একাই একশো! রাবা খান, ইউটিউবার, রেডিও জকি

করেছে Rodoshee Magazine

জনপ্রিয় ইউটিউবার রাবা খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফানি ভিডিও দিয়ে হয়েছেন আলোচিত। এসব ভিডিওতে মানুষের নানা রকম স্বভাবকে সাবলীলভাবে দেখিয়ে যাচ্ছেন। এক রাবা খান ধারণ করছেন শত মানুষের বৈশিষ্ট্য। সম্প্রতি ইউনিসেফ-এর ইয়ুথ এডভোকেট হিসেবে কাজ করছেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন নিজে ইউটিউবার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি একাধারে রেডিও জকি আবার বেশ কিছু কোম্পানির ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর। দূরদৃষ্টি আর একাগ্রতা দিয়ে হয়েছেন সফল একজন। তার সফলতা গল্প জানতে-জানাতে রোদসীর এই আয়োজন। কথপোকথনে স্বরলিপি।

শুরুটা কিভাবে?

আমি টিভি দেখা খুব একটা পছন্দ করতাম না। টিভি সিরিজগুলো ডাউনলোড করে কম্পিউটারে দেখা হতো। আমি সিনেমা এবং ইউটিউবের অনেক বড় ফ্যান। ইন্ট্যারন্যাশনাল ইউটিউবারদের দেখেই ইন্সপিরেশন পাওয়া। বাংলাদেশে তখন হাতে গোনা কয়েকজন ইউটিউবার ছিল। তাদের ভিডিও কন্টেন্ট দেখতাম। আমার হাতে তখন ক্যামেরা ছিল, কম্পিউটার ছিল। পরে মনে হলো ‘আমি কেন কন্টেন্ট বানাব না’। এরপরই শুরু করে দেওয়া।

তখনই মনে হয়েছিল এটি ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে উঠবে?

শুরু থেকেই আমি এটিকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছিলাম। কারণ, তখনই ইন্টারন্যাশনাল ইউটিউবারদের দেখতাম, তারা বই লিখছে। আরও অনেক কাজ করছে। তো ইউটিউবার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব এ কথা আমি আরও আগে থেকেই জানতাম। প্রথম কন্টেন্ট বানানোর দেড় বছর পর আমি আর একটি ভিডিও কন্টেট বানিয়েছি। ইউটিউবের তরফে আর্ন করা শুরু করেছি, ভিডিও কন্টেট তৈরি করার এক মাস পর থেকেই।

কি রকম ভিডিও

আমি ব্র্যান্ড ফ্যামিলি কন্টেন্ট বানিয়ে থাকি। আমার কন্টেন্টে কোনো গালি দিচ্ছি না, পলিটিকস বা রিলিজিয়ন বিষয়ে কোনো কথা বলছি না। ব্র্যান্ড ফ্যামিলি কাজ করার ফলে ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কাজ করা সহজ হয়ে যায়। সেভাবে করেই তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।

অনুপ্রেরণার গল্প

আমি যে কারও কাছ থেকে ইন্সপিরেশন নেবÑ এই রকম সুযোগ তেমন একটা নেই। আমি অনেক ইন্ডিয়ান ভিডিও দেখি, আমেরিকানস ভিডিও দেখি, যেগুলো থেকে ইন্সপিরেশন নেওয়া সম্ভব হয়। সবচেয়ে বেশি যে কাজটি করতে হয়, তা হলো রিসার্চ। আমি হয়তো কারও সঙ্গে কথা বলছি, তার সঙ্গে এক-দুইটা লাইন যোগ করে একটা ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে ফেলি। আমি সব সময় কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলেই কিছু না কিছু ভাবতে থাকি।

অবসরে যা কিছু

আমার অবসর বলতে কোনো কিছু নেই। একই সঙ্গে কাজ ও পড়াশোনা দুই-ই করতে হয়। কাজের জন্য অনেক সময় দিই। রাতে ঘুমানো কখনো কখনো কঠিন হয়ে পড়ে। আবার খুব মজা লাগে, যখন দেখি খুবই ডিফরেন্ট লাইফটা। একটা দিনের সঙ্গে আর একটি দিন কখনো মেলে না। এই বিষয়টা খুব এক্সাইটিং লাগে। কোনো ধরাবাধা জব নেই। নিজের ইচ্ছামতো কাজ করছে। ইটস আ ফান।

