ঝলমলে পোশাকে

করেছে Sabiha Zaman

সুরাইয়া নাজনীন:  শীতের আভা এই তো শুরু। নগরের রাস্তাগুলো সোনালি-রুপালি আলোয় ঝলমলে। নতুন বধূর মিটিমিটি চাহনিই বলে দিচ্ছে এখন বিয়ের মৌসুম। বিয়ের এই মৌসুমে সাজগোজ আর পোশাকের নিরীক্ষায় ব্যতিব্যস্ত বিশেষজ্ঞরা। তবে খুব করে দেখা যাচ্ছে প্রথা বদলানোর। এই যে বিয়েতে লাল রংই পরতে হবে, শাড়িই মাস্ট। এসব আর ট্রেন্ডে নেই। সেই কথাই বললেন আবায়া অ্যান্ড গাউনের স্বত্বাধিকারী মারুফা জাহান_

বিয়েতে বউয়ের পাশাপাশি বিয়েবাড়ির অন্য সদস্যদের পোশাক নিয়ে থাকে নানা কল্পনা। বউয়ের বোন কিংবা বান্ধবীদের পোশাকও হতে হবে ঝলমলে। অনেকে আছে নির্দিষ্ট পোশাকে অভ্যস্ত কিন্তু তারা ফ্যাশনেও এগিয়ে থাকতে চায়। তাদের জন্য মারুফা জাহান নিজের হাউসেই রেখেছেন সুন্দর আয়োজন। গর্জিয়াস সব আয়োজনে রয়েছে গাউন, আবায়া, স্টোনের কাজের মজার মজার বৈচিত্র্যময় কালেকশন।

মারুফা জাহান আরও জানালেন, শাড়ি পরার চল ইদানীং কমই দেখা যাচ্ছে। কমফোর্টটাই এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আগে গাউন পরে বিয়ের কথা কেউ ভাবতেই পারত না, এখন তা হয়েছে। কোট পরেও অনেকে বসে পড়ছে বিয়ের পিