ছবিতে মোহমায়া

করেছে Sabiha Zaman

গায়েহলুদ, আকদ, বউভাত সব মিলে বিয়ের আয়োজন মানে মহাযজ্ঞ। বিয়েতে কেবল বর-কনে নয়,পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা থাকে। দুই পরিবারের সদস্যদের কয়েক দিনের পরিশ্রমে বিয়েবাড়ি ঝলমল করে ওঠে। বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় হাজারো মধুর স্মৃতি। বিয়ের সুন্দর মুহূর্তগুলো যেন আয়োজন শেষে উবে না যায়, তাই সময়গুলো ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির জনপ্রিয়তা। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির জগতে বেশ জনপ্রিয় ছায়াছবি। ওয়েডিং ফটোগ্রাফির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাবিহা জামানের সঙ্গে কথা বলেছেন ছায়াছবির সিইও অ্যান্ড কোর সিনেমাটোগ্রাফার-সানী রহমান।

হাল আমলে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠানে বা বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসমূহের আলোকচিত্রই হলো ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। ১৮৪০ সাল থেকে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির প্রচলন শুরু হয়। উনিশ শতক থেকে ট্র্যাডিশনাল ফটোগ্রাফি শুরু হয়। তবে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি বর্তমান সময়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিগত কয়েক বছর আগেও যেখানে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি তথাকথিত ধারায় চলত। সেখানে বর্তমান সময়ে তার নানা পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এই পরিবর্তনের রেশ ধরে সবার মধ্যে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি বা সিনেমাটিক ফটোগ্রাফির চাহিদা বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার একটা অন্যতম ভূমিকা রয়েছে।’

স্মার্ট ওয়েডিং ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে কী বিষয় যুক্ত করা যেতে পারে, এ বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেন সানী। তার মতে, ‘স্মার্ট ওয়েডিং ফটোগ্রাফি বিয়ের উৎসবকে শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিত্যনতুন থিম, পোশাকের আইডিয়া, লোকেশন। বিবাহ-পূর্ববর্তী ফটোগ্রাফি ও পরবর্তী ফটোগ্রাফিতে নিত্যনতুন থিমের ব্যবহারের মাধ্যমে সবার মধ্যে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। সঙ্গে বিবাহ অনুষ্ঠানেও নানা আয়োজন বেড়ে যাচ্ছে ফটোগ্রাফিকে কেন্দ্র করে। তাই নিত্যনতুন থিম যুক্ত করে কাজের মান বাড়ানো সম্ভব। সঙ্গে পোশাকের ভিন্নতা, লোকেশন, ডেকোরেশন। তিনি আরও জানান, ভালো মানের ছবির জন্য ডেকোরেশন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ছবির সাবজেক্টের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং আশপাশের এলিমেন্টস একটা ছবিকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

বিয়েতে বর-কনের পোশাকের সঙ্গে ভালো ছবির কোনো সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার সময়ে সানী বলেন, বর-কনের পোশাকের সঙ্গে একটা ছবি সুন্দরভাবে ফুটে ওঠার বিষয়টা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেহের গঠনের সঙ্গে মানানসই পোশাক, পোশাকের রং এবং দিন ও রাতের অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা রঙের পোশাক নির্বাচনের বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত। এ ছাড়া অনেক কনের প্রশ্ন থাকে মেকআপ কতটা জরুরি ব্রাইডাল ফটোগ্রাফিতে। তাদের উদ্দেশে সানী বলেন, মেকআপ ছবির জন্য জরুরি। তবে ভালো মেকআপের চেয়েও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে চেহারার গঠনের সঙ্গে মানানসই মেকআপ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় মেকআপের হেরফেরের কারণে ছবিতে চেহারার বেসিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। বর-কনেকে বিভিন্ন কারণেই ছবি তুলতে গেলে মোটা লাগে। যার মধ্যে প্রধান কারণ ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং পোশাক। অ্যাঙ্গেলের কারণে মোটা লাগতে পারে আবার পোশাকের কারণে অনেকেই মোটা মনে হয়।

