চুলে খুশকি, কি করি?

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

মনের মতো করে সাজ-পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে বাইরে বের হচ্ছো। হঠাৎই দেখলে কাঁধের কাছে কাপড়ে সাদা গুড়ি গুড়ি খুশকি পড়ে রয়েছে। এর চেয়ে বিব্রতকর অবস্থা আর কিছুই হতে পারেনা। শুধু কাপড়ে নয় চিরুনি, বালিশেও এর দেখা মেলে। সারাবছর চুলে খুশকির সমস্যা অনেকের থাকলেও, শীতে যেন তার উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়।

খুশকি আমাদের মাথায় দেখা দেয় যখন মাথার স্কিনে মৃত ত্বকের কোষগুলো ঝরে যায়। কখনও কখনও, কোষগুলো অতিরিক্ত উৎপাদনে যায় এবং স্বাভাবিক হারের দ্বিগুণ হারে ঝরে যায়; যা মাথার ত্বকের জন্য একটি সমস্যা উপস্থাপন করে। যখন মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন হয়, তখন তেল মৃত কোষগুলোকে একত্রে আটকে রাখে এবং সাদা ক্লাম্প অর্থাৎ খুশকি তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা ম্যালাসেজিয়া ছত্রাককে খুশকি এবং অন্যান্য অবস্থার সাথে যুক্ত করেছেন যেমন অ্যাটোপিক একজিমা, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস এবং ফলিকুলাইটিস। ছত্রাক তেলের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তেল উৎপাদনে ম্যালাসেজিয়া ছত্রাক বহুগুণ বেড়ে যায়। যদিও খুশকি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করেনা, তবে যারা এতে ভুগছে তাদের জন্য এটি বেশ বিরক্তিকর হতে পারে।

কীভাবে মুক্তি পেতে পারি?

খুশকি রাতারাতি পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা যেতে না পারলেও একে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। সেজন্য কিছু পদক্ষেপ অবলম্বন করা প্রয়োজন। যেমনঃ

নিয়মিত চুল ব্রাশ করা

খুশকির চিকিৎসা বলতে বুঝায় মাথার ত্বকে চুলকানি এবং ফুসকুড়ি থেকে মুক্তি পেতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। এইজন্য চুল নিয়মিত ব্রাশ করা প্রয়োজন। স্থির, দৃঢ় স্ট্রোক দিয়ে মাথার ত্বক থেকে নিচের দিকে চুল ব্রাশ করো। এটি তোমার মাথার ত্বক থেকে তেলকে দূরে নিয়ে যায়, যেখানে এটি এবং ত্বকের কোষগুলো খুশকির কারণ হতে পারে। এছাড়াও এটি চুল চকচকে এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে।

শ্যাম্পু পরিবর্তন

শীতের খুশকি কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল নিয়মিত ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা। তোমার ব্যবহার করা প্রতিদিনকার শ্যাম্পুতে এমন কিছু উপাদান থাকতে পারে যা উপসর্গগুলোকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। যেমন সালফেট, থ্যালেটস এবং উত্তেজক সুগন্ধি। খুশকির শ্যাম্পুতে অ্যান্টি ফাংগাল বৈশিষ্ট্য আছে যা খুশকিকে বিনাশ করতে সাহায্য করে। উপরন্তু, অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পুগুলো সাধারণত ত্বকে মৃদু, আরও ময়েশ্চারাইজিং এবং হাইড্রেটিং করে।

গরম পানি এড়িয়ে চলো

শীতকালে গরম পানি দিয়ে গোসল করা অনেক আরামদায়ক। তবে এক্ষেত্রে অত্যন্ত গরম পানি মাথায় ঢালা থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি মাথার ত্বককে আরও শুষ্ক করে এবং যখন অতিরিক্ত শুষ্ক বাতাসের সাথে মিলিত হয়, তখন শীতের খুশকির উপসর্গগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ঘরোয়া চিকিৎসা

খুশকির শ্যাম্পু ছাড়াও আরও কিছু জিনিস আছে যা এটি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এই প্রাকৃতিক চিকিৎসার কিছু হয় ময়েশ্চারাইজিং করবে নয়তো ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের বিরুদ্ধে সহায়ক হবে।

-নারকেল তেলে এমন এক বৈশিষ্ট্য আছে যা অবিশ্বাস্যভাবে হাইড্রেটিং করে, আর তা হল- অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য। এটি একটি শক্তিশালী সংমিশ্রণ যা শীতকালীন খুশকি প্রশমিত করতে সাহায্য করে। এটি ৩ থেকে ৫ চা চামচ মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নাও। তারপর ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে ফেলো।

-অ্যালোভেরা এমন এক রসালো উদ্ভিদ যা এর  নিরাময় বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। এর পাতার জেলে অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মতো বেশ কিছু জৈব সক্রিয় যৌগ রয়েছে যা খুশকি কমাতে পারে। এছাড়াও এর জেল ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে । চুলে শ্যাম্পু করার আগে এর জেল মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখতে পারো।

-অ্যাসপিরিনে থাকা স্যালিসিলিক অ্যাসিড, এমন একটি সক্রিয় উপাদান যা সাধারণত খুশকির শ্যাম্পুতে ব্যবহৃত হয়। স্যালিসিলিক অ্যাসিড অতিরিক্ত খুশকির ফ্লেক এক্সফোলিয়েট করতে, তেল জমা হওয়া রোধ করতে এবং মাথার ত্বকে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। খুশকিতে স্যালিসালিরিক অ্যাসিড ব্যবহার করতে ১টি বা ২টি আনকোটেড অ্যাসপিরিন ট্যাবলেটকে গুঁড়ো করে তা তোমার শ্যাম্পুর সাথে মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারো। ২ মিনিটের মত রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলো।

-অলিভ অয়েলও ভালো কাজে দেয়। মাথার ত্বকে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল দিয়ে, শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে রাখো। পরদিন সকালে চুল শ্যাম্পু করে নিলেই হয়ে যাবে।

-সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, যাকে আমরা বেকিং সোডা বলে চিনি; খুশকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বেকিং সোডাতেও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা খুশকির জন্য দায়ী ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এতে একটি খুব উচ্চ পিএইচ স্তর রয়েছে, যা একজন ব্যক্তি ঘন ঘন ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই এটি পরিমিতভাবে ব্যবহার করা উচিৎ।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরাণাপন্ন

সব ঘরোয়া প্রতিকার সবার জন্য কাজ করবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়। এইসব প্রস্তুতি নেয়ার পরেও যদি তুমি দেখে থাকো সমস্যার তেমন কোন সমাধান হচ্ছেনা তবে বসে না থেকে কোন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়াই উত্তম।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

twenty + eleven =