ওটস দিয়ে ঝটপট সকালের নাস্তা

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

কথায় আছে, সকালের খাবার খাও রাজার মতো, দুপুরের খাবার যুবরাজের মতো আর রাতের খাবার হবে প্রজার মতো। পুষ্টিবিজ্ঞানী এ্যাডেল ডেভিসের এই উক্তিটি বেশ বিখ্যাত। সারারাত খালি পেট থাকার পরে, সকালের নাস্তার গুরুত্ব কতটুকু তা বোঝাতে এই কথাটি বলা হয়। কিন্তু আমাদের কর্মব্যস্ততার জীবনে রাজার মতো খাওয়া তো দূরের কথা সামান্য ব্রেড-জ্যাম খেয়েই উদরপূর্তি করতে হয়। তাই ঝটপট হয়ে যায় এমন কিছু নাস্তার আইটেম নিয়ে আজকের আয়োজন।

অফিস হোক কিংবা বাসায়, সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় এনার্জি জোগাতে সকালের নাস্তা শরীরের জন্য খুবই দরকারি। তাই এটি কোনভাবেই স্কিপ করা ঠিক নয়। আর সেই নাস্তা যদি হয় পুষ্টিতে পরিপূর্ন, তাহলে তো আর কথাই নেই। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা একটি স্বাস্থ্যকর প্রাতঃরাশ হিসেবে ওটমিলের সুপারিশ করে। বিভিন্ন ওয়েতে মুখোরোচক খাবার বানানো যায় এই ওটস দিয়ে। এর এত সুস্বাদু বহুমুখিতা ছাড়াও, কেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সকালে ওটমিল খাওয়ার পরামর্শ দেয়? কিভাবে এক বাটি ওটস দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য প্রভাবিত করে? এই বিষয়ে বিজ্ঞান যা বলে-

-ওটস ফাইবারের একটি দূর্দান্ত উৎস। যেহেতু ফাইবার হজমকে ধীর করে দেয়, তাই রোগ নিয়ন্ত্রন ও প্রতিরোধ কেন্দ্র অনুসারে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষুধার্ত বোধ অনুভূত হয়না।

-ওটসে একটি বিশেষ ধরনের দ্রবনীয় ফাইবার থাকে যাকে বিটা-গ্লুকোন বলে। এই বিটা-গ্লুকোন অন্ত্রে জেলের মত সামঞ্জস্য তৈরি করে এবং পরিপাকতন্ত্রে জিনিসগুলোকে সচল রাখতে ও নিয়মিত করতে সহায়তা করে।

-এক বাটি ওটস দিয়ে সকাল শুরু করা হার্টের স্বাস্থ্যের একাধিক উপায়ে উপকার করতে পারে। ফাইবার সামগ্রীর কারনে, ওটমিল খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে, রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে এবং এমনকি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

-এর ইতিবাচক সুবিধাগুলোর পাশাপাশি, গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ওজন-হ্রাস এবং ওজন-ব্যবস্থাপনার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

ঝটপট নাস্তার আইডিয়া

ওটস স্মুথি

সবচেয়ে সহজ এবং পুষ্টিকর কিছু চাইলে ওটস স্মুথি হবে পারফেক্ট চয়েস। ঝটপট হয়ে যায় এবং খেতেও অনেক মজা। কলা, সামান্য পিনাট বাটার এবং দারুচিনির মতো সহজ উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় এই স্মুথি। এর কোজি ফ্লেবার এবং ক্রিমি টেক্সচার মুখে টেস্ট দেয়ার পাশাপাশি সারাদিনের জন্য জ্বালানী দেয়। এখানে শুধু কলা নয় যেকোন ফল যেমন স্ট্রবেরি, আপেল, পেঁপে ইত্যাদি দিয়েও করা যাবে।

ওটস অমলেট

ওটস অমলেট রেসিপি একটি স্বাস্থ্যকর এবং একটি ভরাট খাবার যা ওটমিল ও ডিম দিয়ে তৈরি। স্বাদের পাশাপাশি এটি ডায়াবেটিক ফ্রেন্ডলি। নরমাল অমলেটের মতো এটা শুধু ডিম এবং ওটস দিয়ে করা যায় আবার খাবারটি আরেকটু রিচ করতে চাইলে পছন্দ মতো এতে ভেগিজ যেমন গাজর, ক্যাপসিকাম যোদ করা যেতে পারে।

ওটস খিচুড়ি

বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে মজাদার এই খিচুড়ি তৈরি করা যেতে পারে। কালারফুল এই খিচুড়ি করতে চাইলে এতে গাজর, ক্যাপসিকাম, টমেটো, মটরশুঁটি, ব্রকোলি এড করা যেতে পারে। চোখ জুড়ানোর পাশাপাশি এটা খেয়ে মনও ভরবে।

ওভারনাইট ওটস

এতে রান্না করার কোন ঝামেলা নেই। যা করতে হবে তা হল এতে যেসব উপাদান লাগবে তা আগের দিন রাতেই একসাথে করে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। এতে লাগবে ওটস, দুধ, পছন্দমত ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে সারারাত ফ্রিজে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে সেট হয়ে যাওয়া পুষ্টিগুনে ভরপুর এই ওভারনাইট ওটসে শুধুমাত্র মধু ও ফ্রেশ ফল কেটে দিয়ে খেলেই হবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nineteen + fifteen =