খুশকি ও করণীয়

করেছে Wazedur Rahman

সৌন্দর্যচর্চা বা রূপচর্চার প্রসঙ্গ উঠলে খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা ধরে নিই যে মেয়েদের কথাই বলা হচ্ছে। তাই ত্বক বা চুল সম্পর্কিত যে কোনো সমস্যা যে শুধু মেয়েদেরই নয়, বরং ছেলেদের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রভাব ফেলতে পারে, তা যেন আমাদের অনেকের কাছেই এখনো একটি অত্যাশ্চর্য বিষয়। কিন্তু আশার কথা এই যে আধুনিক সমাজে পুরুষের রূপচর্চার বিষয়টি মেয়েদের রূপচর্চার মতোই সাধারণ হয়ে উঠেছে।

যার কারণেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্যালুন ও স্পা, শুধু পুরুষদের সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে। এরপরও অনেকের জন্যই এসব স্যালুনে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ বিভিন্ন কারণে সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর তা ছাড়া বাইরের চর্চার চেয়ে ঘরের চর্চা শুধু যে সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক তা-ই নয়, বরং ঘরে নিয়মিত রূপচর্চা করা একান্ত প্রয়োজনীয়ও বটে।

পুরুষের ত্বক আর চুল মেয়েদের চেয়ে অনেক বেশি রুক্ষ। তাই যত্নও প্রয়োজন হয় বেশি। তবে ত্বকের চেয়ে ছেলেদের চুলের যত্নের প্রয়োজন অনেক বেশি পড়ে। এর প্রধান কারণ বিভিন্ন ধরনের জেলের ব্যবহার, রাস্তায় মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় হেলমেটের ব্যবহার, যা রোদ ও ধুলাবালি থেকে চুলকে রক্ষা করলেও প্রচুর ঘাম তৈরি করে। জমে থাকা এসব ঘাম ও প্রসাধনী বাইরের ময়লা চুলে জমা করে। মাথার ত্বক শীতকালে শুষ্ক হয়ে যায়। আর সঠিক যত্নের অভাবে এর ফলে তৈরি হয় খুশকি। শুধু শীতকালেই নয়। অযত্নের কারণে বছরজুড়েই খুশকির প্রকোপ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। রইল প্রতিরোধ ও প্রতিকারের টিপস।

 

প্রতিরোধ

খুশকি মূলত মাথার ত্বকের মৃত কোষ। মৃত কোষ সৃষ্টি না হলেই আর খুশকিজনিত সমস্যা বা ভোগান্তি কোনোটাই হবে না। তাই সবার আগে নজর দিতে হবে মাথার ত্বকের প্রতি। এ জন্য প্রয়োজন সাধারণ ত্বকের মতোই যত্ন আর চর্চা। মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত স্ক্রাবিং করা একান্ত জরুরি। ময়েশ্চারাইজেশনের তো কোনো বিকল্পই নেই। তাই চেষ্টা করো প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে।

অনেকেরই ধারণা, প্রতিদিন শ্যাম্পু করা চুলের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু একটু যত্ন করলেই সেই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। তবে বেশি সংবেদনশীল চুল হলে, একদিন পরপর শ্যাম্পু করো অথবা চুল ধোয়ার জন্য অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান যেমন মেথি, আমলকী ইত্যাদি ব্যবহার করো। শ্যাম্পু করার আগে হালকা গরম নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল পুরো মাথায় ভালো করে ম্যাসাজ করো এবং প্রতিবার শ্যাম্পু করার আগে এটি করো। সপ্তাহে অন্তত একবার টক দই, ডিম, মধু ও লেবুর মিশ্রণে তৈরি প্যাক চুলে ব্যবহার করে শ্যাম্পু করে নাও।

মাসে অন্তত দুবার মেহেদি প্যাক ব্যবহার করো। এতে শুধু যে চুলে সুন্দর প্রাকৃতিক রং তৈরি হবে তা-ই নয়, চুল হবে উজ্জ্বল ও মসৃণ। আর মাথার ত্বকের সমস্ত মৃত কোষ দূর হয়ে যাবে। রাসায়নিক রঙের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করো। হেয়ার ড্রায়ার এড়িয়ে চলো। নিয়মিত ভিটামিন ই ও ডিযুক্ত খাবার খাও এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট সেবন করো।

প্রতিকার

খুশকি হলে সবচেয়ে সাধারণ প্রতিকার ব্যবস্থা হলো অ্যান্টি-ড্যান্ডরাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা। তবে এতে করে মাথার ত্বক রুক্ষ হয়ে ওঠে। তাই সব সময় শ্যাম্পু করার পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করো। মেহেদি প্যাক খুশকির সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকরী। তাই খুশকি হলে সপ্তাহে একবার নিয়মিত মেহেদি প্যাক ব্যবহার করো। সমস্যা অতিরিক্ত হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নাও।

টিপস

  • চুলে ঘাম যথাসম্ভব জমতে দেবে না।
  • বাইরে থেকে ফিরে হালকা করে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নাও। এতে ঘাম ও ময়লা দুই-ই দূর হবে।
  • শ্যাম্পু করার পরে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করো।
  • চিরুনি ও চুলের যত্নে ব্যবহৃত অন্য সব সামগ্রী নিয়মিত পরিষ্কার রাখো।
  • খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলের প্রতি সচেতন হও।

লেখা: সোহেলী তাহমিনা 
ছবি: সংগ্রহীত 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

11 + 5 =