করোনায় ঘরের পরিচ্ছন্নতা

করেছে Sabiha Zaman

আমাদের জীবন চলাচলের পরিবর্তন এসেছে এই মহামারী করোনা ভাইরাসে। পুরো বিশ্ব যেন এই রোগের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। আমাদের দেশেও হুট করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গিয়েছে। তাই ৫ এপ্রিল থেকে আসছে ৭ দিনের লকডাউন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে ঘরে থাকলেও আমরা কতটা নিরাপদ থাকছি ঘরে এটা দেখতে হবে। তোমার ঘর রাখতে হবে জীবাণুমুক্ত। কিভাবে তোমার ঘর নিরাপদ রাখবে তা নিয়েই আজকের লেখা। তবে চলে জেনে নেই।

তোমার ঘর জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য পরিবারের সবাই হাত ধোয়ার ব্যাপারে সচেতন কিনা এটা দেখছো তো? ঘর পরিষ্কার রাখতে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সাবান বা হ্যান্ডওশাস দিয়ে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রতিবার খাবার খাওয়া, রান্না করার আগে ভালো ভাবে হাত ধুতে হবে। বাথরুম ব্যবহার করার পরে ও বাইরে থেকে আসার পরেই হাত ধুতে হবে। যদি বাসায় ছোট সদস্য থাকে তবে তাকে খাওয়ানোর আগে যিতি খাওয়াবেন তাকে অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে।

আমরা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে গেলে সাথে সব সময় স্যানেটাইজার রাখতে হবে। আমরা বাইরে গেলে অনেকেই গান শোনার জন্য নিয়মিত মোবাইল ফোন, ইয়ারফোন ব্যাবহার করছি  কিন্তু ইয়ারফোন বা মোবাইল পরিষ্কার না করেই রেখে দেই এতে করে আপনি হাত পরিষ্কার পরলেও যখন ঐ ফোন বা  ইয়ারফোন ব্যবহার করবেন সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়। তাই ঘরের ঘরে বাইরে ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করার পর টিস্যু পেপার আর স্যানেটিজার দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন আপনার ফোন আর ইয়ারফোনটি। এতে করে ঘরের জীবাণু মুক্ত থাকবেন আপনি সাথে আপনার ঘর। বাসায় এসে পরিষ্কার করুন যা বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন যেমন মোবাইলফোন, ব্যাগ, ইয়ারফোন, ঘড়ি ও চশমা এতে স্যাভলন বা স্যানেটাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখাটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাসায় যদি শিশু থাকে তাবে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। ঘরের মেঝে পরিষ্কার করার জন্য অনেকেই ব্যবহার করেন ডিটারজেন্ট পাউডার। যদি আপনি সহজে পানির সাথে ডিটারজেন্ট দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করেন সেক্ষেত্রে ভিজা অবস্থায় মেঝে অনেক পিচ্ছিল থাকবে তাই সেসময়ে ফ্লোর দিয়ে হাঁটাহাঁটি করা থেকে বিরত থাকুন অপেক্ষা করুন কখন মেঝে শুকিয়ে যাওয়ার।  এছাড়াও বাজারে বিভিন্ন জীবাণুনাশক ফ্লোর ক্লিনার  পাওয়া যায় সেগুলো পানির সাথে মিশিয়ে মেঝে রাখতে পারো জীবাণুমুক্ত। অনেকেই আবার স্যাভলন দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করেন।

এক গ্যালন পানিতে ৫ চামচ ব্লিচ দিয়েও পরিষ্কার রাখতে পারো তোমার ঘরের মেঝে। বাসায় যদি মাদুর বা কার্পেট ব্যবহার করো সেক্ষেত্রে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার রাখতে করো।  ঘরের প্রতিটি কোনা রাখতে হবে পরিষ্কার।

আমাদের ঘরের অন্যতম একটি অংশ নিয়ে থাকে আসবাবপত্র। তাই জীবাণুমুক্ত রাখুব ঘরের আসবাবপত্র। ভার্নিশ করা কাঠের আসবাব পত্র পরিষ্কার করার জন্য ভুলেও স্যানেটাইজার ব্যবহার করবেন না এতে ভার্নিশ উঠে যেতে পারে। টয়লেটের ফ্ল্যাশ, পানির কলের হাতল, দরজার নব, টিভি বা এসির রিমোট, কম্পিউটারের মাউসে সবচাইতে বেশি হাত পরে তাই এগুলো জীবাণুমুক্ত রাখার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। রিমোট আর মাউস পরিষ্কার করার জন্য পাতলা কাপড়ে বা টিস্যুতে স্যানেটাইজার বা স্যাভলন লাগিয়ে মুঝে ফেলতে পারো।

বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে আমরা ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করছি। সার্জিকাল মাস্ক একবার ব্যবহার করার পরে ফেলে দিতে হয়। আমরা হাঁচি বা কাশির সময়ে টিস্যু ব্যবহার করি। কিন্তু ব্যবহার করা মাস্ক বা টিস্যু পেপার ফেলার জন্য বাসায় রাখুব ঢাকনাযুক্ত বিন। বাইরে থেকে  আসার পরে কাপড় রোদে রেখে দিন কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা। যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে কাপড় ধুয়ে ফেলুন আর যদি পরে ব্যবহার করা জামা কাপড় ধুতে যান সেক্ষেত্রে ঢাকনা দেওয়া ময়লার কাপড়ের ঝুড়িতে জামা কাপড় রাখুন।

আমাদের ঘর জীবাণুমুক্ত রাখাটা খুব বেশি জরুরী এই সময়ে। আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে তাহলে করোনা থাকে দূরে থাকা সম্ভব। এই মহামারী মকাবেলায় পরিষ্কারের বিকল্প নেই।

লেখা: সাবিহা জামান

ছবি : সংগৃহীত

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

5 × five =