গিজার ব্যবহারে সতর্কতা

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

এখনও পুরোপুরি শীত না পড়লেও ভোরের দিকে হালকা শীতল বাতাস এর আগমনীর কিছুটা জানান দিয়ে যাচ্ছে। আর আসন্ন এই ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অন্যান্য অনেক প্রস্তুতির সাথে সাথে একটি গিজারেরও প্রয়োজন হয়। ইনস্ট্যান্ট গারম পানি পেতে এটা যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি নিরাপত্তার খাতিরে এর ব্যবহারেও মেনে চলতে হয় কিছু সতর্কতার।

গিজার যা ওয়াটার হিটার নামেও পরিচিত, শীতের ঋতুতে বাথরুমের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। বাইরের হিমশীতল ঠান্ডা থেকে বাঁচতে একটি বেস্ট ওয়ে হল উষ্ণ পানিতে আরামদায়ক গোসল করা। আরামের পাশাপাশি এই গরম পানিতে গোসল করার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। বলা হয় যে, হট শাওয়ার ঘা এবং ব্যথা পেশীতে ত্রাণ প্রদান করতে পারে, আমাদের ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালনকে উন্নত করতে পারে। একটি গিজারের অনেক সুবিধা রয়েছে যা পরিবারের সকলে তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যক্ষ করতে পারে।

গিজারের প্রকারভেদ

গরম করার পদ্ধতি অনুযায়ী তিন ধরনের গিজার রয়েছে-

গ্যাস গিজার

এতে এলপিজি বা তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করে পানি গরম করা গয়। একটি গ্যাস গিজার সাধারনত একটি বড় ট্র্যাঙ্কের সাথে আসে যাতে পানি থাকে এবং নিচে একটি গ্যাস বার্নার থাকে। যেহেতু এতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তাই গিজারে বিদ্যুত খরচ কার্যত শূন্য, কিন্তু এটি খুব বেশি শক্তি সাশ্রয়ী নয়। নিরাপত্তার ব্যবস্থা ঝুকিজনক বলে বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে।

ইলেকট্রিক গিজার

বর্তমানে দেশে সর্বাধিক ব্যবহৃত গিজারগুলোর মধ্যে বৈদ্যুতিক গিজার একটি। এই ধরনের গিজার বিদ্যুত ব্যবহার করে এবং গিজার বিদ্যুতের খরচের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত শক্তি সাশ্রয়ী। অন্যান্য গিজারের তুলনায় বেশি তাপমাত্রায় পানি গরম করে এবং দ্রুত কাজ করে। এই কারনে, বৈদ্যুতিক গিজার ছোট বাথরুমের জন্য উপযুক্ত।

সৌর চালিত গিজার

এতে পানি গরম করার জন্য সৌর শক্তি ব্যবহার করা হয়। এগুলো পানি গরম করার জন্য বেশ লাভজনক এবং বিদ্যুৎ খরচ ৭০% পর্যন্ত কমনো যেতে পারে। তবে এর অসুবিধা হল, যেহেতু এতে সূর্যের আলো শোষণ করে পরবর্তীতে তা বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়, তাই এর প্যানেলগুলো ইনস্টলেশন এমনভাবে করতে হয় যেখানে সারাদিনের সূর্যের আলো পেতে সক্ষম হবে। আবার বর্ষা বা শীত ঋতুতে যেমন সূর্যালোক পাওয়া যায়না তখন পানি গরম করাও কঠিন হতে পারে।

স্টোরেজ অনুসারে গিজার আবার দুই ধরনের-

ট্যাঙ্ক গিজার

নাম অনুযায়ী, এই ধরনের গিজারে পানি সঞ্চয়ের জন্য বড় ট্যাঙ্ক থাকে। পানি গরম করা হয়,  তারপর ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করা হয় এবং ট্যাঙ্কের ভেতরে পানির তাপমাত্রা বজায় রাখা হয়। যেহেতু স্টোরেজ ট্যাঙ্কের ভেতরে পানির তাপমাত্রা বজায় রাখতে হয়, তাই এই গিজারের বিদ্যুৎ খরচ সবচেয়ে কার্যকর নয়।

ট্যাঙ্ক-লেস গিজার

এই গিজারগুলো তাৎক্ষণিক বৈদ্যুতিক ওয়াটার হিটার নামেও পরিচিত। এতে পানি সঞ্চয়ের জন্য কোন ট্যাঙ্ক থাকেনা, যখন প্রয়োজন তখনই পানি গরম করে সরবরাহ করতে পারে। এটি এমন এক ধরনের গিজার যা ছোট বাথরুমের জন্য উপযুক্ত।

গিজারের সুরক্ষা টিপস

স্বস্তিতে গোসল করতে পারা এবং আরও অনেক সুবিধার পাশাপাশি, এটি নিরাপদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং যত্নের প্রয়োজন। পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে এই ওয়াটার হিটার সুরক্ষা টিপস দেয়া হল।

সঠিক আকার নির্বাচন

এটা নিশ্চিত করতে হবে যে ওয়াটার হিটারটি বাসার জন্য সঠিক আকারের। খুব বড় বা খুব ছোট থাকা নিরাপত্তাগত বিপদ হতে পারে এবং তা সামগ্রিক আরামকে প্রভাবিত করতে পারে।

তাপের ক্ষতি রোধ

অন্তরক দ্বারা তাপ ক্ষতি রোধ করতে এবং ইউনিট রক্ষা করতে পারা যায়। অতিরিক্ত পুরু নিরোধক নির্বাচন করলে তা পানিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য গরম রাখবে, এবং এতে অর্থ সাশ্রয় হবে।

সঠিক তাপমাত্রা সেট

নিরাপত্তা এবং আরামের জন্য, গরম পানির হিটারের তাপমাত্রা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে সেট করা ঠিক নয়।

ভালোভাবে বন্ধ করা

ব্যবহারের পর তা ভালোভাবে বন্ধ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। আগুনের বিপদ হ্রাস করতে এর ১৮’’ এর মধ্যে যে কোন দাহ্য পদার্থ আনা ঠিক হবেনা।

কিডস ফ্রি জোন

এর নব এবং বাটন রয়েছে যা বাচ্চাদের আগ্রহের বিষয়বস্তু হতে পারে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখা উচিৎ।

সেফটি রিলিফ ভালভ পরীক্ষা করা

অতিরিক্ত চাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রার ক্ষেত্রে গিজার সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করতে বছরে অন্তত একবার এক্সপার্টদের দ্বারা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেয়া উচিৎ।

পেশাগত রক্ষণাবেক্ষণ

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে হিটার বহু বছর ধরে সার্ভিস দিতে পারে। যখনই মনে হবে যে এর কিছুটা চেক করা দরকার তা উপক্ষা না করে পেশাগত কারো কাছে চেক করে নিতে হবে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × five =