কমলা হ্যারিস- নারী শক্তির মুখপাত্র

করেছে Sabiha Zaman

কিছু দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ৭৭ বছর বয়সী জো বাইডেন নির্বাচিত হন।  আর তার সাথে আমেরিকার প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন  ভারতের বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস। এই সেনেট নিজের যোগ্যতায়  যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাসের নতুন পাতায় নিজেকে যুক্ত করেছেন।

পরিবার

কমলা হ্যারিস তার আত্নজীবনী ‘দ্য ট্রুথস উই হোল্ড, অ্যান আমেরিকান জার্নি তার জীবনের নানা কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন তার মা শ্যামলা গোপালন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান আর বাবা  ডোনাল্ড হ্যারিস জ্যামাইকান আমেরিকান নাগরিক। ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর ওকল্যান্ডে তাদের ঘরে আসে কমলা আর ১৯৬৭ সালে ছোট মেয়ে মায়া।  জম্মের ৭ বছের পর বাবা মা আলাদা হয়ে যায় কমলার। ভারতে স্থায়ী না হলেও মা শ্যামলা সব সম্য চাইতেন তার মেয়েরা যেন ভারতীয় সংস্কৃতি ভুলে না যায়। তাই দুই মেয়েকে নিয়ে মাঝে মাঝেই ভারতে আসতেন।

কমলা হ্যারিসের পারিবারিক মুহূর্ত

২০১৪ সালে কামলা বিয়ে করেন ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী ডগলাস এমহফকে। কমলার নিজের সন্তান না থাকলেও স্বামী ডগলাসের আগের পক্ষের সন্তান কোল ও এলাকে নিজের পরিবার ভাবেন তিনি। তাই কমলার সাথে তাদের বিভিন্ন  রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিতে দেখা যায়।

সেকেন্ড জেন্টলম্যান

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের স্ত্রীকে বলা হয় ফার্স্ট লেডি বলা হয়। আর ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রীকে সেকেন্ড লেডি। কিন্তু প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্টের স্বামি ডগলাস  এমহফেরকেতোকে  কি বলা হবে এই নিয়ে নতুন ভাবনার সূচনা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যই নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রত্রিকাটি ডগলাসকে সেকেন্ড জেন্টলম্যান বলে সম্বোধন করেছে।

স্বামি ডগলাস  এমহফেরকেতো ও তার ছেলে মেয়ের সাথে কমলা হ্যারিস

যাত্রা পথ

কমলা হ্যারিসের পড়াশুনা হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অরথনীটিতে স্নাতক শেষ করেন। কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে বসবাস করলেও কমলার স্কুল ছিলো থাইজেন্ড ওকস স্কুল।  জীবনে বহু কিছুতেই প্রথম হয়ে নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন কমলা হ্যারিস। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন আল্যামেডা কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নি অফিসে। এর পর সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাটর্নি অফিস ও তার পর সিটি অ্যাটর্নি অব ফ্রান্সিসকো অফিসে। ২০০৩ সালে কমলা হ্যারিস সান ফ্রান্সিসকোর প্রথম নারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নির্বাচিত হন পরবর্তীতে ২০১৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১০ সালের দিকে তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাট্ররনি জেনারেল নির্বাচিত হন।

আগে থেকে রাজনীনির সাথে যুক্ত থাকলেও ২০০৩ সালে তিনি ড্রেমোক্রেটিক পার্টিতে তার কার্যক্রম বাড়াতে থাকেন। ২০১৭ সালের দিকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার জুনিয়ার সেনেটর পদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন  এবং জয় লাভ করেন।

কমলা হ্যারিস তাই জীবনের যাত্রা পথ আজ হাজারো নারীকে অনুপ্রাণিত করছে। তার যাত্রাপথ যেন শিক্ষা দিচ্ছে বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে। চেষ্টা আর ইচ্ছা শক্তির বলে তিনি আজ বিশ্ব জয় করেছেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী হয়েও। তার এই জয় যেন জাতি, বর্ণ আর লিঙ্গের বিভেদ মেটানোর এক নতুন সূচনা।

 

লেখা- সাবিহা জামান শশি

ছবি- সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

5 + four =