পড়াশোনা

‘এ লেভেল’ শেষ করেছি। কিছু বছর আগে ‘ও লেভেল’ শেষ করেছি। এরপর কিছুদিন পড়াশোনা বন্ধ রেখেছিলাম। কাজের জন্য এটা করতে হয়েছিলো। আবার পড়াশোনা শুরু করেছি।

ক্যারিয়ার ফোকাস নিয়ে ভাবনা

সবকিছুরই ডিমান্ড অনেক বেশি। যেহেতু সবকিছুুরই একটু কমতি আছে। আমার মনে হয়, যে কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সেই কাজটিই ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। তাহলে কাজকে কখনো কাজ বলে মনে হবে না।

কাজ, কাজ আর কাজ

কাজকে কাজ না মনে হয়ে প্যাশন মনে হলে তবেই এনজয় করা সম্ভব। কাজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো- টাইম মেইনটেইন, কন্ফিডেন্ট। ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্সটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক, দেড় বা দুই বছরের এক্সপেরিন্সও অনেক কাজে লাগে। এক্সপেরিয়েন্স গেদার করা থামিয়ে দেওয়া চলবে না।

প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনা

আমি এতো বেশি কাজ করি, গত তিন বছর ধরে প্রপার ভ্যাকেশনে যেতে পারিনি। দেশের বাইরে গেলে দুই দিনের বেশি থাকা আমার জন্য কঠিন হয়ে যায়। যেহেতু আমার দুইটা রেডিও শো আছে, আমি একটা শো-স্পন্সর। এখানে সময় দিতে হয়। মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য কলকাতায় গিয়ে বলিউডের সিনেমা দেখার চেষ্টা করি। আমি বলিউডের খুব বড় ফ্যান। বড় কোন রিলিজ হলে, আমি কলকাতায় চলে যাই। ছুটির দিন আমার পছন্দ না। কারণ আমার কাজ করতে অসম্ভব ভালো লাগে। যদিও ছুটিতে থাকার দরকার আছে।

ভালোলাগা-ভালোবাসা

ভালোলাগে ব্রান্ডন জনসনকে। তিনি দুই মিনিটের একটি মিটিংয়েও যোগ দেন। তিনি তার কাজের সময়টাকে, দুই মিনিট, পাঁচ মিনিট, পনেরো মিনিট, বিশ মিনিটের জন্যও ভাগ ভাগ করে রাখেন। এই রকম মানুষ আমরা খুব কম দেখি। একটি সুন্দর ক্যারিয়ার জন্য পরিকল্পিত কাজ করার দরকার আছে।

২০১৯ ইয়ারলি প্ল্যান

এই বছরটা ইউনিসেফ-এর সঙ্গে কাজ করবো। কয়েকটা কোম্পানীর ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আছি। এগুলো ঠিকঠাক মতো করবো। নিজস্ব কন্টেন্টতো অবশ্যই বানাবো। এই বছর গান ফোকাস করার চেষ্টা থাকবে।

নিজের কাজ সম্পর্কে মন্তব্য

আমার কাজ আমার কাছে ফান।

নতুন কাজের ক্ষেত্রে সফল হওয়ার সূত্র

আমি আমার ক্ষেত্র নিয়ে বলি, ছেলেরা ইউটিউবের জন্য কন্টেন্ট তৈরি করছে। অনেক ছেলে ইউটিবিউব কেন্দ্রিক অর্থ-উপার্জন করছে। কিন্তু মেয়ে কই? পেছনের গল্প হলো-ফ্যামিলির প্রেসার আছে, ফ্যামিলি থেকে চায় না, ফ্যামিলি করতে দেয় না ইত্যাদি, ইত্যাদি। এই সবকিছু থাকবে। প্রয়োজন হলো- কন্ফিডেন্ট। নিজে বুঝতে হবে, আমাকে দিয়ে কি হবে, আমি কি করতে পারবো। কাজের পরিকল্পনা থাকতে হবে। তিন বছর আগে আমি যে প্ল্যান করেছিলাম, তা পুরোপুরি করতে পেরেছি। প্ল্যান হতে হবে রিয়েলিস্টিক। কঠোর পরিশ্রম দিয়ে প্ল্যান সফল করতে হবে। একটা রিয়েলিস্টিক প্ল্যান মানুষকে হতাশ করে না।

রোদসী/আরএস

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

2 × 1 =