কবিতা

করেছে Rodoshee Magazine

নিরাকার
পলিয়ার ওয়াহিদ

আমি যার প্রেমে পড়ি-
তার আছে ফলের দোকান

যে আমার প্রেমে পড়েছিল-
তিনি এক মাংসের দোকানি

আমাদের ভালোবাসার যিনি মালিক-
তার আছে পাখির আড়ত
খাঁচার স্কুলে ভর্তি হচ্ছে পালক!
দয়াল আমারে দিও না তুমি ফেরত!

 

যাবতীয় প্রেমিকা
স্বরলিপি

তোমরা তোমাদের প্রেমিকদের বলো, তারা যেন পাখি উৎসবে যায়
বুকভর্তি কিচিরমিচির-পকেটভর্তি সবুজ আর চোখভর্তি নির্জনতা আনে
জ্যোৎস্নায় স্নান করায় বুকের ভেতরে থাকা পিতা ও পিতামহকে
যাদের ছিল প্রিয়তমা পতাকা।

তারা যেন উদ্যান পরিচর্যা করে
প্রয়োজনে মালভূমি ও পাহাড় রক্ষার আন্দোলনে নামে
পাতাঝরার দিনে ওড়াতে শেখে দীর্ঘশ্বাস
ফুলের ওপর থেকে তাড়িয়ে দেয় ভুল প্রজাপতি
না হলে তারা ধর্ষণমুখর হয়ে উঠবে

মনে করিয়ে দাও-
বৃষ্টির রিনরিনের কাছে ঋণ আছে
আশ্বস্ত করো- তার সমস্ত অসুখ তোমার কাছে নন্দিত কারুকাজ
ওসবসহ তুমি তাকে আলিঙ্গন করতে প্রস্তুত

তবে প্রশ্ন করো
কালো কাপড় অথবা গাঢ় মেকআপে তারা তোমার মুখের কোন দাগটি ঢেকে দিতে বলছে-
যখন তুমি আদিগন্ত হেঁটে চিহ্ন এঁকে দিতে চাও
তারা কি পুরোপুরি ভালোবাসতে শেখেনি?

 

অবয়বের তিলক
সুচিত্রা

সংগ্রামের সংগ্রামী অবয়ব
চন্দ্র, সূর্যের সাথে
মনোমালিন্য সম্পর্কে জড়িয়ে
গুটিয়ে রাখে নিজেকে
চন্দ্র তার কালো দাগ আড়াল করে
স্নিগ্ধময় জ্যোৎস্নার আলোতে
সূর্যের উত্তপ্ত-জ্বলন্ত আলোর তির্যকে
গ্রহণের কালিমা মুড়ে রাখে গোপনে
আর সংগ্রামী অবয়ব ছেঁড়া শাড়ির আঁচলে
৭১ সালের লক্ষ নরপশুর নখের আঁচড়ের দাগ
লাল টকটকে রক্তের ছাপ
সবুজ ঘাসের শিশির কণায়
ভিজে একটু ফিকে হয়ে যাওয়া
সে তো লুকানো বড় দায়
অনেক কষ্ট-লাঞ্ছনা সহ্য করে সংগ্রামী উপাধি
জয়ের পরে সংগ্রামীর কপালে
নষ্ট চিহ্ন এঁকে চিহ্নিত করা
আয়নার সামনে অবয়ব যখন দাঁড়ায়
মানিয়েছে তোমায় বড়
কপালের তিলকখানি
আঙুল উঁচিয়ে-চোখ বাঁকিয়ে
অবয়বের বিচার করে যারা
সেখানে র্নিমল-স্বচ্ছ কাচের আয়না
প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে
হায়েনার দলের নখের চিহ্নিত দাগের উপমা দেয়
সংগ্রামী অবয়ব তুমি-তোমার চিবুকে
তোমার অধরে-তোমার সারা দেহে
যে তিলক আছে
তা তোমায় করেছে অতুলনীয়
তাই তো জ্বলছে চন্দ্র, সূর্য
আর মানবজাতির দল॥

 

ছুঁই ছুঁই জলের কিনার
ফারুক সুমন

যে তুই তাকিয়ে থাকিস-
দৃষ্টি বহুদূর।
তোর চোখেই অপার আকাশ-
সৃষ্টি হবে সুর।

শুভ্রতায় ছড়িয়ে যাস
সৌন্দর্যের আলো।
এমন মৌসুমে তুই-ই বল
কে থাকে ভালো?
কত দূর চোখ তোর?
তোর চোখেই নামুক ভোর।

এখানে থেমেছে গান
নেমেছে নিঝুম নীরবতা
আদুরে সময়ের শিথানজুড়ে
আলস্যের শ্বাস।
বিগত ভালোবাসা গ্রহণে অক্ষম
পলকহীন চোখের ছায়ায়
ছুঁই ছুঁই জলের কিনার।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

seventeen + six =