ঘর পরিষ্কার রাখার সহজ কিছু টিপস

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

মানুষ অভ্যাসের দাস। তোমার অভ্যাস নির্ধারণ করে ঘর পরিষ্কার কিংবা অগোছালো কিনা। এটি পরিষ্কার করার জন্য প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনা। ছোট ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই তোমার ঘর থাকবে পরিষ্কার ও সুসংগঠিত

বলা হয়, যখন তোমার চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকে তখন তুমি খুশি অনুপ্রাণিত এবং সুস্থ বোধ করো। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার শেষে একটি পরিপাটি ও গোছানো ঘর মুহুর্তেই আমাদের মন প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। যদিও ঘর পরিষ্কার এবং সংগঠিত রাখা একটি খুব বড় কাজ। একটি সুশৃঙ্খল বাড়ির গভীর পরিচ্ছন্নতার পেছনে অজস্র সময় এবং শ্রম জড়িত থাকতে পারে,  কিন্তু আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করাটা উপভোগ করেনা এবং প্রতিদিন তা নিয়মানুযায়ী পুনরাবৃত্তি করাও চাট্টিখানি কথা নয়। তাহলে এখন উপায়? এক্ষেত্রে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারো। নিশ্চিত থাকো, যত বেশি এগুলো তুমি অনুসরণ করবে, এটি তত সহজ হবে।

চলো শুরু করি!

তোমার বিছানা গোছাও

অনেকের কাছেই বিছানা গুছানো সময়ের অপচয় মনে হয়, যেহেতু আবার সেই বিছানায় ফিরে আসবে। কিন্তু এটি সত্যিই একটি বড় পার্থক্য করে যে ঘরটি কতটা পরিপাটি দেখায় মাত্র কয়েক মিনিট সময় ব্যয়ের মাধ্যমে। এছাড়াও, সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছানো একটি সফল এবং সংগঠিত জীবনের সাথে সরাসরি জড়িত। তোমার দিনটি নিখুঁতভাবে শুরু করতে, বিছানা তৈরি করা থেকে শুরু করো। প্রতিবার দিনের বেলায় সুন্দরভাবে তৈরি বিছানা দেখতে এবং রাতে সেই পরিপাটি বিছানায় নিজেকে এলিয়ে দিতে অনেক ভালো লাগবে। এক সমিক্ষায় দেখা গেছে, যারা তাদের বিছানা তৈরি করে তাদের নিয়মিত রাতে ভালো ঘুম পাওয়ার সম্ভাবনা ১৯% বেশি। প্রতি সপ্তাহে বিছানার চাদর বদলাও, যা তোমার ঘরকে পরিষ্কার এবং ফ্রেশ লুক দিবে।

কখনোই খালি হাতে রুম ছাড়বেনা

ঘরের রুমগুলোতে যে মেসি বা বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয় তার পরিত্রাণের জন্য এটি হল সর্বোত্তম উপায়। এই অভ্যাসের বড় সুবিধা হলো এটি কোনও অতিরিক্ত সময় নেয় না। ভেবে দেখো, আমরা অনেক সময় এমন অনেক জিনিস অনাকাঙ্ক্ষিত স্থানে পেয়ে থাকি; যেখানে এটি অন্তর্ভূক্ত নয়। সিঁড়িতে জুতা, বাথরুমে খেলনা, নোংরা রান্নাঘরের তোয়ালে যা ওয়াশিং মেশিনে যেতে হবে। সুতরাং কখনই একটি ঘর খালি হাতে না ছাড়ার অভ্যাসের অর্থ হল তুমি যখনই যেই রুমেই যাওনা কেন সেখানকার জিনিসপত্র তার সঠিক গন্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। সবকিছুই যথাস্থানে থাকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ঘর সহজেই পরিপাটি থাকবে।

