কবিতা

করেছে Rodoshee

মানুষ কষ্টে আছে

মোরশেদ শফিউল হাসান

মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে
তুমি এত ভালো থেকো না
যাতে তোমার ভালো থাকাটা
অন্যের প্রতি বিদ্রুপ হয়ে ওঠে।

মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে
তুমি এত ভালো থেকো না
যাতে তোমার চলার পথে
অন্যের জন্য নিষেধের পতাকা
ওড়াতে হয়।

মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে
তুমি এত ভালো থেকো না
যাতে গাড়ির জানালায়
কালো কাঁচ তুলে
তোমাকে মুখ লুকোতে হয়।

মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে
মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে
তুমি ভালো থেকো
কিন্তু এত ভালো নয় যে
তোমার ভালো থাকাটা
অন্যের হাতে পাটকেল
তুলে দেয়।

মোনাজাত
শতাব্দী জাহিদ

ঈশ্বর, আমাকে আকাশ বানিয়ে দাও―
যেন ছাদের কার্নিশে জমে থাকা শ্যাওলা ও মুক্তা দেখতে পাই।
আমাকে গোমতি নদীর নিরীহ ঢেউ ও প্রচ্ছন্ন-সাদা রোদ্দুর বানিয়ে দাও―
তার পায়ের নখের ভাঁজে জমে থাকা ফসিল হতে পারি যেন।
আমাকে মেঘ, না। বৃষ্টির ছন্দে মুষলধারায় চলতে দাও―
মাথার চুল, না। ভুরুর রেখা, না। কানের দুল, না। ঠোঁটের অদৃশ্য যৌনাঙ্গ, না। ভাঁজের বুক, না।
নামতে নামতে আরও নিচে, নিচেচেচেচে…
যতখানি আদম-হাওয়া নেমেছিল;
পারলে এরচে বেশিকিছু স্পর্শ করতে দাও, না।

শুধু নামতে চাই, নামাতেও চাই।
আমাকে তার রিকশার হুড কিংবা লোকাল বাসের ধুলোয় জমে থাকা
পুরোনো সিট বানিয়ে দাও, এক্ষুণি।
নাগরিক সকাল থেকেই আমি তার একান্ত হতে চাই।
এমন প্রেম লিখে দাও―
আমার কলবে, শাস্ত্রে, ছায়াপুরানে, না সবকিছুতে।
প্রত্যাখ্যানও যেন মায়াবীপ্রেম হয়ে ওঠে।


সন্ধ্যারাতের তারা
সন্তোষ রায়

তোমাকে রোজ দেখি এ পথে আসো
ঝলমলে আলো ছড়িয়ে রাঙা পায়ে
নিরিবিলি সন্তর্পণে সবার অলক্ষ্যে একা
তবু আমি জেনে যাই তোমার আগমন।
কী এমন বেদনা তোমার বুকে?
যা লুকাতে এই অহর্নিশ প্রাতঃযাত্রা।
তোমার আগমন বহুভাবে উৎসাহিত করে
আমাকে। সরলভাবে বেঁচে থাকার একটা
ব্যঞ্জনা জোগায়, দীর্ঘশ্বাস ফুঁড়ে ওঠে নির্মল
আশার আলো। সে আলোয় ঝকমক করে
সোনারোদ, বৃক্ষলতা, সঞ্চারিত হয় ভুবনে।
শ্বাসকষ্ট প্রশমিত হয়, দূর থেকে ভেসে আসে
ঝরাপালক, সোঁদা মাটির গন্ধ। আর
আছে যত নিষ্পাপ নবজাতকের কান্না।
তবু তুমি থেমে থাকোনি একটিবার।
কী এমন দায় তোমার সন্ধ্যারাতের তারা?
এতটা পথ পাড়ি দিয়ে তুমি রোজ রোজ
ক্লান্ত-শ্রান্ত, অবসন্ন না হয়েও বীরদর্পে হেঁটে হেঁটে
নেমে এসো আমাদের ধমনিতে আলো জ্বালাতে।
সে আলোয় অবগাহন করে, পুত ও পবিত্র হয়ে
আমরা শুরু করি জীবন ধোয়ামোছার কাজ।

আমার ঋণ
বক্শী হাবিবুর রহমান

ফাগুনের কাছে আছে আমার অনেক ঋণ
ফাগুনের আগুনে পুড়ে খাঁটি হতে চাই এখনো
কিন্তু চারদিকে এখনো শকুনেরা উড়ছে
ইদানীং আমি বুঝি মহাকালের হিসাবনিকাশ।

ফাগুন কি শুধু প্রেম আর বাসন্তী রং-ই ছড়ায়?
দগ্ধ হবার কষ্টগুলো ছড়ায় না?
রাজপথ ভেসেছে রক্ত পলাশে আর শিমুলে
কিন্তু যাবতীয় পার্থিব প্রয়োজনগুলো কি মিটেছে?
পোড়ামাটির বা অসুস্থ নদীর?

উত্তাল ৫২ রক্তক্ষয়ী ৭১ আর এখন দুর্বোধ্য ২০১৮
বহুমাত্রিক জটিলতায় ভুগছি প্রতিনিয়ত এই আমি
আমার চারদিকে এখন আর মানবিক বাতি নিয়ে
বসে থাকে না অখ- প্রতীক্ষায় কেউ
যাপিত জীবন তাই এতটাই নিরর্থক
ঈশ্বর সম্ভবত অন্ধ ও বধির?

গির্জার ঘণ্টাধ্বনিতে ঘুম ভাঙে
গোপন কষ্টগুলো জেগে ওঠে মনময়
হয়ে যাই নির্ঘুম প্রহরীর মতোই আবেগহীন।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nine + 11 =