চল্লিশ পার করেছি তো

করেছে Rodoshee

চল্লিশ চালসে কি না তা নিয়ে গান, গল্প, কথকতা থাকলেও এ বয়স অভিজ্ঞতার, সফলতার ও পূর্ণাঙ্গতার। জীবনের এতটা পথ পাড়ি দিয়ে চল্লিশে তোমার অভিজ্ঞতার ঝুলি পরিপূর্ণ। চলার পথে আছে তোমার অনেক। তবে জেনে রেখো চল্লিশের বন্ধুরা, এ বয়সেই হয় নতুন শুরু। নানা সফলতা, ব্যর্থতার স্মৃতিও মনে উঁকি দিয়ে যায়। তবে যদি চল্লিশ তোমায় ভাবায় বয়স নিয়ে জেনে রেখো বন্ধু, বলতে না পারা অনেক কথা, থেকে যাওয়া সব স্বপ্নরা ডানা মেলতে পারে এ বয়সেই। সম্প্রপ্রতি চল্লিশে পা দেওয়া টাইটানিক খ্যাত অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট জানিয়েছেন, বয়সটা তার কাছে কোনো বিষয়ই নয়। বরং এখন থেকে আরও কাজে এনার্জি পাবেন তিনি।’ নিকোল কিডম্যানের কাছে বয়সটা শুধুই একটা সংখ্যা। এ ছাড়া ম্যাডোনা, ঐশ্বরিয়া রাই, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি কিংবা সালমা হায়েকের মতো তারকারা এ বয়সেই বিশ্ব মাতাচ্ছেন। লিখেছেন লিহান লিমা।

কী বিষাদে ভুগছ তুমি?
এতটা বসন্ত পার করেছে, কেটে গিয়েছে কত বর্ষা, আছে বিষাদ, চাপা কষ্ট, ক্লান্তি, ক্ষোভ। এ সবকিছু মোকাবেলা করে সুখের সন্ধান পাওয়া কি খুব কঠিন? পারিবারিক, ব্যক্তিগত, সামাজিক কারণে এ বয়সে তুমি হতে পারো বিষাদগ্রস্ত, ভুগতে পারো হতাশা কিংবা বিষণ্নতায়। হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানী ড্যান গিলবার্ট বলেন, ‘সুখ তোমাকেই সংশ্লেষণ করতে হবে।’ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সুখ মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। এটি অনেকাংশেই মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অনুভূতি, যা জেনেটিক্যালি প্রভাবিত এবং জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অ্যামি মেরিনের মতে, ‘একাকী সময় একাকিত্ব আনে না, নিজেকে জানতে সহায়তা করে। চাইলেই ইতিবাচকভাবে বাস্তবতা গ্রহণ করে তুমি হতে পারো সুখী।’

হাসো প্রাণ খুলে
চল্লিশের প্রিয় বন্ধু। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তোমার আছে অনেক সাফল্য-ব্যর্থতার গল্প। উপভোগেরও আছে অনেক কিছু। হাসিতে জীবনের এই পর্যায়কে অন্য রকমভাবে উপভোগ করতে পারো তুমি। গবেষকেরা হাসির ১৮ রকম উপলক্ষ খুঁজে বের করেছেন। তাদের কাছে এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে স্বতঃস্ফ‚র্ত আনন্দের হাসি ও নকল হাসি। নকল হাসিকে গবেষকেরা নাম দিয়েছেন বিমানবালা হাসি বা সৌজন্যের হাসি। তুমি এখন অনেক কথাই মুখ ফুটে বলতে পারো। লোক দেখানো নয়, প্রাণখোলা হাসি এ বয়সে তোমাকে রাখবে আরও প্রাণবন্ত। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার অধিবাসী রস মেইনের অর্ধেক মুখ বেলস পালসি নামক ব্যাধির কারণে প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। অর্ধেক মুখে হাসতে পারতেন বলে তিনি পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলেন। মধ্য আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল মনোবিজ্ঞানী গবেষণায় দেখেন, হাসি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, মনকে প্রফুল্ল ও সদা সতেজ রাখে। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়। এ ছাড়া দুশ্চিন্তা ও একাকিত্ব কমিয়ে শরীরকে দেয় প্রশান্তি।

