেকে আবার পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে মেহেদির নকশা করে থাকে। যেমন পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে কালো মেহেদি বেশি মানায়। আর শাড়ি অথবা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মানানসই নকশা হতে পারে লতাপাতা, ফুল বা কলকা। বললেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন।

আফরোজা পারভীন আরও বলেন, এবার দুধরনের নকশার চল থাকবে। ছোট ছোট মোটিফে একটু হালকা নকশা যেমন চলবে, তেমনি অনেকে দুহাত ভরে ঘন করেও মেহেদি লাগাবে। সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যাবে হালকা নকশার মেহেদি। নখ বাদে নখের চারপাশে গোল নকশায় লাগানো হচ্ছে মেহেদি। হাতের তালুতে থাকছে ছোট ছোট মোটিফের নকশা। পুরো হাত ভরে মেহেদি লাগাতে চাইলে আবার নকশার ধরন ভিন্ন হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে তিন ধরনের মোটিফের কথা বললেন তিনি ময়ূর, কলকা ও ফুলেল। পছন্দমতো একটি মোটিফ মাথায় রেখে পুরো হাত সাজানো যায়। তবে এই তিন রকম মোটিফ একসঙ্গে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি।

যাদের অ্যালার্জি কিংবা স্কিনের সমস্যা আছে, তাদের মেহেদি ব্যবহারে সচেতন থাকতে হবে। আগে হাতে অল্প করে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিতে পারো। যদি সমস্যা হয়, তাদের জন্য গাছের মেহেদি ভালো হবে। কেমিক্যালযুক্ত মেহেদির সচেতনতার ব্যাপারে হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রার রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা বলেন, ‘যে মেহেদি অল্প সময়ে রং হয়, এতে অনেক বেশি কেমিক্যাল দেওয়া থাকে। এটা যদি খাবারের সঙ্গে পেটে চলে যায়, তাহলে সরাসরি কিডনিতে খারাপ প্রভাব পড়বে। তাই আমি মনে করি, একটু সময় বের করে গাছের সতেজ মেহেদি লাগানোই ভালো হবে।

সহজ উপায়ে ঘরে বসেই এই মেহেদির কোন তৈরি করা যায়। প্রথমে মেহেদি পাতা বাটতে হবে। তবে মিহি হওয়া চাই। বাটা মেহেদি চায়ের ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। ছেঁকে নিয়ে মেহেদির রং গাঢ় করার জন্য খয়ের মেশাতে পারো।

এবার বাটার পেপারকে সুন্দর করে কোন বানিয়ে নিতে হবে। আর সামনে একটি ছোট্ট ছিদ্র করতে হবে। কোনটি টেপ দিয়ে ভালোমতো চারপাশ আটকে ফেলো। পেছনের দিকটা খোলা রাখতে হবে। মেহেদি ঢালতে হবে কোনটিতে। পেছনের অংশটুকু এবার ভালোমতো আটকে ফেলো। এভাবে কোন বানিয়ে রাসায়নিকমুক্ত মেহেদি লাগাতে পারো। এতে সাস্থ্যঝঁকি কমে যাবে। মেহেদি শুকিয়ে গেলে রং গাঢ় করার জন্য সরিষার তেল দেওয়া যেতে পারে।’

টিপস

  • মেহেদি দেওয়ার পর অনেকে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে থাকে, যা কখনোই করবে না। সাবানের ক্ষারীয় উপাদান মেহেদির রং ফিকে করে দেয়।
  • মেহেদি দেওয়ার আগে ওঅ্যাক্সিং করাবে না। ওঅ্যাক্সিং করার ফলে তোমার ত্বক মসৃণ হয়ে যায়। ফলে মেহেদি রং ভালোভাবে বসে না এবং রং গাঢ় হয় না।
  • মেহেদি দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই হাত ধুয়ে ফেলবে না। কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা মেহেদি হাতে রাখার চেষ্টা করো। সম্ভব হলে রাতে মেহেদি দিয়ে পরের দিন সকালে তা তুলে ফেলো। গোসলের কাজটা মেহেদি দেওয়ার পূর্বে শেষ করে ফেলো। মনে রাখবে, মেহেদি যত বেশি সময় হাতে রাখবে, তত বেশি গাঢ় রং হবে।
  • চিনি, লেবুর পানি মেহেদির রং গাঢ় করে। কিন্তু খুব বেশি ব্যবহারে মেহেদি খয়েরি রং হয়ে যায়, যা দেখতে একদমই ভালো না।
  • মেহেদি শুকানোর জন্য কখনোই হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবে না। এতে তোমার ডিজাইন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রাকৃতিকভাবে মেহেদি শুকাতে দাও। প্রয়োজন হলে ফ্যান ব্যবহার করতে পারো মেহেদি শুকানোর জন্য।
  • লেবুতে যাদের অ্যালার্জি, তারা অনেক সময় সরিষার তেল ব্যবহার করে মেহেদি রং গাঢ় করার জন্য। তেল ব্যবহারে হাতের শুষ্কতা অনেকটাই কমে যায়। তবে তেল ব্যবহারের আগে এর মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেবে।

ছবি : ইন্টারনেট

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

sixteen + fifteen =