এক কাপ চা

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

সকালে হোক বা বিকেলে, এককভাবে হোক বা বন্ধুদের আড্ডায়; এক কাপ চা না হলেই নয়। শরীরের নির্জীবতা কাটাতে ধুম্রমান চা করে দিতে পারে মুহুর্তের মধ্যেই চাঙ্গা। আর এই চা’য়ের পারফেক্ট লুক এনে দিতে কিছু টিপস সহকারে আজকের এই আয়োজন।

দুধ চা হোক বা রঙ চা, চিনি সহকারে হোক বা চিনি ছাড়া; পানির পরেই চা বিশ্বের সর্বাধিক উপভোগ্য পানীয়। এর স্নিগ্ধ, প্রশান্তিদায়ক স্বাদের জন্যই এর জয়জয়কার বিশ্বজুড়ে। চীন থেকে আগত চা, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ টি শব্দটি গ্রিকদেবী থিয়ার নামানুসারে করা হয়েছে। চীনে ‘টি’ এর উচ্চারন ছিল ‘চি’। পরে যা হয়ে যায় চা। ভারতবর্ষে এর চাষ ১৮১৮ সালে শুরু হলেও আমাদের দেশে বাণিজ্যিক ভাবে এর চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সাল থেকে।

চা বলতেই সচরাচর আমরা সুগন্ধ ও স্বাদযুক্ত উষ্ণ পানীয় বুঝি যা চাপাতা পানিতে ফুটিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা হয়। প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া অনুসারে পাঁচটি শ্রেনীতে ভাগ করা যায়- কালো চা, সবুজ চা, ইষ্টক চা, উলং বা ওলোং চা এবং প্যারাগুয়ে চা। এছাড়াও সাদা চা , হলুদ চা সহ আরো অনেক ধরনের চা আছে। এত শ্রেনীবিভাগ থাকলেও সবরকম চা-ই মূলত ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থেকে তৈরি হয়। শুধুমাত্র বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুতের কারনে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদযুক্ত চা পাওয়া যায়। পানি, চা পাতা, দুধ, চিনির মিশেলেই কিন্তু অনেক সময় পারফেক্ট চা পাওয়া যায়না। এর জন্য কিছু টিপস ফলো করতে হবে-

-চা বানানোর সময় পানির পরিমান ও গুণাগুণ খুব গুরুত্বপুর্ন। চা তৈরির সময় আমরা অনেকেই প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পানি ফুটাতে দিই। যা মোটেও ভালো ধারনা নয়। এতে শুধু যে গ্যাসের অপচয় হয় তা কিন্তু নয়, এতে চায়ের স্বাদেও নিস্তেজ ভাব চলে আসবে। এর পরিবর্তে যতকাপ চা হবে ততটুকুই পানি সিদ্ধ করো এবং প্রতিবারই ফ্রেশ ঠান্ডা পানি ব্যবহার করো। পুনঃসিদ্ধ পানির তুলনায় টাটকা পানিতে বেশি অক্সিজেন এবং কম ইমপিউরিটিস রয়েছে যা একটি সুস্বাদু ও উপভোগ্য পানীয়তে পরিনত করে।

-চায়ের ধরন অনুযায়ী সঠিক পানির তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়। সবুজ এবং সাদা চায়ের জন্য কম তাপমাত্রার এবং কালো ও ভেষজ চায়ের জন্য ফুটন্ত বা গরম পানির প্রয়োজন হয় যাতে সমস্ত স্বাদ সম অনুপাতে আসে।

-চা শুধুমাত্র একটি পানীয় নয়, বরং একটি জীবনধারার রুটিন যা মানুষকে সারাদিন সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে। তাই এক কাপ চা পারফেক্টভাবে তৈরি করা হল এমন এক শিল্প যাতে কিছুটা ধৈয্যের সাথে কাজ করতে হয়। যদি টি ব্যাগ হয় তবে তা শুধু ডুবিয়ে উঠিয়ে ফেললে হবেনা। একটি কালো চায়ের জন্য কাপে সম্পুর্নরুপে বিকাশের জন্য দুই মিনিট সময় দিতে হবে। দুধের চায়ের জন্য আরো বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়। আর যদি চা পাতা হয় তবে প্রতি ৬-৮ আউন্স পানির জন্য (১ আউন্স প্রায় ৩০মিলি) ২-৩ গ্রাম চা পাতা ব্যবহার করা উচিৎ। এটা অবশ্য চায়ের ধরনের উপর নির্ভর করে।

-লিকার টি, হোয়াইট টি, গ্রিন টি, ভেষজ চা যেমন দুধ ছাড়াই ভালো চা অন্যদিকে ব্ল্যাক টি, মাসালা চা দুধ সহকারে আরো ভালো স্বাদ পায়। এক্ষেত্রে দুধ আগে মিক্স করা ভালো না পরে? এই প্রশ্নের জবাবে অধিকাংশেরই জবাব হল, যদি প্রথমে দুধ মেশানো হয় তবে এটি কখনোই কালো চায়ের জন্য সঠিকভাবে তৈরির সময় পৌছাবে না।

-ভালো এবং উন্নতমানের চা পাতা শুধু সংগ্রহ করলেই হবেনা তা ভালোভাবে সংরক্ষণও করে রাখতে হবে। চা অত্যন্ত হাইগ্রোস্কোপিক, যার মানে এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে এবং এর চারপাশ থেকে সুগন্ধ গ্রহন করতে পারে। তাই এটি শুকনো ও বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

seven + 9 =