বয়স কি বলছে কথা?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়স যত বাড়তে থাকে, হৃদরোগের আশঙ্কাও তত বাড়তে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি হয় চল্লিশ বছর বয়সে এসে বা তার পরে। নারীদের মধ্যে মেনোপজ বন্ধের পর হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়তে থাকে। অধিকাংশ নারীরই মেনোপজ ৪০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়। এই সময় হরমোনের অনেক পরিবর্তন হয়। মেনোপজকালীন ডিম্বাশয় ইস্ট্রোজেন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। যদি ১২ মাস একটানা পিরিয়ড বন্ধ থাকে, তবে এটি মেনোপজের প্রাথমিক কাল হতে পারে। হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মেনোপজের সময় ঘড়ি শুরু হওয়ার সময় শরীর জ্বালাপোড়া করা, ঘুমের অসুবিধা, অনিদ্রা, অনিয়মিত পিরিয়ড, ভ্যাজাইনায় অস্বস্তি, হাড়ের ক্ষয়, হৃদরোগের ঝুঁকি, মাথাব্যথা, চুল পড়া মেজাজের ওঠানামার মতো বিষয়গুলো দেখা যায়। বায়োলজিক্যাল ক্লর্ক তার ঘণ্টাধ্বনি বাজালেও চল্লিশেই তুমি থাকতে পারো সুস্থ ও প্রাণবন্ত। বাগান করা, গান শোনা, ডায়েরি লেখা কিংবা পছন্দের কোনো প্রাণী পোষা তোমায় দেবে মানসিক স্বস্তি। চাইলেই বেড়িয়ে আসতে পারো পছন্দের কোনো জায়গায়। চল্লিশে জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিতে নয়, যেমনটা তুমি ভাবছ, যেভাবে তুমি জীবন কাটিয়ে এসেছ, আয়নায় নিজেকে তুমি যেভাবে দেখতে চাও সেভাবেই বয়সের সৌন্দর্যকে উপভোগ করো।

ঝালিয়ে নাও রোমাঞ্চ
বয়সের এ পর্যায়ে প্রেম, ভালোবাসা, দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে অনেকেই হাল ছেড়ে দেয়। অথচ এই বয়সে এসেই সম্পর্ককে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যান্য বিষয়ের মতো গুরুত্ব পাক যৌনতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঙ্গীর সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত থাকার একটি অন্যতম উপায় হলো সক্রিয় যৌনজীবন। এ সময় মস্তিষ্ক নিঃসরণ করে অক্সিটোনিন যা সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধন দৃঢ় করে। এটি অবশ্যই ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। এ ছাড়া প্রত্যেক মনোবিজ্ঞানী মনে করেন, নিয়মিত যৌন অভ্যাসের কারণে ঘুম ভালো হয়, ক্লান্তি দূর হয়, মন ভালো থাকে, যা সহজে বার্ধক্য নিয়ে আসতে পারে না। তবে মেনোপজের কারণে এ বয়সে হরমোনাল সমস্যা দেখা যাওয়ায় নারীরা যৌন সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত থাকে। সামাজিক মনোবিজ্ঞানী এমি মুইজা বলেন, সপ্তাহে একবার যৌনমিলন দম্পতির মধ্যে ভালোবাসা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট। কানাডায় ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২ হাজার ৪০০ জনের ওপর জরিপ চালিয়ে উঠে এসেছে, তারা অত্যন্ত সক্রিয় যৌন জীবনযাপন করেন এবং একই সঙ্গে তা উপভোগও করেন পূর্ণমাত্রায়। শতকরা ৬৩ ভাগের মতে, তারা যৌনজীবনে অভিনবত্ব আনার ব্যাপারেও যথেষ্ট এগিয়ে এবং নিজেদের ‘অ্যাডভেঞ্চারাস’ বলেও দাবি করেছেন তারা। এ ছাড়া দারুণ কোনো রোমান্টিক ডেট, ক্যান্ডাল লাইট ডিনার কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া তোমাকে রাখবে ফুরফুরে, প্রাণবন্ত।

চল্লিশের মুখশ্রী
রুটিনের ফাঁদে নিজেকে আটকে ফেলা নয়। চাকরি, দাম্পত্য, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, জীবনযাপন, হিসাব কষে দেখো এ বয়সে তুমি ভালো আছ কি না। এ বয়সে তুমি মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। পিছুটানগুলোকে মোকাবেলা করতে জানো। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের ঝুলিও তোমার অনেক। নিজের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুবর্ণ মুহূর্ত এখন। তাই হাসি-আনন্দে জীবন সাজানোর কোনো সুযোগই হাতছাড়া করা উচিত নয়। এত দিনে তোমার রয়েছে অনেক ত্যাগ, এবার একটু নিজেকে দাও সময়। ব্যয় করো নিজের জন্য। ভালো থাকো তুমি নিজের জন্য। বেছে নাও তেমন জীবন, যা তুমি চাও। উপভোগ করো তোমার আজকের অবস্থানকে। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করো। পূরণ না হওয়া অনেক শখকে জীবনে জায়গা করে দিতে পারো নতুন করে। সেটি হোক নাচ, গান, স্কেটিং, ছবি আঁকা, সাইক্লিং কিংবা অন্য কোনো ভালো লাগার জায়গা।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

19 − eight =