ঝকঝকে থাকুক হেঁসেল

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

সকালে নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবারের প্রিপারেশন, তৈরি করা সবকিছুই হয়ে থাকে রান্নাঘরেই। দিনের বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায় গৃহিণীদের এই রান্নাঘরেই কেটে যায় অনেকখানি সময়। যেখানে এত এত মজাদার খাবার তৈরি, সেটারও চাই কিছু যত্নের, কিছু ভালোবাসার। আর এই যত্ন, এই ভালোবাসার নিদর্শন হলো রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা। এখন মনে হতে পারে, রান্নাঘর তো পরিষ্কার করা হয়ই। এক্ষেত্রে পরিষ্কার বলতে এর খুঁটিনাটি পরিষ্কার করাকে বুঝায়। আর এই বিষয়ে কিছু টিপস জানতে পড়তে থাকো এই লেখাটি।

-পরিষ্কারের জন্য প্রথমেই যে স্টেপ ফলো করতে হবে তা হলো রান্নাঘরের অন্তর্ভূক্ত নয় এমন জিনিস সব একত্রে জড়ো করে সরিয়ে নেয়া। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত স্টাফ থাকলে জায়গাটি আরও মেসি হয়ে থাকবে। পরিষ্কার শেষে যেসব জিনিস রান্নাঘরে নিত্য প্রয়োজন হয় তা সেখানেই রাখতে হবে, আর যেসব জিনিস অকেশনালি প্রয়োজন হয় তা কিচেন ড্রয়ারে বা কাউন্টার টপে রাখতে হবে।

-রান্নাঘরের গুরুত্বপুর্ণ জায়গা হচ্ছে সিঙ্ক। কুটাবাছা, তা ধোয়া,থালাবাসন পরিষ্কার করা সবকিছুই হয়ে থাকে এই সিঙ্কে। যখনই কোন কিছু ধোয়া সম্পন্ন হয়ে যায় সাথে সাথেই সিঙ্কটিকেও পরিষ্কার করে নিতে হবে। আর এক সপ্তাহ পর পর লেবুর রস ও কিছুটা বেকিং সোডা দিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে সিঙ্ককে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। যে কোন দাগ দূর করতে এই মিশ্রণ অনেক কার্যকর।

-স্টেইনলেস স্টিলের সিঙ্ককে পোলিশ করতে আরেকটি চমৎকার ওয়ে আছে। সিঙ্কটি প্রথমে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর কিছুটা ময়দা নিয়ে পুরো এরিয়াতে ছিটিয়ে দাও এবং বাফিং করো। ধাতুটি কতটা চকচকে হয় তা দেখে অবাক হয়ে যাবে।

-অনেক সময় সিঙ্কের ড্রেনেজ সিস্টেমের কাজ প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা ধীর গতিতে হতে দেখা যায়। এই থেকে প্রতিকার পেতে চাইলে ড্রেনেজ লাইনের পাইপে কিছুটা ডিশ সোপ দিয়ে গরম পানি চালনা করে দিতে হবে। গ্রীস কাটার জন্য ডিশ সোপ তৈরি করা হয়। সাধারণত সেই গ্রীস বাসার থালা-বাসন, রান্নার পাত্রে থাকে যা পরবর্তীতে ড্রেন বা পাইপেও জমা হতে থাকে।

-পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি কমন যে সমস্যায় আমরা পরে থাকি তা হল রান্নাঘরে সিঙ্কের কল বা এমনকি ঝরনার মাথাও সময়ে সময়ে ক্লগ বা আটকে থাকে। এইক্ষেত্রে কোন প্লাস্টিকের ব্যাগে ভিনেগার নিয়ে তাতে শুধুমাত্র কলটি ভিজিয়ে রাখো এবং তারপর কিছু সময় পর পানি চালিয়ে দাও। এটা নিজ থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

-রান্নাঘরের প্রধান বস্তুটি হলো চুলা, যা প্রতিনিয়তই ব্যবহৃত হচ্ছে। রান্নার সময় তেল ছিটকে পরা, তরকারির ঝোল পরা খুবই কমন ব্যাপার। তাই প্রতিদিন এর পরিষ্কার করা জরুরী। রান্না শেষেই চুলা অফ করে যেকোন ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। প্রতিদিন যদি করা যায় তবে চুলাও যেমন পরিষ্কার থাকবে তেমনি পরিশ্রমও কম হবে।