বিয়েতে ভালো ছবি পেতে বর-কনের বিষয়ে আরও কথা বলতে গিয়ে সানী রহমান আরও বলেন, বিয়েতে ভালো ছবির ক্ষেত্রে কোন অ্যাঙ্গেলে ভালো ছবি আসবে, তা নির্ভর করে লাইট, ফ্রেমের ওপর। ছবির সাবজেক্ট যে অ্যাঙ্গেল ডিমান্ড করবে, ছবিও সেই অ্যাঙ্গেলে হবে। সে ক্ষেত্রে লাইট আর ফ্রেম একটা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে মুখ্য বিষয় বর-কনে। অর্থাৎ যাদের উদ্দেশ করে আয়োজন করা হয়। তাই সে ক্ষেত্রে ভালো ফটোগ্রাফি বা সিনেমাটিকের জন্য বর-কনেকে আন্তরিক হতে হয়। তার সঙ্গে পরিশ্রম করা এবং ধৈর্য রাখার মানসিকতা থাকতে হয়। তাহলেই সুন্দর ছবি হতে বাধ্য।


ওয়েডিং ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে বিয়ের কয় দিন আগে বুকিং দেওয়া উচিত আর কেমন বাজেট রাখা যায়, এ নিয়েও কথা হয় ছায়াছবির সানী রহমানের সঙ্গে। এ বিষয়ে তিনি জানান, ‘বিয়েতে ছবি তোলাকে একটা সময় খুব সাধারণভাবে চিন্তা করলেও বর্তমান সময়ে তা শিল্প। এবং একজন ফটোগ্রাফার তার চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিত্যনতুন থিম নিয়ে কাজ করেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে। সে ক্ষেত্রে একজন ভালো ফটোগ্রাফার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর ভালো ফটোগ্রাফারের চাহিদাও অনেক। সে ক্ষেত্রে বাজেট এবং সময় দুইটাই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কাজের জন্য কমপক্ষে এক মাস আগে বুকিং দেওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে একজন ফটোগ্রাফার তার চিন্তাশক্তির উত্তম ব্যবহার করতে সক্ষম। আর ভালো ফটোগ্রাফারের ক্ষেত্রে বাজেটও একটু বেশি রাখতে হবে। তাহলেই সুন্দর ছবি পাওয়া সম্ভব।

গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের ছবি তোলার জন্য বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ছায়াছবি। এ নিয়েও রোদসীর সঙ্গে কথা বলেন সানী। তার মতে, কোনো শিল্পীই চায় না তাদের কাজ গৎবাঁধা হোক। সবাই চায় একটু আলাদা কিছু হোক, নতুন কিছু হোক। সেই চেষ্টা থেকে আমাদের ছুটে চলা। বৃত্তের বাইরে থেকে ভালো কিছু তৈরি করাই আমাদের চেষ্টা এবং চিন্তাশক্তিকে এক করেছে। তাই আমরা আলাদা কিছু উপহার দিতে পারি আমাদের ক্লায়েন্টদের। এবং ওনারা আমাদের সে ক্ষেত্রে অনেক সাপোর্ট এবং বিশ্বাস করে থাকেন। প্রতিটি মানুষেরই জীবনের আলাদা গল্প থাকে। হোক সেটা লাভ ম্যারেজ বা অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। আমরা চেষ্টা করি প্রতিটি গল্পকে ছবি বা ভিডিওতে ফুটিয়ে তোলার। সবার আলাদা গল্প থেকেই আমাদের কাজও তাই আলাদা হয়ে যায়।

তরুণ ওয়েডিং ফটোগ্রাফারদের উদ্দেশে সানী বলেন, ‘তরুণ যারা ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করতে চান, তাদের উদ্দেশে বলব, প্রথমে নিজের মনকে ফটোগ্রাফিতে স্থির করতে হবে। তারপর ফটোগ্রাফি নিয়ে স্টাডি করতে হবে এবং যার কোনো বিকল্প নাই। সেই সাথে প্রতিদিন ছবি তোলার চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। সাথে দেশ-বিদেশের ফটোগ্রাফারদের ছবি দেখে ছবির গভীরতা নিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তাই সঠিক এবং সুষ্ঠু চর্চার মাধ্যমে আসুন ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকে এগিয়ে নিয়ে যাই।’

ছায়াছবির সিইও অ্যান্ড কোর সিনেমাটোগ্রাফার- সানী রহমান।

ছবি: ছায়াছবি

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eleven − 4 =