উদ্যোক্তা হবে নাকি চাকরি করবে?

করেছে Rodoshee Magazine

চাকরি নাকি ব্যবসা? জীবনের চাকা কোন দিকে ঘুরবে বেশি? এই সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হয়। আগের দিনে মনে করা হতো শিক্ষা কম থাকলেই সে ব্যবসা করবে, কিন্তু এখন এর চিত্র ভিন্ন। লেখাপড়া শেষ করে নিজের মেধা, মনন, চিন্তাচেতনা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হচ্ছে। নিশ্চয়ই এর ভবিষ্যৎ ভালো, তা ছাড়া কেন ঝুঁকছে এই কাতারে। তাহলে প্রশ্ন চাকরিজীবীরা কি ভালো নেই? হ্যাঁ, এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা এবং সফল চাকরিজীবী। লিখেছেন সুরাইয়া নাজনীন।

পেশা নির্বাচন জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত। এখানে তুমি কোনটা বেছে নেবে তা তোমার চাওয়া-পাওয়া, ভালো লাগা, ব্যক্তিত্ব সবকিছুর সমন্বয়ে বাস্তবায়ন হবে। এখন ছোটবেলা থেকে তুমি সৃজনশীল হয়ে গড়ে উঠেছ কিন্তু তুমি সেটা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছো না, সে ক্ষেত্রে তুমি উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই পারো।
পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনটা বিবেচ্য বিষয়? এই প্রশ্নে কর্মজীবী নারী সাবিরা ইসলামের মতামত নেওয়া হলে তিনি বলেন, সময়টা এখন প্রযুক্তিনির্ভর। চলমান বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশও এগোচ্ছে। যে কারণে প্রযুক্তি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এটি যারা চাকরি দেন তাদের পছন্দ বা চাহিদার বিষয়। অন্যদিকে আমাদের দেশে নিজের পছন্দে পেশা বেছে নেওয়ার সুযোগ কম। নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ছাড়া যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী এগুলো ছাড়া অন্য অনেক পাঠ্যবিষয় রয়েছে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে শিক্ষিত করে তুলছে কিন্তু সে-ই বিষয়সংশ্লিষ্ট পেশায় যুক্ত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ রকম উদাহরণ আমাদের দেশে ভূরি ভূরি রয়েছে। তবে বিষয়সংশ্লিষ্ট পেশায় একেবারে যে কেউ যুক্ত হচ্ছে না তা নয়। পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সম্মানী, পদ ও পজিশন, কাজের ধরন, বাসা এবং কর্মক্ষেত্রের মধ্যে দূরত্বএগুলো বিবেচনায় রাখা জরুরি। অন্যথায় কাজে যোগ দেওয়ার পর অসন্তুষ্টি এবং অসন্তোষ বৃদ্ধি পেতেই থাকবে এবং তা ক্যারিয়ার গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সব ভাবনা কাটিয়ে সিদ্ধান্ত কোনটি উদোক্তা নাকি চাকরিজীবী, তোমার দৃষ্টিতে কী মনে হয়? তিনি বলেন, নিজে থেকে কিছু করতে পারার বিকল্প আনন্দ আর কিছুতে তো নেই। যে শ্রম, সময়, মেধা অন্যকে দেওয়া হচ্ছে তা যদি নিজের নিজস্ব কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা যায়, তবে তা নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি আরও অনেকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দিতে পারে। তবে এর সঙ্গে অর্থনৈতিক বিনিয়োগটাও যেহেতু উদ্যোক্তাকেই করতে হয়, তাই অনেকেই এগোন না। নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্য সরকার নতুন উদ্যোক্তাদের বিশেষ কিছু সুবিধা দিচ্ছে। আজকাল অনেক ব্যাংক নামমাত্র সুদে লোনও দিচ্ছে। সেগুলো গ্রহণ করে যে কেউ উদ্যোক্তা হতে পারে। তবে সবাই উদ্যোক্তা হবে, সবাই চাকরি করবে এমনও নয়। দুটি ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ রয়েছে। যার ক্ষেত্রে যেটা সুবিধাজনক সেটাই বেছে নেওয়া উচিত।
চাকরিজীবী হিসেবে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পায় তোমার কাছে? এ বিষয়ে সাবিরা বলেন, প্রথমত পদ এবং সম্মানী। দ্বিতীয়ত পরিবেশ। হোক একটি ছোট পদ। কিন্তু সেখানে যদি নিজের মেধা, সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ থাকে, তবে তা মানসিক প্রশান্তি তৈরি করবে এবং উদ্যমী হতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে সম্মানীর বিষয়টিও ভাবতে হবে। কারণ পছন্দের পদ পেলাম, নিজেকে প্রকাশেরও সুযোগ পেলাম অথচ সন্তোষজনক সম্মানী নেই। সে ক্ষেত্রে আত্ম-অসন্তুষ্টি সব ধরনের সক্ষমতাকে বিনষ্ট করবে। আবার কাজের পরিবেশ যদি পছন্দ না হয় তবে যত ভালো পদ, ভালো সম্মানীই হোক না কেন কাজ করার আগ্রহ রক্ষা করা যাবে না। সুতরাং তিনটি বিষয়ে মোটামুটি একটি সমন্বয় হলেই কেবল কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া উচিত।
যদি পছন্দ চাকরি হয় তাহলে কেন? তিনি বলেন, ‘পেশা হিসেবে চাকরির কিছু সুবিধা তো রয়েছেই। যেমন নির্দিষ্ট কাজের বাইরে নিজেকে অনেক দায় থেকে মুক্ত রাখা যায় যেটা উদ্যোক্তা হলে এড়ানোর উপায় নেই। একজন উদ্যোক্তাকে অনেক কিছু মাথায় রেখে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয়। চাকরিতে কোনো রকম মাস শেষ হলেই নগদ অর্থপ্রাপ্তি। উদ্যোক্তা হলে সেটা সম্ভব নয়। একজন উদ্যোক্তাকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কঠিন লড়াই করতে হয়। এরপর এর থেকে আয় করার বিষয়ে ভাবতে হয়।’

অনেকে ভাবেন, কারও অধীনে কাজ করার চেয়ে নিজেরাই নিজেদের পছন্দমতো কাজ তৈরি করে নেওয়াটা সর্বোত্তম। কারণ, এ ধরনের কাজ মূলত ব্যক্তির ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা এবং জীবনের লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে কথা হলো স্টেপ ওয়ান গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং এডিটর এবং ওমেন্স এন্ট্রাপ্রেনিউর অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট নাজমা মাসুদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার প্রধান শর্ত হলো আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্থিতিশীলতা, প্রচেষ্টা। আগে নিজেকে বুঝতে হবে আমি কী করব? অধিকাংশ মানুষের ব্যর্থতার কারণ হচ্ছে পরিপূর্ণ পরিকল্পনার অভাব। তাই একটি পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। এটি ব্যবসা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’
উদ্যোক্তা হতে তো সবাই পারে না, চ্যালেঞ্জ নিতে হয় এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সফল উদ্যোক্তা হতে হলে নিজেকে নিজেই চ্যালেঞ্জ করতে হবে। এমন সব উপায় খোঁজ করতে হবে যেন প্রতিদ্বন্দ্বী উদ্যোক্তাদের থেকে ভিন্ন কিছু করা যায়। নতুন এবং কঠিন কাজ করার জন্য নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখতে হবে এবং ক্রমাগত নতুন চ্যালেঞ্জসমূহ গ্রহণ করতে হবে।’

 

রোদসী/আরএস

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nine − seven =