প্রতিদিন থালাবাসন ধোয়া

রাতে সিঙ্কে থালাবাসন জমিয়ে রাখা অস্বাস্থ্যকর। শুধু তাই নয়, নিয়মিতভাবে থালা বাসন ধোয়া রান্নাঘরকে সব সময় পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখতে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই সারারাত সিঙ্কের কাছে এঁটো থালা বাসনের লোড না রেখে সন্ধ্যায় বা রাতেই সব পরিষ্কার করে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের মাঝে এইসব কাজ ভাগ করে দিলে সহজেই সবকিছুর সমাধা হয়ে যায়।

১ মিনিটের নিয়ম

এই অভ্যাসের অর্থ হলো মূলত যে কোনও কিছু যা এক মিনিটেরও কম সময়ে করা যায়, সে সব কাজ করা দিয়ে শুরু করতে পারো। এই কাজ সম্পাদন অতি দ্রুত হয়ে যায়, তাই এতে বিরক্তবোধের সৃষ্টি হবেনা।

প্রতিদিনকার লন্ড্রি সামলানো

প্রতিদিনই আমাদের টুকটাক কাপড় ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এটি একটি অনিবার্য কাজ। কাপড় ধোয়ার এই কাজটি যদি ধারাবাহিকভাবে সম্পাদন করে ফেলা যায় তবে উইকেন্ডে এটি কোন একচেটিয়া স্তূপের সৃষ্টি করবেনা।

রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা

কুটা-বাছা, রান্না করা এসব কাজে রান্নাঘরে অনেক এলোমেলো অবস্থার সৃষ্টি হয়। রান্নার সময় মশলার কৌটা, ঢাকনা, চামুচ এগুলো ব্যবহারের পর যত্রতত্র না রেখে কাউন্টার টপে রেখে দিতে হবে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বাড়তি প্লেট, বাটি সব ধুয়ে ফেলতে হবে। ময়লা আবর্জনা পরে ফেলে দিব বলে না জমিয়ে রেখে তৎক্ষণাৎ সরিয়ে ফেলতে হবে। সবকিছুর শেষে চুলার আশপাশ, সিঙ্ক সব ধুয়ে মুছে রাখলে দেখতে ভালো লাগবে।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস অপসারণ

আমাদের প্রায় সবার কাছেই এমন কিছু জিনিস থাকে যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে। এটি কেবল পরিবেশের জন্নইখারাপ নয়, আমাদের মঙ্গলের জন্যও দূর্দান্ত নয়। কারণ এই সমস্ত জিনিসগুলো সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলতা এবং অব্যবস্থাপনার দিকে পরিচালিত করে। অতএব, ক্রমাগত ডিক্লাটার করার অভ্যাস হল তোমার ঘরকে পরিষ্কার ও সংগঠিত রাখার আরেকটি শক্তিশালী অভ্যাস। জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার সময় নিজেকে প্রশ্ন করতে পারোঃ

-এটি কি ব্যবহার করবে?

-তোমার এটির প্রয়োজন আছে?

-তুমি কি এটি পছন্দ করো?

যদি উত্তর হ্যাঁ না পাও তবে সেক্ষেত্রে তা অপসারণ করো।

উপভোগ্য করে তোলো

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজটি আমাদের কাছে অনেক ক্লান্তিকর মনে হয়। তাই পরিষ্কার করা যতটা সম্ভব আনন্দদায়ক করা আমাদের ভাল পরিষ্কারের অভ্যাস বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করতে সাহায্য করে। এটি করার একটি উপায় হল যাকে কাপলিং বা পেয়ারিং বলা হয়। অর্থাৎ, তুমি এমন কিছুর সাথে একটি উপভোগ্য কাজ জুটাও যা তুমি নিজে করার চেষ্টা করেছো। ক্লিনিং এর যখন কাজটি করবে তখন পাশাপাশি তোমার প্রিয় কোন মিউজিক ছেড়ে দিতে পারো। অথবা টিভিতে তোমার প্রিয় কোন শো দেখতে দেখতে কাজ করতে পারো। দেখবে সব নিমিষেই কমপ্লিট হয়ে যাবে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

6 − 2 =