ঈদ আসে আমাদের সব অতৃপ্তি মিলিয়ে দিতে

করেছে Rodoshee

রোজকার জীবনে নানান অশান্তির বেড়াজাল। এত এত দুঃসংবাদ, বিষাদ আর অপ্রাপ্তির মধ্যেও আমরা আনন্দ খুঁজে ফিরি। প্রায়ই হাঁপিয়ে উঠে ভাবি, এর কি কোনো শেষ নেই! আসলে জীবন তো এমনই, সুখ-দুঃখ মিলেমিশে। তবু কোথায় যেন একটা ক্লান্তি থেকেই যায়। যেখানে আমাদের জন্ম, আমাদের শিকড়, সেই প্রিয় জায়গা, রেখে আসা এত এত প্রিয় মুখ দেখতে প্রাণ কেবলি আকুলিবিকুলি করে। ইচ্ছে করে ফেলে আসা শৈশব-কৈশোর আর যৌবনের স্মৃতিতে আবারও শাণ দিতে! কিন্তু ব্যস্ত জীবনে মোক্ষম সময় আর মেলে না।

ঈদ আসে আমাদের সব অতৃপ্তি মিলিয়ে দিতে। ঈদ আসে আনন্দ আর খুশির বার্তা নিয়ে। এ উপলক্ষে শত ব্যস্ততার মধ্যেও আমরা একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার ফুরসত পাই। যে পরিজনের সঙ্গে নাশতার টেবিলেও ঠিকঠাক দেখা হয়ে ওঠে না, ঈদ উপলক্ষে তাকে কদিন কাছে পাওয়া হয়। কেউ কেউ তো আরেক কাঠি সরস, সোজা ব্যাগ গুছিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুই স্তরের পথ ধরে। সামর্থ্যে না কুলালেও গ্রামের বাড়ি যেতে মিস করেন না প্রায় কেউই। আনন্দ উপভোগের এমন উপলক্ষ কি আর বারবার আসে! মোটকথা, ঈদ এলে মজা-মাস্তির ভরপুর আয়োজন থাকে সারাবেলা। যেন পরিপূর্ণ জীবনের প্রতিচ্ছবি!
নিশ্চয় ভাবছো ঈদসংখ্যার সম্পাদকীয় লিখতে বসে পরিবার নিয়ে হঠাৎ এত কথা বলছি কেন? কারণ তো নিশ্চয় আছে। কদিন ধরে টিভির পর্দায়, পত্রিকার পাতায় নিয়মিত ধর্ষণের খবর দেখে দেখে ক্লান্তি ভর করেছে। এ কোন সমাজে, কোন সময়ে আমরা আছি? চার বছরের বাচ্চা, মানসিক প্রতিবন্ধী, ছাত্রী কেউই বাদ যাচ্ছে না। ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না এরা, মাথা ন্যাড়া করে দিচ্ছে রোষ মেটাতে। ধর্ষণের পেছনে নারীর পোশাককে যারা বাড়াবাড়ি মানেন, তাদের বলতে ইচ্ছে করে ছোট্ট বাচ্চাটির পোশাকেও কোনো অন্যায় ছিল? আসলে পোশাক কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা আমাদের মানসিকতায়।
যৌনতা কোনো অন্যায় নয়। বরং বিষম দরকারি। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, কার সঙ্গে এবং কীভাবে সেটি করা যাবে। চর দখলের মতো নারীর শরীর দখল মূর্খতার শামিল। এটি মস্ত বড় বর্বরতাও। নারী তার শরীর কাকে দেবে আর কাকে দেবে না, সেটি তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এমনকি স্বামীও এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখেন না। আমার মনে হয়, এই শিক্ষাগুলো পরিবারই মানুষকে সবচেয়ে ভালো দিতে পারে। তাই প্লিজ, তোমার সন্তানটির খবর রাখো। সে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে। পকেট খরচের নামে যে টাকাগুলো তুমি তাকে দিচ্ছো সেটা কীভাবে কোন রাস্তায় খরচ করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। একবার ভেবে দেখো তো টিভির পর্দায়, পত্রিকার পাতায় যে ধর্ষণের খবরগুলো প্রকাশিত হয়, সেগুলোর কোনোটি যদি তোমার সন্তান কিংবা কাছের কেউ হয় তখন কেমন লাগবে? এমন যেন না হয় লোকে তোমার দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলে বসে, ‘ওই যে ধর্ষকের বাবা- মা যাচ্ছে!’
কোরবানির ঈদের শুরু ত্যাগের দীক্ষা থেকে। এই ত্যাগকে আমাদের জীবনে লালন করতে পারলেই সব ঝুট-ঝামেলা চুকে যাবে। পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র সবই ছবির মতো সুন্দর হবে। তখন প্রতিদিনই হবে ঈদ! সেই সুদিনের প্রত্যাশায় থাকলাম।
জীবন মঙ্গলময় হোক। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

three × five =