ঘরেই বিয়ের সাজ

করেছে Sabiha Zaman

বিয়ে মানে কেবল বিয়ে নয়, একটা স্বপ্ন। বিয়ের দিনে সব মেয়েই চায় সবচেয়ে সেরাভাবে সাজতে। বিয়ের সেরা সাজের জন্য সেরা পারলারগুলোয় ধুম লেগে যায় বিয়ের মৌসুম এলেই। বিয়ের পোশাক আর সাজ নিয়ে ছোট থেকেই প্রায় সব মেয়ে নানান পরিকল্পনা করে। কিন্তু সব সময় ভাবনার সঙ্গে বাস্তবের মিল হয় না। অনেক সময় দেখা যায় ঘরেই ছোট পরিসরে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। আবার অনেকের আকদের আয়োজন ঘরেই সেরে নেওয়া হয়। কিন্তু তাই বলে কি কনে সাজে কম্প্রোমাইজ করলে চলবে না। চাইলে ঘরেই ব্রাইডাল মেকআপ সম্ভব খুব সহজেই। ঘরে বিয়ের সাজ নিয়েই রোদসীর আজকের আয়োজন। লিখেছেন সাবিহা জামান_

বেস মেকআপ :

ময়েশ্চারাইজার

ব্রাইডাল মেকআপ শুরু করার আগে বেসিক তৈরি করতে হবে। প্রথমে ভালোভাবে ফেস পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার দিয়ে মুখ ও গলা ময়েশ্চারাইজ করে নাও।

প্রাইমার

ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে। কারণ, এটি মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। যেহেতু বিয়ের সাজ আর দীর্ঘ সময় নিয়েই সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠান চলে, তাই ব্রাইডাল প্রাইমার ছাড়া মেকআপ করা চলবে না।

চোখের জন্য প্রাইমার
ভুলে গেলে চলবে না বেস তৈরি করার সময় চোখের দিকেও নজর দিতে হবে। ব্রাইডাল মেকআপের জন্য আইলিড প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে।

চোখের ব্রাইডাল মেকআপ :


ভুরু : চোখে মেকআপে ভুরু থেকেই শুরু করো। বাজারে বিভিন্ন ভালো ব্র্যান্ডের ভালো আইব্রো কিট পাওয়া যায়, এগুলোর দাম ৫০০ থেকে শুরু হয়। চোখের সাজ শুরু করার আগে ভুরু হাইলাইট করা জরুরি। এ জন্য ভুরুতে আইব্রো কিট দিয়ে হাইলাইট করে নাও।

ছবি: রেড স্টুডিও অ্যান্ড স্যালুন

আইশ্যাডো : চোখের সাজ আইশ্যাডো ছাড়া পূর্ণতা পায় না। ব্রাইডাল মেকআপে আইশ্যাডোর কালার সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে বিয়ের পোশাকের সঙ্গে মিল রাখো। আইশ্যাডোর ওপরে বুভার করতে পারো গ্লিটার। এতে করে চোখ আরও বেশি হাইলাইট হবে।

আইলাইনার ও কাজল : চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে আইলাইনার আর কাজল না হলেই নয়। ফেসের সঙ্গে মিল রেখে আইলাইনার ব্যবহার করো। চোখ বড় দেখানোর জন্য হোয়াইট বা সাদা কাজল ব্যবহার করতে পারো।

মাসকারা : মোহনীয় চোখের সাজে মাসকারা মিসিং থাকলে চলবে না। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাসকারা পাওয়া যায়। ব্রাইডাল সাজের জন্য কার্ল মাসকারা বেছে নিতে পারো। এতে করে চোখের পাপড়ি অনেক বড় দেখাবে আর ফেসের সঙ্গে মানিয়ে যাবে।

আইল্যাশ : হাল আমলে আইল্যাশ বেশ জনপ্রিয়। যদি আই ল্যাশ পরে কমফোর্টেবল থাকো, তবে চোখের পাতা ঘন করতে আইল্যাশ লাগাতে পারো। চোখের মাপ অনুযায়ী আইল্যাশ নির্বাচন করো। তবে যদি আইল্যাশ ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করো, সে ক্ষেত্রে ভালো ব্র্যান্ডের কার্ল আইশ্যাডো বেছে নাও।

ফেস মেকআপ
ফাউন্ডেশন : বিয়ের আগে সঠিক ফাউন্ডেশনটি খুঁজে বের করা উচিত। ত্বকের কালারের থেকে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন শেড বেছে নাও। শেড ভুল হলে ভালো ব্রাইডাল মেকআপ সম্ভব নয়। আর এতে বিয়ের মতো একটি বিশেষ দিনে তোমার ছবি বাজে আসবে।
ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করার জন্য ভালো স্পঞ্জ ব্যবহার করো। তুমি যত ভালো ব্লেন্ড করবে, মেকআপ দীর্ঘক্ষণ লং লাস্টিং করবে।

কনসিলার : ব্রাইডাল মেকআপের জন্য ভালো ব্র্যান্ডের কনসিলার বেছে নিতে হবে। কনসিলার ডার্ক সার্কেল কভার করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ত্বকের দাগ স্পট ঢাকতে কনসিলারের জুড়ি নেই। ফাউন্ডেশনের মতো কনসিলার নির্বাচন করার সময় শেড ম্যাচ করতে হবে।

ছবি: ছায়াছাবি

ব্লাশন : মেকআপ কমপ্লিট করতে ব্লাশন অনিবার্য। বিভিন্ন কালারের ব্লাশন পাবে তোমার ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে ব্লাশন নির্বাচন করো। তবে খুব বেশি ব্লাশন লাগানো উচিত নয়।

কমপ্যাক্ট পাউডার : সবশেষে কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করতে হবে। কমপ্যাক্ট পাউডার কেনার আগে স্কিন টোনের সঙ্গে মিল রেখে কিনবে। মূলত কমপ্যাক্ট পাউডার মেকআপ ব্রাইট করে। এর সঙ্গে মেকআপ স্কিনে ভালোভাবে বসতেও সাহায্য করে। অবশ্যই ভালো মানের কমপ্যাক্ট পাউডার নির্বাচন করো, যাতে করে মেকআপ লং লাস্টিং করে। এবং অনেকক্ষণ পর্যন্ত মেকআপ টিকিয়ে রাখবে। তবে কমপ্যাক্টটি দামি কিনবে।

লিপস্টিক : ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়ার আগে ভালোভাবে ঠোঁট ময়েশ্চারাইজার নিতে হবে। লিপলাইনার ব্যবহার করতে ভুলবে না। এতে করে ঠোঁট আরও আকর্ষণীয় লাগবে। এবার লিপস্টিক দেওয়ার পালা। ব্রাইডাল মেকআপের জন্য ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করো। কারণ, এটি দীর্ঘ সময় ঠোঁটে থাকবে। পোশাকের সঙ্গে মানানসই সঠিক লিপস্টিক কালার চয়েস করবে।

সেটিং স্প্রে : মেকআপ শেষে ভালো ব্র্যান্ডের সেটিং স্প্রে দাও। সেটিং স্প্রে মেকআপ লং লাস্টিং করে। তবে খুব কাছ থেকে কখনো সেটিং স্প্রে দেবে না। এতে করে স্প্রের দাগ থাকবে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four + 3 =