কনফিডেন্ট হওয়া খুব জরুরি

করেছে Suraiya Naznin

বাবা বদলির চাকরি করতেন, সেই সুবাদে নানা জায়গায় ঘোরার সুযোগ মিলেছে। পড়াশোনা হলিক্রস থেকে। তারপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা। বলছিলাম ইশিতা শারমিনের কথা। তিনি বর্তমানে বিক্রয় ডটকমের সিইও হিসেবে কাজ করছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সুরাইয়া নাজনীন

 

জীবনযাত্রার বেলায়
ইশিতা শারমিন : আমার পড়াশোনা যখন শেষ হয়, তারপর আমি মোবাইল কোম্পানি সিটিসেলে জয়েন করি। বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করে সিটিসেল। আমি ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নিয়ে কাজ করতাম। আমাদের হুয়াওয়ের সঙ্গে কাজ হতো চায়নায়। সেখানে আমি ট্রেনিংয়ের জন্য যাই। পরবর্তী সময়ে আমি খুব কম সময়ের মধ্যে প্রমোশন পাই। তারপর ২০১০ সালে আমি সিটিসেল ছেড়ে দিই, তখন আমার বিয়ে হয়ে যায়। তারপর আমি দুবাইয়ে চলে যাই। দুবাইয়ে ব্লুবেরি টেকনোলজিতে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি। এরপর আমি সল্টসাইট টেকনোলজিতে কাজ করেছি। এটা একেবারেই অন্য রকম একটি কোম্পানি ছিল। এদের কাজ ছিল পুুরো বিশ্বে অনলাইনে ওয়েবসাইট লঞ্চ করা।

 

ইশিতা শারমিন

 

 

বিক্রয় ডটকমে যেভাবে এলেন
ইশিতা শারমিন : দুবাইয়ে যখন সল্টসাইটে কাজ করি, তখন ওরা বাংলাদেশে একটি ওয়েবসাইট লঞ্চ করার সিদ্ধান্ত নেয়, বিক্রয় ডটকম নামে। সল্টসাইট একটি ব্রিটিশ কোম্পানি, যারা বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকার সঙ্গে কাজ করত দুবাইয়ে বসে। পরে আমাকে সল্টসাইট থেকে বিক্রয় ডটকমের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওখানকার মার্কেটিং পলিসি নিয়ে আমি কাজ করতাম। ২০১৬ পর্যন্ত আমি বিক্রয় ডটকমে মার্কেটিংয়ের হেড হিসেবে কাজ করেছি। পরে বাংলাদেশে অফিস নিয়ে খুব বড় পরিসরে সেটআপ করা হয়। কিš‘ পরবর্তী সময়ে আমি আবার দুবাইয়ে সেটেল ডাউন করি। তখন অনলাইন মার্কেটিং কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলাম ২০১৬ এবং ২০১৭ পর্যন্ত। এরপর আমি আবার বাংলাদেশে ব্যাক করি ২০১৮ সালে। এখন আমি বিক্রয় ডট কমের সিইও হয়ে কাজ করছি।

 

জীবনের সংগ্রামটা কি নারীর জন্য একেবারেই আলাদা?
ইশিতা শারমিন : আসলে সংগ্রামটা নারী-পুরুষ সবাইকে করতে হয়। তবে একটু ভিন্নভাবে। নারীর জন্য যেটা হয় তা হলো কেউ প্রায়োরিটির জায়গায় রাখে না নারীর ক্যারিয়ার। নারী মানেই একটু গৃহবন্দী টাইপ কিছু ব্যাপার সবার চিন্তায়। তবে নারীর মনের ইচ্ছাটা খুব জরুরি। আমি কী করতে চাই এবং যেটা করব সেটাতে কি আমি স্বাচ্ছন্দ্য। যে কাজ ভালো লাগবে না, সেটা ধরে টিকে থাকাটাও কঠিন।

 


নারীর জন্য ক্যারিয়ারসচেতন হওয়া কতটা জরুরি?
ইশিতা শারমিন : অবশ্যই জরুরি। কখনো কেউ বলতে পারে না জীবনের দুর্র্ঘটনার কথা। পরিবারের স্বাবলম্বী ব্যক্তিটির হঠাৎ করে যদি কিছু হয়ে যায়, কে সেই পরিবারের দায়িত্ব নেবে? আমাদের সরকারব্যবস্থা ও ততটা সক্ষম নয় যে সেই পরিবারের পাশে সারা জীবন দাঁড়াবে। তাই সবার আগে পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বিকল্প কেউ কিছু করলে সেই পরিবারের আর সমস্যা হবে না। সে জন্য বিকল্প হয়েও নারী যদি কিছু করতে চায়, খারাপ কী?

পরিবারের সহযোগিতার জন্য একজন নারী কতটুকু এগিয়ে আসে?

ইশিতা শারমিন : বিয়ের পর একজন নারী তার স্বামী, সন্তান এবং তার পরিবারকে ভালো রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। অনেকে ভাবেন বিয়ে হয়েছে, সন্তান হয়েছে, সন্তান মানুষ করবে চাকরির কী দরকার! কিš‘ ওই সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের জন্যই একজন নারী কিংবা মায়ের চাকরির দরকার। আবার কর্মজীবী মায়ের সন্তানেরাও অনেক বেশি আত্মনির্ভরশীল হয়, যা তার ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে অনেক কাজে লাগে।

 


কনফিডেন্ট থাকাটা কতটা জরুরি?
ইশিতা শারমিন : এটার কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় একজন নারীই তার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। এটা কি আমি করব? কিংবা এটা কি আমাকে দিয়ে হবে? এসব আচরণের কারণে পুরুষেরাও এটার সুযোগ নেন। নারীকে কোনো বড় দায়িত্ব দিতে চান না। তাই নারীকে স্কিলড হয়ে নিজের জায়গাটি ধরে রাখতে হবে। তাহলে কনফিডেন্ট লেভেলটি আরও উন্নত হবে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

seventeen + 1 =