গোলমরিচের গুণাগুণ

করেছে Sabiha Zaman

কেবল স্বাদ নয়, স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেও খাবারে গোলমরিচ দিতে পারো একেবারে নিশ্চিন্তে। শরীরের অনেক দরকারি গুণই এতে পাক্কা । খাবারে একটুখানি গোলমরিচের গুঁড়ো পড়লেই অনেক বিস্বাদ খাবারও খেয়ে ফেলা যায়। বিশেষ করে স্যুপ হোক বা ডিম সেদ্ধ, ওপরে একটু ছড়িয়ে নিলে খাওয়ার স্বাদই বেড়ে যায়। আবার কোনো চায়নিজ রেস্তোরাঁয় খেতে গেলেও নুডলসের সঙ্গে একটু গোলমরিচ না হলে চলে না। কিন্তু শুধুই কি স্বাদ বাড়াতে সক্ষম গোলমরিচ? তা কিন্তু নয়। গোলমরিচে এমন কিছু রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মহৌষধির মতো কাজ করে। তাই কেবল স্বাদ নয়, স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেও খাবারে গোলমরিচ দাও।

সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে গোলমরিচ অত্যন্ত কার্যকরী, কিন্তু তা ছাড়াও গোলমরিচের বেশ কিছু উপকার রয়েছে। কোনো কোনো অসুখে মহৌষধির মতো কাজে লাগে গোলমরিচ তা কি জানো?

ত্বকের রোগ থাকলে তার চিকিৎসায় কাজে লাগে গোলমরিচ। গোলমরিচ গুঁড়ো করে, স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারো। এতে ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর হয়। ফলে ত্বকে সহজে অক্সিজেন চলাচল করতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালন হয়। পিগমেন্টেশন ও অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে গোলমরিচ। গোটা মরিচের খোসা অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ফলে গোলমরিচ দিয়ে খাবার বানাও। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরবে সহজেই।

গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে। কারণ, এটি পেটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বাড়ায়। হজম ঠিক থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়ার মতো সমস্যাকে এড়ানো যায়। হজমের সমস্যা থেকে অনেক রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে সেগুলো এড়ানো যায়।
যারা অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করে তাদের জন্য গোলমরিচ খুবই উপকারী। গোলমরিচ তেলের গন্ধ নিয়মিত সেবন করো। অথবা সরাসরিভাবে গোলমরিচ খেলেও ধূমপানের প্রতি আসক্তি কমবে অনেকটাই।

দাঁতে ক্যাভিটি বা ব্যথা থাকলে মুখে গোলমরিচ রাখতে পারো। ব্যথা নিরাময় করতে গোলমরিচ সাহায্য করে।
নাক বন্ধ থাকা, হাঁপানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি দিতেও গোলমরিচের জুড়ি মেলা ভার। এক কাপ গরম পানিতে এক টেবিল চামচ গোলমরিচ এবং দুই টেবিল চামচ মধু দিয়ে খেলে শ্লেষ্মা দূর হবে। গলাব্যথা কমবে।
গোলমরিচ খেলে শরীর গরম হয়ে ঘাম বেশি হয়। ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন কমতে থাকে। ফলে ত্বক ভালো থাকে ও ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

লেখা : রোদসী ডেস্ক

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

ten + 15 =