ওয়াশিং মেশিনের যত্নআত্তি

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

আমাদের প্রতিদিনকার কাপড় ধোয়ার ক্লান্তিকর কাজটি সহজ করে দিয়েছে ওয়াশিং মেশিন। টি শার্ট, প্যান্টের মত রেগুলার ওয়্যার থেকে শুরু করে বিছানার চাদর, পর্দার মত ভারী কাপড় পরিষ্কার করতে এর জুড়ি নেই। তাই ওয়াশিং মেশিন ভালো ও টেকসই রাখতেও করতে হবে এর কিছু যত্নআত্তির।

নিয়মিত ওয়াশিং মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ এই মেশিনগুলোকে বছরের পর বছর ধরে সার্ভিস দিতে সাহায্য করে। আর এই কাজগুলো বাসায় বসে সহজেই করা সম্ভব। এখানে কিছু ওয়াশিং মেশিন রক্ষণাবেক্ষণের টিপস রয়েছে যা একে ভালো রাখতে সাহায্য করবে-

-ডিপ ক্লিনিং  

ওয়াশিং মেশিন প্রতিবারই ১০০% সার্ভিস দিবে, এটা ভেবে থাকলে ভুল হবে। নতুন অবস্থায় এটা যেমন কাজ করত কিছু সময়ের পর দেখা যায় তাদের কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। এর পেছনে বড় কারন হল স্কেলিং যা পানিতে মাইক্রো-রেসিডুয়্যালের উপস্থিতির কারনে হয়ে থাকে। এই অবস্থায় মেশিনের কিছু ডিপ ক্লিন করার প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায় একটি শক্তিশালী মেশিন ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে যা যন্ত্রের ধাতব ও প্লাস্টিকের অংশগুলোর ক্ষতি না করে সমস্ত স্কেলিং অপসারণ করতে সক্ষম।

-রাবার গ্যাসকেট পরিষ্কার

এটি মেশিনের একটি গুরুত্বপুর্ন অংশ। এই রাবার গ্যাসকেট ওয়াশার-ড্রায়ারের প্রান্তে মোড়ানো থাকে যা যেকোন ধারালো প্রান্ত থেকে কাপড়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। মেশিন ফ্রন্ট লোড বা টপ লোড যাই হোক না কেন যখনই এর দরজা খোলা হয় তখন ধূলিকণা গ্যাসকেটের প্রান্তে এবং পাশে জড়ো হয়। শুধু তাই নয় ব্যবহিত ডিটারজেন্ট বা সফটনারের কণাও জমা হয়। এই অংশটিকে উপেক্ষা না করে সপ্তাহে একদিন ভেজা কাপড় দিয়ে রাবার গ্যাসকেট পরিষ্কার করা উচিৎ।

-বাইরের আবরন পরিষ্কার

নতুন এবং পরিষ্কার ঘরের যন্ত্রপাতি ঘরের শোভা বাড়ায়। একটি পুরাতন ওয়াশিং মেশিন ঘরের চেহারা নস্ট করে দেয়। কিন্তু আমরা এই দিকটিই উপেক্ষা করে থাকি। ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিনগুলোই এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। একটি গ্লাস ক্লিনার দিয়ে মেশিনের উপরে এবং পাশে পরিষ্কার করতে হবে, এতে মেশিনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য উজ্জ্বল রাখতে পারে। এছাড়া ব্যবহার না করার সময় মেশিন ঢেকে রাখতে হবে।

-দরজা খোলা রাখা

ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারের সাথে সাথেই দরজা বন্ধ করে দেয়া যাবেনা। অনেকেই ভেতরে ময়লা ও ধুলাবালি তৈরি হবে ভেবে বন্ধ করে দেয়, এটা কিছু পরিমানে সত্য হলেও এর মানে এই নয় যে তা অবিলম্বে করতে হবে। ১৫-৩০ মিনিটের জন্য খোলা রেখে এর ভেতরে আর্দ্রতা অপসারণ করতে হবে যা মেশিনে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করে। প্রয়োজনে ধোয়া শেষে ১৫-৩০ মিনিট পরে একটি পুরু তোয়ালে দিয়ে এর ভেতরে মুছে ফেলতে হবে।

-ডিটারজেন্ট ডিসপেন্সার পরিষ্কার

অটোমেটিক মেশিনগুলোতে ডিটারজেন্ট এবং ফ্যাব্রিক সফটনারের জন্য আলাদা পাত্র আছে। এই মেশিনগুলো স্বয়ংক্রিয় ভাবে পানির সাথে এগুলো মিক্স করে থাকে। যাইহোক, সঠিক পরিচ্ছন্নতার অভাবে এই পাত্রগুলোর দীর্ঘায়িত ব্যবহার এগুলোকে ব্যাক্টেরিয়া এবং ঘনীভূত বিষাক্ত উপাদানে আশ্রয়স্থল করে তোলে। এই ধরনের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে এর পরিষ্কার করা জরুরি।

-হোস চেক করা

মেশিনের ভেতরে এবং বাহিরে উভয় দিকে পানির প্রবাহ ঠিক থাকার জন্য হোস চেক করা দরকার। অটো এবং সেমি-অটো মেশিনে ৩ ধরনের হোস রয়েছে। যে প্রান্ত দিয়ে পানি মেশিনে প্রবেশ করে দেখতে হবে তাতে কোন লিকেজ আছে কিনা। আবার যে পাইপ দিয়ে ময়লা পানি বের হয় তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে যাতে ব্লকেজ না হয়ে যায়।

-ফিল্টার পরিষ্কার

সেমি-অটো মেশিনগুলোতে ভেতরে একটি লিন্ট ফিল্টার থাকে, যা ধোয়ার সময় ময়লা বের হয়ে এই ব্যাগে জমা থাকে । এই ফিল্টার ব্যবহারের পর পরিষ্কার করতে হবে। কারন ব্যাগটি যদি একবার একদম ভর্তি হয়া যায় তখন তা ময়লা জমা হতে ব্যাঘাত ঘটায়। এবেং ধীরে ধীরে মেশিনের কার্যক্ষমতার হ্রাস পায়। তাই মাসে একবার হলেও এর পরিষ্কার করা জরুরি।

-সাবধানতার সাথে ব্যবহার

হতে পারে ব্যবহৃত ওয়াশিং মেশিনটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। কিন্তু তারপরেও এর ব্যবহারে হতে হবে সাবধানতা। অতিরিক্ত কাপড় এতে লোড করা উচিৎ নয়। প্রয়োজনের বেশি কাপড় দিলে মেশিনটিকে সঠিকভাবে ঘোরবে না। যা এর বৃত্তাকার চলাচলকে প্রভাবিত করবে।

-সঠিক ডিটারজেন্ট নির্বাচন

যে ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা হবে তা যেন ভারি ক্ষারীয় প্রকৃতির না হয়।  কারন এটি মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং কাপড় উভয়েরই ক্ষতি করবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × one =