-চুলা পরিষ্কার করতে আরেকটি কার্যকরী উপাদান হলো বেকিং সোডা। চুলা হালকা গরম থাকা অবস্থায় বেকিং সোডা এবং পানি মিশিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দাও। জেদী দাগ দূর করতে এটি চমৎকার কাজে দেয়। এতে জীবাণু নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাজে গন্ধও দূর হবে।

-চুলা পরিষ্কারের পাশাপাশি এর বার্নার পরিষ্কার করা জরুরী। ভাতের মাড়, দুধ উথলে পরে বার্নারের ছিদ্রগুলো আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সাদা ভিনেগার ও পানির মিশ্রণ অথবা বেকিং সোডা দিয়ে বার্নারগুলো ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরে টুথব্রাশের সাহায্যে তা ঘষে সহজেই পরিষ্কার করে ফেলা যাবে। মাসে অন্তত একবার হলেও এই বার্নারগুলো খুলে পরিষ্কার করতে হবে।

-রান্নাঘরের কিচেন চিমনি, হুড, এগজস্ট ফ্যানের সাহায্যে রান্নার মশলা ও তেল বাষ্প হয়ে বাইরে চলে যায়। এতে রান্নাঘর তেল চিটচিটে ভাব কম হয়। সময়ে সময়ে এগুলোও পরিষ্কার করতে হবে। কঠিন ময়লা বসার আগেই যেকোন লিকুইড সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। আর যদি ময়লা বেশি পরে যায় তবে এক্ষেত্রে বেকিং সোডা হবে আদর্শ।

– কাঁচা সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংশ সব কিছুর কুটাবাছা, পরিষ্কার করা হয় রান্নাঘরেই। তাই এখানে নোংরা ও দূর্গন্ধ ছাড়াবার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। এক্ষেত্রে রান্নাঘরে ব্যবহৃত ময়লার ঝুড়িটি অবশ্যই ঢাকনাযুক্ত হতে হবে। এতে গন্ধ ছড়াতে যেমন পারবেনা তেমনি মশা মাছির উপদ্রব থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। ঝুড়ির নিচে এক্সট্রা পলিথিন ব্যবহার করলে ময়লা ফেলার সময় অসাবধানতাবশত তা ঝুড়ির নিচে পরে থাকার চান্স থাকবেনা। এবং যতদ্রুত সম্ভব ময়লা রান্নাঘর থেকে বাইরে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। মাঝে মাঝে এই ঝুড়ি ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

-কিচেন ড্রয়ার বা কাউন্টার টপ থাকলে কাজের জিনিসপত্র ছিটিয়ে না থেকে তা সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখা যায়। কিন্তু তাই বলে যা পাওয়া যায় সবই এতে চেপে চেপে না রেখে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস সুন্দর করে অর্গানাইজ করে রাখতে হবে। এতে কাজে যেমন সুবিধা হবে, তেমনি নোংরাও কম হবে। মাঝে মাঝে এগুলো খুলে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।

-রান্নার কাজে ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি যেমন, ব্লেন্ডার, মাইক্রোওভেন ব্যবহার হয়। এগুলোর ব্যবহারের পাশাপাশি যত্ন নিলে তা অনেকদিন টিকে থাকে। ব্লেন্ডার ব্যবহারের পর পরই এর ভেতর ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে না হয় এতে গন্ধ রয়ে যাবে। কটু গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহারের পর ব্লেন্ডারে সামান্য লিকুইড সাবান দিয়ে আবার ১০ সেকেন্ডের জন্য এটা চালিয়ে দিতে হবে। এর পর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই নিমিষেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

মাইক্রোওভেন অনেকদিন কাজ করার পর ভেতরের দিকে এক ধরনের গুমট গন্ধ হয়ে থাকে। প্রত্যেকবার কাজের শেষে একটি যেকোন গ্লাস ক্লিনার দিয়ে কাপড় বা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।এছাড়াও একটি পাত্রে কিছু পানি এবং ছোট ছোট টুকরো করা লেবু নিয়ে তা ওভেনে ঢুকিয়ে চালু করে দিতে হবে। তরলটি ফুটে উঠলে বন্ধ করে দিতে হবে। দরজা না খুলে এভাবে রেখে দিতে হবে ৫ মিনিট। এতে ভেতরে ময়লা দূর হওয়ার পাশাপাশি সুন্দর একটা গন্ধ বের হবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eighteen − 12 =