চুল পড়া রোধের উপায়

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

দীঘল কালো চুলের আবেদন সবসময়ের। চুল সৌন্দর্যের অলংকার স্বরূপ। সবাই চায় সুন্দর ও ঝলমলে চুল। কিন্তু চুল পড়া সারা বিশ্বে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও প্রত্যেকের চুল পড়ার কারণ ভিন্ন, তবে মাথা থেকে চুল পড়ার অভিজ্ঞতা কারোর জন্যই সুখকর নয়। চুল পড়া বন্ধ করতে এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করার জন্য কিছু টিপস এখানে শেয়ার করা হয়েছে।

ফিল্টার পানি ব্যবহার

অনেক সময় চুল পড়ার পেছনে পানিও দায়ী। এক্ষেত্রে শাওয়ারের জন্য ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ক্লোরিন, ভারী ধাতু এবং কিছু ব্যাকটেরিয়াকে সরিয়ে দেয় যা চুলের ক্ষতি এবং ভাঙ্গার কারণ হয়।

নিয়মিত চুল ধোয়া বন্ধ করা

চুল ধোয়া বা পরিষ্কার রাখলে মাথার ত্বক ভালো থাকে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের সম্ভাবনা রোধ করে। কিন্তু তাই বলে খুব ঘন ঘন চুল ধোয়া ঠিক না কারন এটি প্রাকৃতিক চুলের গঠন এবং চকচকে ভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। আর নিয়মিত শ্যাম্পুর ব্যবহার চুলের প্রাকৃতিক তেল ছিনিয়ে নিতে পারে। চুল যদি শুষ্ক হয়ে তাহলে নিয়মিত চুল ধুলে এটি আরও শুষ্ক এবং কুঁচকে যাওয়ার চান্স থাকে। সপ্তাহে সর্বাধিক একবার ভালোভাবে শ্যাম্পু করে নিলে ভালো হয়। যদি চুল খুব তৈলাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করা যায়।

ভেজা চুল আঁচড়ানো বন্ধ

নিয়মিত চুল আঁচড়ানো চুলের গোড়ার জন্য ভালো। কিন্তু ভেজা চুল ব্রাশ করার প্রশ্নে একটি বিরাট নো। ভেজা চুল ব্রাশ করা এবং তা শুকানোর জন্য তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে ঘষার অভ্যাস থাকলে তা এখনই পরিহার করতে হবে। চুলকে বাতাসে শুকাতে দাও। চুল আঁচড়ানোর জন্য ব্রাশ চুজ করার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ফাইবার থেকে তৈরি নরম ব্রাশ বেছে নিতে হবে।

চুলে তেলের ব্যবহার

আমাদের মাঝে চুলে তেল দেয়াটা অনেকেই পছন্দ করেনা। তেল হল চুলের খাদ্য যা একে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাড়ে সাহায্য করে। আরগান, নারকেল এবং বাদামের মত প্রাকৃতিক তেলে প্রচুর পরিমানে অ্যাসিড এবং ভিটামিন রয়েছে যা শুষ্ক, ঝরঝরে, এলোমেলো চুলকে নরম, চকচকে এবং আরও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু করার আগে যেকোন তেল হালকা গরম করে মাথার ত্বকে আলতো করে লাগাতে হবে। শাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

মাথা ম্যাসেজ

নিয়মিত মাথা ম্যাসেজ রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং এটি চুল পড়া বন্ধ করার অন্যত্ম সেরা উপায়। চুলের বিকাশ হওয়ার পাশাপাশি এটি চুলকে স্বাস্থ্যকর রাখে এবং স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে, যা চুল পড়ার ক্ষেত্রে একটি প্রধান অবদানকারী। ২০১৬ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাথার ত্বকে ঘন ঘন ম্যাসেজ করা ঘন চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। এই মযাসেজের জন্য উষ্ণ তেল ব্যবহার করা ভালো। উষ্ণ তেল চুলের কিউটিকল সিল করতে, চুলকে শক্তিশালী করতে এবং গোড়া থেকে রক্ষা করতে পরিচিত।

চুলকে হিট এবং রঙ করা থেকে দূরে রাখা

হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার এবং কার্ল আয়রন ব্যবহার করা সীমিত করতে হবে, কারন তাপ চুলের প্রোটিনকে দূর্বল করে দেয়। ক্রমাগত গরম করা এবং শুকানোর ফলে চুল ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।  এছাড়াও চুলে রঙ করা বিশেষ করে ব্লিচিং, চুল পড়া বন্ধ করা কঠিন করে তোলে। ব্লিচিং এর রাসায়নিকের কারনে চুলের প্রাকৃতিক যে পিগমেন্ট থাকে তা নষ্ট হয়ে যায়।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

ডায়েটে প্রোটিনের পরিমান তোমার চুল কত দ্রুত বৃদ্ধি পায় তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তুমি যদি নিরামিষভোজী হয়ে থাকো তবে সেক্ষেত্রে প্রোটিনের গ্রহণের উপর নজর দিতে হবে। প্রতি কিলোগ্রাম শরীরের ওজনের জন্য প্রতিদিন ১ থেকে ১.৬ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। মটরশুঁটি, শিম, ডিম এবং অন্যান্য প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের কয়েকটি উপায়। এছাড়া বিভিন্ন প্রোটিন শেক বানিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ

ভিটামিন এ, বি, সি,ডি এবং ই, আয়রন এবং জিঙ্কের মতো ভিটামিন এবং খনিজগুলোর অভাবে চুলের বৃদ্ধি প্রভাবিত হতে পারে। কোন বিশেষজ্ঞের দ্বারা দেখতে হবে যে, ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে কিনা, এবং তাঁর পরামর্শে চুল পড়া বন্ধ করতে সঠিক পরিপূরক গ্রহন করা যেতে পারে। চিকিৎসক পেশাদারদের মতে, জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং অন্যান্য ভিটামিনের সাথে বায়োটিন ফোর্টের মতো পরিপূরক গ্রহণ করা স্বাস্থ্যকর চুল বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

হেয়ার স্টাইল চেঞ্জ

চেহারার লুকে পরিবর্তন আনতে আমরা বিভিন্ন হেয়ার স্টাইল ট্রাই করে থাকি। কিন্তু এমন কিছু স্টাইল আছে যার মাধ্যমে আমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে চুলের ক্ষতি করে ফেলছি। পুল-ব্যাক, ব্রেইডেড বা পনিটেল এমন হেয়ার স্টাইল যা সাধারণত খুব টানটান করে করা হয়ে থাকে। এতে চুল ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং চুল পড়া শুরু হয়ে যায়।

পর্যাপ্ত পানি পান করা

পর্যাপ্ত পানি পান দেহ সুস্থ রাখতে অনেক উপকারী। হাইড্রেটেড থাকতে এবং স্বাস্থ্যকর চুল গজাতে দিনে অন্তত চার থেকে আট গ্লাস পানি পান করতে হবে।

জীবনধারা পরিবর্তন

বাহ্যিক কারণগুলো ছাড়াও, শারীরবৃত্তীয় এবং মনস্তাত্ত্বিক সহ বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো চুলের ক্ষতিতে অবদান রাখে। সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং স্ট্রেস লেভেল ম্যানেজ করা সহ একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা উচিৎ।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 × one =