চাহিদা বাড়ছে অনলাইন বিজ্ঞাপনে

করেছে Suraiya Naznin

করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি কয়েক বছর পিছিয়ে পড়েছে। এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে আরও কত বছর লাগবে, তার ইয়ত্তা নেই। বাংলাদেশের প্রতিটি খাত থমথমে এখনো। এই ভালো তো আবার সব ঝড়ের মতো উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলো যেন দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল বিজ্ঞাপন কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। কথা হলো ‘প্রচিত’ বিজ্ঞাপন সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর রওশনয়ারা জামান মিলির সঙ্গে। তিনি জানালেন বিজ্ঞাপন সংস্থার বর্তমান অবস্থা এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুরাইয়া নাজনীন-

বর্তমানে বিজ্ঞাপনের অবস্থা
বর্তমানে বিজ্ঞাপনের অবস্থা নিয়ে রওশনয়ারা জামান মিলি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলতে হয়, তাহলে আমি বলবো আমরা ৫০ শতাংশ হারে পিছিয়ে পড়েছি। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মানুষ ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের দিকে বেশি ঝুঁকেছে এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপন কী এটা বুঝতে শুরু করেছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রিন্ট বিজ্ঞাপনগুলোর হার কমতে শুরু করেছে।

রওশনয়ারা জামান মিলি

ক্লায়েন্ট এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের যোগসূত্র
শুরুতে ক্লায়েন্টরা বুঝে উঠতে পারছিলেন না ডিজিটাল বিজ্ঞাপন আসলে কী জিনিস। আর তারা ভাবছিলেন অনলাইন বিজ্ঞাপনে বোধ হয় কোনো লাভ হবে না। কয়জনই-বা দেখবে। শুধু শুধু বিজ্ঞাপন দিয়ে কোনো ক্রেতা পাওয়া যাবে না। নানান কিছু। কিন্তু আমরা তাদের বলেছি, যে টাকা আপনি প্রিন্টে খরচ করবেন, তার চেয়ে কম টাকাতেই আপনি মানুষের কাছে আপনার প্রোডাক্ট পৌঁছাতে পারবেন এই অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। তারপর হয়তো সবাই আস্তে আস্তে ডিজিটাল বিষয়টি আসলে কী সেটা বুঝেছেন, মাঠ জরিপ করেছেন। এখন অনেক ক্লায়েন্টই অনলাইন বিজ্ঞাপনে আগ্রহী হয়েছেন। আরেকটি বিষয় হলো প্রিন্ট বিজ্ঞাপনে যেমন গ্রাহক বা ক্রেতাকে বারবার নক করার বিষয়টি হয়ে ওঠে না, তবে অনলাইন বিজ্ঞাপনের জন্য এটা খুব কার্যকরী।

তবু প্রিন্ট বিজ্ঞাপনের আবেদন থাকবেই
অনলাইন ভার্সন হয়েছে, হচ্ছে, হবে। কিন্তু প্রিন্টের আবেদন যেন যুগান্তকারী। অনেকেই আছেন, যারা অনলাইনে আগ্রহী কিন্তু প্রিন্ট ছাড়া কিছু বুঝছেন না। তাদের ফ্রন্ট পেজ, ব্যাক পেজের রসায়ন থাকবেই। পত্রিকা ওল্টানোর মজা, চা খেতে খেতে পত্রিকা দেখার অভ্যাস এখনো অধিকাংশ মানুষের রয়েছে। সে জন্য প্রিন্ট বিজ্ঞাপনের আবেদনও থাকবে বলে মনে করেন রওশনয়ারা জামান মিলি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন কি কখনো কখনো বিরক্তির কারণ হয়?
এই প্রশ্নে রওশনয়ারা জামান মিলি বলেন, যখন অনলাইনে কেউ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে, তখন বিজ্ঞাপন বারবার সামনে এলে কিছুটা বিরক্তি লাগে কিন্তু সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে মনের অজান্তেই একটি ধারণা তৈরি হয়। এটা বিজ্ঞাপনদাতার জন্য ইতিবাচক। তবে বিরক্তির জায়গাটি আগে থাকলেও সেই ধারণা এখন অনেকটা বদলেছে। মানুষ অজানাকে জানার চেষ্টা করছে।

কমেছে বিজ্ঞাপনের হার
বর্তমানে যেহেতু ডিজিটাল যুগ চলছে বা ভবিষ্যৎ একেবারেই ডিজিটালপন্থী, সে ক্ষেত্রে কিছু কিছু জায়গায় প্রিন্ট বিজ্ঞাপনের হার কমেছে। তার কারণ হিসেবে যদি বলতে হয়, আমি বলব অনেকে আছে যারা ভেতরের পেজগুলো যেমন সাদা-কালো পেজে বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী হন না। তারা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের দিকে টার্ন করছে, বললেন রওশনয়ারা জামান মিলি।

করোনার আগে পত্রিকা ভরা বিজ্ঞাপন থাকত
করোনার আগে বিজ্ঞাপনের চাপ ছিল প্রচুর পরিমাণে। করোনা এসে মানুষ যখন ঘরবন্দী হলো। করার কিছুই নেই। এক ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমই ভরসা। কাজকর্ম, মিটিং, আলোচনা, পর্যালোচনা সবই অনলাইনে শুরু হয়েছে। আমরা তখন থেকেই আসলে অনলাইনের প্রতি এতটা নির্ভরশীল হয়েছি। করোনার কারণে যেমন বিজ্ঞাপন কমেছে, তেমনি ডিজিটাল নির্ভরতার কারণেও বিজ্ঞাপন কমেছে। এটা বিজ্ঞাপন সেক্টরের এক অর্থে ঝুঁকিই বলতে পারেন।

‘প্রচিত’ বিজ্ঞাপন সংস্থার টিম

অনলাইন বিজ্ঞাপনে যেমন সুবিধা
বর্তমানে বাংলাদেশে অধিক হারে ফেসবুক এবং গুগলসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ঝোঁক বাড়ছে। এখানে টার্গেট গ্রুপ নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়। আবার বিজ্ঞাপনটি কত ইউজারের কাছে পৌঁছাল, তা-ও জানা যায়। এ ছাড়া যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা খরচ করা যায়। এ সুবিধা পত্রিকা কিংবা টেলিভিশনে নেই। এ ছাড়া এখন অনেক অ্যাপসেও বিজ্ঞাপন যায়। বিজ্ঞাপন হয় মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে। এর আরেকটি কারণ হলো ই-কমার্স। উবার বা পাঠাওয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানই আছে অনলাইনভিত্তিক। তাদের বিজ্ঞাপনও প্রধানত অনলাইনে। আর পত্রিকার অনলাইনগুলোও সরাসরি যেমন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন পায়, তেমনি বিজ্ঞাপন পায় গুগলের মাধ্যমেও। প্রচলিত ধারার মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের ফিডব্যাক পর্যবেক্ষণ করা সহজ নয়, যেটা অনলাইনে সহজ আর ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে অনলাইনকে শক্তিশালী করছে।

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eighteen + 8 =