উৎসবে চাই রঙিন মালা

করেছে Sabiha Zaman

সুরাইয়া নাজনীন
রঙিন চোখে সবই যেন বর্ণময়। বর্তমানে নিজের লুক বদলাতে ফ্যাশনপ্রেমীরা একটু অন্যভাবে হাঁটছে। অনুষঙ্গ এক থাকলেও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সেগুলো দেখতেও লাগছে অন্য রকম। আজকাল ফ্যাশনের সব ধারাতেই গয়না হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে হরেক রকম মালা। যেগুলো সব পোশাকের সঙ্গে মানাচ্ছে অনায়াসে। এবার ঈদে সবার মনে উৎসব উৎসব রব বিরাজ করলেও করোনা পরিস্থিতি কিছুটা থমকে দিয়েছে। তবু স্বল্প পরিসরে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেমে নেই। আসছে ঈদ। এবার ঈদে রঙিন মালা পরে গর্জিয়াস হবে ফ্যাশনপ্রেমীরা।

আধুনিক যুগে পশ্চিমা আর পূর্বের মিশেলে এখনো তার দাপট সমানতালে। একটা সময় ছিল যখন আঁটসাঁট গয়নায় অভিরুচি প্রকাশ পেত। কিন্তু এখন আর তা নয়। বর্তমানে চলছে লম্বা ঝুলের বৈচিত্র্যময় মালা, যা পশ্চিমা পোশাকে প্রাধান্য পাচ্ছে। তেমনি প্রাধান্য পাচ্ছে বাঙালিয়ানায়। আবার কেউ কেউ নিজস্বতা তৈরি করছে শর্ট কামিজের সঙ্গে পরেও। আগে লম্বা মালার জন্য পাথরের বিকল্প কিছুই ছিল না। তবে এখন সেই ঢঙে পুঁতির মালার পাশাপাশি পুরোনো কয়েন, তামার পাত, কড়ি কিংবা ঝিনুকও প্রাধান্য পায়। আবার পাথরের ভাঁজে ভাঁজে ঢুকে যায় রুপার নানা উপকরণ। কখনো তা বার্ন করে খানিকটা পুরোনো আদল দেওয়া হয়। মালার উচ্চতাভেদে এসব উপকরণের পাশাপাশি কাঠ বা মাটিও ব্যবহƒত হয় বৈচিত্র্য আনতে। পাহাড়ি লহরের মালাগুলোতে আবার দেখা যায় বড় বড় রঙিন পাথরের ব্যবহার। সঙ্গে থাকে হাতির দাঁত কিংবা কৃত্রিম শিং থেকে তৈরি নানা মোটিফ। দেশে যেমন এই ধরনের মালার প্রচলন বেড়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার কদর বাড়ছে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে স্টাইল স্টেটমেন্টে অনেক আগেই স্থান করে নিয়েছে এই মালা। তাই সেই সব দেশে নানা আকৃতির পাথরের পাশাপাশি ফলস সিরামিকেও মালার জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২০ থেকে ৩২ ইঞ্চি লম্বার মধ্যে মালাগুলো গলার ব্যাপ্তিতে জড়িয়ে থাকে। কখনো কখনো তা দুই-তিন ধাপে প্যাঁচানো যেতে পারে। যার ফলে গলার একটি বড় অংশজুড়ে মালাটির অস্তিত্ব থাকে।

শার্ট কিংবা টপসের সঙ্গে মানানসই এই মালা দুর্দান্ত মনে হয় ফতুয়ার সঙ্গেও। কখনো এসব মালায় অসম আকৃতির পাথর যেমন থাকে, কখনো তা শুকনো ফুল আর পাথরের ফুলের কম্বিনেশনেও হয়। কখনো কখনো মাটির দলার নানা আকৃতির প্রাধান্য পায় মালাটিতে।

ফ্যাশন ব্যক্তিত্বদের কাছে মালার কদর : ডিজাইনারদের কাছেও এই ধরনের মালার কদর কম নয়। তাই স্টাইল শপগুলোতে মালাগুলোর চাহিদা বাড়ছে ক্রমান্বয়ে।

ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, ‘কোনো অনুষ্ঠানে আকারে বড় ত্রিকোণ, চৌকোণ আবার গোলাকার পয়সার নকশা করা মালা পরতে পারো। এক থেকে একাধিক লহরও থাকতে পারে মালায়। অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে জামদানি, সিল্ক বা মসলিনের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারো এই গয়না। সুতির ফতুয়া, কুর্তি বা তাঁতের শাড়ির সঙ্গে পুঁতির মালার সঙ্গে পয়সা লকেটের ছিমছাম মালা বেছে নাও কিংবা ছোট বেশ কিছু পয়সার মালা গলা লাগোয়া করে পরো।’

রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন বলেন, ‘এখন মেয়েরা মজার মজার মালা পরছে। সব বয়সী মানুষেরই মালা মানিয়ে যায়। লাল, কমলা, সবুজ রঙের পুঁতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া পয়সার গয়নাগুলো সব বয়সের মেয়েরাই পরতে পারে। এই গয়নায় এমনিতেই একটা ভারী ভাব থাকে। তাই সাজটা ছিমছাম হওয়া ভালো। চাইলে চোখে একটু গাঢ় সাজ দিতেই পারো। তবে ঠোঁট থাকবে ন্যাচারাল।’

রঙিন উপকরণ : সুতা, কাঠ, পুঁতি নানা উপাদানে গলার মালা রয়েছে। আবার পয়সা দিয়ে তৈরি মালাও কিন্তু মন্দ নয়। তাই গয়নার ডিজাইনাররা নানা ধরনের পয়সা দিয়ে গয়নার ডিজাইন করছেন। গর্জিয়াস ভাব আনতে পয়সার গয়নায় মুক্তার ব্যবহারও হচ্ছে।

কোথায় কেমন : অঞ্জন’স, কে ক্র্যাফট, বিশ্বরঙ, কুমুদিনী, আড়ং, মায়াসির, বাংলার মেলাসহ জনপ্রিয় সব বুটিক হাউসেই মালা আছে। তা ছাড়া ফ্যাশন হাউস যাত্রা, মাদুলি, আইডিয়াসে পাবে পয়সার বিভিন্ন রকম মালা। ডিজাইনভেদে ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। গর্জিয়াস চাইলে বাজেট বাড়াতে হবে।


যত্নে থাকুক : কাপড়ের গয়নার যত্ন কিন্তু অন্যান্য গয়নার যত্ন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সঠিক যত্ন করলে তুমি অনেক দিন ব্যবহার করতে পারবে প্রিয় অনুষঙ্গ। কাপড়ের গয়নার ওপর পারফিউম স্প্রে করা ঠিক নয়। এতে দাগ হতে পারে। প্রতিবার ব্যবহারের পর ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে তারপর তুলে রাখো। মাঝেমধ্যে খানিকটা রোদে রাখতে পারো। ময়লা হলে কিংবা কোনো দাগ পড়লে ডিটারজেন্ট দিয়ে না ধুয়ে ড্রাইওয়াশ করো। মেটালের গয়নার সঙ্গে কাপড়ের গয়না রাখবে না। মালা পরার পর চুলে আঁচড়ানোর সময় চিরুনি সাবধানে ব্যবহার করো, গয়নার সুতায় টান লেগে যেন সুতা ছিঁড়ে না আসে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 + 11 =