কেমন হবে পূজার সাজ-ষষ্ঠী থেকে দশমী

করেছে Sabiha Zaman

শরৎ মানেই নীল আকাশে তুলো মেঘের ভেলা, কাশফুলের মাতামাতি। প্রকৃতি এক অদ্ভুত সুন্দর রূপে সাজায় নিজেকে। এর সঙ্গে মিল রেখে চলে ঢাকঢোল আর আরতি দিয়ে দেবীবরণের আয়োজন। সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঐতিহ্য-আধুনিকতার মিশেলে ষষ্ঠী-দশমীতে পূজার সাজ নিয়ে লিখেছেন সাবিহা জামান

ষষ্ঠী ও সপ্তমী
দুর্গাপূজায় দেবী দর্শন ও পূজার মূল আয়োজন শুরু হয় ষষ্ঠী থেকেই। এদিন খুব ভারী সাজ না দিয়ে হালকাভাবেই সাজতে পারো। সিগ্ধ ভাব আনতে ন্যাচারাল নুড মেকআপ লুক খুব ভালো লাগবে। এ জন্য খুব বেশি ফাউন্ডেশন না নিয়ে শুধু কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখে সোনালি কিংবা পোশাকের সঙ্গে মিল রেশে আইশ্যাডো নিতে পারো। হালকা গোলাপি কিংবা পিচ কালারের লিপস্টিকের সঙ্গে কপালে মানানসই টিপে দেখতে বেশ ভালো লাগবে। মেকআপ শুরু করার আগে প্রাইমার দিতে ভুলবে না। কারণ, ষষ্ঠীর দিনে মন্দিরে ঘুরতে অনেকটা সময় যায়। তাই মেকআপ যাতে দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, এ জন্য প্রাইমার ব্যবহার করবে।

ষষ্ঠীতে ভারী গয়না না পরে হালকা রুপো কিংবা কপারের গয়না পরতে পারো। চুলের সাজে হাতখোঁপা কিংবা বেণি প্রাধান্য পেলেও খোলা চুলে কিন্তু বেশ ভালো লাগে। পূজায় ট্র্যাডিশন সাজ আর ওয়েস্টার্ন সাজের সংমিশ্রণে সাজে নজর কাড়তে পারো সবার। যেহেতু এখনো বেশ গরম, তাই বেছে নাও আরামদায়ক পোশাক, যাতে আরাম করে মন্দিরে যেতে পারো। পোশাক হতে পারে দেশি কিংবা পাশ্চাত্য ঢঙে। তবে সবার আগে নজর দিতে হবে তুমি কোন পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করো।

দেবলীনা সুর

অষ্টমী ও নবমী
অষ্টমীর সকালটা শুরু হয় অঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে। সাজটা হতে হবে অন্য দিনের চেয়ে ভারী, এতে ভালো লাগবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বেইস মেকআপ শুরু করে দাও। প্রথমেই মেকআপ প্রাইমার দিয়ে শুরু করো। এরপর কনসিলার ভালো কাজ করবে। এরপর ফাউন্ডেশন নেওয়ার পালা। মুখের গড়ন অনুযায়ী কন্টুরিং করতে ভুলবে না অষ্টমীতে। নয়তো সাজ অপূর্ণ থেকে যাবে। কন্টুরিং শেষে ব্লাশন।

চোখের সাজ একটু আকর্ষণীয় করো। একটু কালারফুল আইলুক। ফলস আইল্যাশ ব্যবহার করলে চোখ বড় দেখাবে। আর মাসকারা দিয়ে চোখের সাজ শেষ করো। চোখে গাঢ় রং ব্যবহার করলে অবশ্যই ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক দাও। আর ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক করলে চোখের সাজে হালকা টোন নিতে পারো। ফিক্সিং স্প্রে ব্যবহার করো সাজ শেষে এতে করে সাজ থাকবে দীর্ঘ সময়।

বাঙালিদের কাছে অষ্টমী মানে এথনিক। এটা আলাদা করে বলে দিতে হয় না। তাই সকালবেলা পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার সময় একদম বাঙালিভাবে তাঁতের শাড়িটা পরা যেতেই পারে কিংবা জামদানি অথবা বেনারসি হলেও মন্দ হয় না। আর রাতের জন্য লিলেন সিল্ক বা হ্যান্ডলুম পরতেই পারো। এ ছাড়া লেহেঙ্গা বা ক্রপ টপের সঙ্গে ম্যাচিং করে এক কালারের লং স্কার্ট পরা যেতে পারে। এতে বেশ ইন্দো-ওয়েস্টার্ন এথনিক লুক আসে।

রাফিয়াত রশিদ মিথিলা

নবমীতে সান্ধ্যপূজা হয়। আর সন্ধ্যার পর বলেই সবাই গর্জিয়াস সাজতে ভালোবাসে। জামদানি, কাতান বা সিল্কের শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ পরতে পারো। এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে চোখে কন্ট্রাস্ট আইশ্যাডো এবং ম্যাচিং করে সোনালি কিংবা রুপালি হাইলাইট ভালো লাগবে। এদিন ভারী গয়না পরতে পারো। পূজায় নবমীতে অনেকেই স্বর্ণের গয়না পরে। এ ছাড়া কুন্দন আর মুলতানি জুয়েলারিও পরতে পারো। খোলা চুলে নবমীতে বেশ ভালো লাগে। তবে হাতখোঁপা শাড়ির সঙ্গে বেশ ভালোভাবে মানিয়ে যায়।

দশমী
দশমী বিদায়বেলা এবং দশমী মানেই সিঁদুর খেলা। আর সিঁদুর খেলা মানেই লাল পাড় সাদা শাড়ি। তাঁত বা তসরের শাড়ি পড়তে পারো। আর শাড়ি না পড়তে চাইলে সাদা কুর্তির সঙ্গে লাল পাতিয়ালা প্যান্ট ও লাল ওড়না পরলে বেশ লাগবে। সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল স্বর্ণের জুয়েলারি কিংবা স্টোনের জুয়েলারি নিতে পারো।

দশমীর সাজটা হওয়া চাই গর্জিয়াস আর স্নিন্ধ। ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করার পর মেকআপ প্রাইমার দাও। মুখে দাগ অথবা চোখের নিচে জালি যেখানে রয়েছে, ঠিক সেই জায়গাগুলোতে কনসিলার দিয়ে নিতে হবে। এবার ফাউন্ডেশন বেস লাগিয়ে নিয়ে ভালো করে ত্বকের সঙ্গে মিশিয়ে নেবে। তাই চোখের সাজটা হালকা রাখো, এতে ফ্রেশ লাগবে দেখতে। দশমীতে গাঢ় রঙের লিপস্টিক নিতে পারো। এতে করে ফেস আরও বেশি হাইলাইট করবে। ব্লাশন হিসেবে হালকা গোলাপি কিংবা পিচ কালারের ব্লাশন নিতে পারো।

বিদ্যা সিনহা মিম

এরপরের ধাপে মেকআপ ফিক্সিং স্প্রে দাও। বিবাহিতরা টিপ ও সিঁদুর পরলে আরও মায়াবী দেখাবে। মুখের আকারের ওপর নির্ভর করে ছোট কিংবা বড় টিপও পরতে তবে। যদি তোমার মুখের আকার বড় হয়, তবে বড় টিপ পরলে ভালো লাগবে। আর ছোট আকারের মুখ যাদের, তারা ছোট টিপ নাও।

ছবি : দেবলীনা সুর  ও ইন্টারনেট

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

15 − 11 =