এই গরমে

করেছে Sabiha Zaman

দিনের পর দিন তাপমাত্রার গ্রাফ শুধু ঊর্ধ্বমুখীই হচ্ছে। ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বৃষ্টি আর ঠান্ডা বাতাসের জন্য হাহাকার। বৈশাখের এই দিনগুলোতে নিজেকে ফিট রাখতে একটু কৌশলী হতেই হবে।

এমন প্রচণ্ড গরমে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পেটের সমস্যা এর অন্যতম। তাই গরমের দিনে একটু বুঝেশুনেই খাওয়াদাওয়া করতে হবে। তেলে বা ঘিয়ে ভাজা খাবার একেবারেই বাদ দেওয়া ভালো। এগুলো হজমে সমস্যা করে। শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে। মাংস কম খেয়ে পাতে বেশি করে নিতে হবে মাছ। সকালে খাওয়া যেতে পারে রুটি, সবজির মতো হালকা খাবার। দুপুর ও রাতের খাদ্যতালিকায় খিচুড়ি, পোলাও বাদ দিয়ে সাদা ভাতকে প্রাধান্য দিতে হবে। কর্মজীবী মানুষের জন্য এই তীব্র গরম বেশ বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। একদিকে চলাফেরার কষ্ট, অন্যদিকে আছে পছন্দসই খাবারের সংস্থান। কর্মজীবীদের অনেকেই ‘স্ট্রিট ফুড’ বা ‘জাংক ফুডের’ ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাস্তাঘাটের এসব খাবার খোলা পরিবেশে তৈরি হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি থাকে। দেখা যায়, সকালে বানানো খাবার বিক্রি হয় রাতেও। এই দীর্ঘ সময়ে পচনশীল এসব খাবারে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। এতে করে খাদ্য পরিপাকেও সমস্যার সৃষ্টি হয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রাস্তার ধারের খাবার যারা বেশি খায়, তাদের সারা বছরই পেটের পীড়া থাকে। এসব খাদ্যে বিষক্রিয়াও হয়। এ জন্য এসব খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভালো। তবে যারা নিরুপায়, তাদের গরম খাবার বেছে খেতে হবে। ঠান্ডা, বাসি খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। প্রচণ্ড গরমে অবধারিতভাবেই শরীর ঘামে।

এতে করে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি ও ইলেকট্রোলাইট চলে যায়। ফলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। পানি ও ইলেকট্রোলাইটের অভাব পূরণ করতে পানীয় পানের বিকল্প নেই। তাই বলে রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া শরবত খাওয়া যাবে না। কারণ, এসব পানির বিশুদ্ধতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি শরবত বানানোও হয় অস্থাস্থ্যকরভাবে। এতে করে ভাইরাল হেপাটাইটিসের সংক্রমণ হতে পারে।

যদি সম্ভব হয়, তবে ঘরে ফোটানো বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখতে হবে। পরিমিত পরিমাণে স্যালাইনও খাওয়া যেতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে বুঝেশুনে স্যালাইন খেতে হবে। বাজারে পাওয়া বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি পানীয়র চেয়ে ডাবের পানি, লেবু, বেলসহ বিভিন্ন ফলের শরবত খাওয়া ভালো।

যেমন পোশাক
ছোট আর হালকা-পাতলা পোশাক পরলেই যে গরমকে বশ করা যাবে, তেমনটা কিন্তু নয়। গরমে আরও একটু ফুরফুরে হতে বেছে নাও সঠিক কাপড় ও টেক্সচার।

 যদি মনে করো, ডেনিমের প্যান্টটি তোমাকে গরমে স্বস্তি দেবে, তবে ভুল ভাবছ। পোশাকের ছোট আকারের জন্য হয়তো খোলামেলা হতে পারবে, কিন্তু তাতে গরম লাগা কমবে না। গরমে সত্যি সত্যি ঠান্ডা থাকতে চাইলে বেছে নাও লিলেন বা সুতির প্যান্ট।
 জুতা বাছার ক্ষেত্রে বেছে নাও রঙিন হাওয়াই স্যান্ডেল বা ফ্লিপফ্লপ। খোলামেলা হওয়ায় আরাম পাবে এতে। কিন্তু সস্তার হাওয়াই পরবে না। ঘামে ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।


 ওয়ান পিস ডেনিমকে ‘না’ বলো। ডেনিম বা জিনস জিনিসটিকে আলমারিতে তুলে রাখো। গরমের জন্য ডেনিম নয়। ডেনিম শীতের সময়ের জন্য। গরমে ডেনিম পরে নিজেকে কষ্ট দেবে না।
 মোজার ক্ষেত্রেও চুজি হতে হবে। হালকা সুতির মোজা বেছে নাও। সাদা হলে সবচেয়ে ভালো।
 ফুলহাতা পোশাক পরতে পারো। এতে হাতে ট্যান পড়বে না। তবে শিফন বা সিল্কের ফুল স্লিভ এড়িয়ে চলাই ভালো। পিওর কটন বা লিলেন পোশাকের দিকে ঝুঁকে যাও এই গরমে।

কিছু পরামর্শ
 বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে অবশ্যই একটা ছাতা রাখতে হবে। শুধু রাখলেই হবে না, রাস্তায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাতা মেলে মাথায় ধরতে হবে।
 রোদে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। আমাদের আবহাওয়ায় সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর বা এসপিএফ ৩০-এর ওপর হলে বেশি ভালো হয়।
 এই সময়, বিশেষ করে মেয়েরা প্রসাধনী কম ব্যবহার করবে। বেশি প্রসাধনী মুখের ওপর ভারি আবরণ তৈরি করে। আর তখনই গরমও বেশি লাগে।

 বাচ্চাদের শরীরেও খুব বেশি পাউডার না দেওয়াই ভালো। তবে শরীর বারবার মুছে দাও। ঠান্ডার সমস্যা না থাকলে দিনে দুবার অন্তত গোসল করাতে পারো।
 গরমের দিনে বেশি মসলাদার খাবার না খাওয়াই ভালো। মসলাদার খাবার শরীরকে বেশি গরম করে রাখে।

লেখা : রোদসী ডেস্ক
ছবি : ইন্টারনেট

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

20 − 4 =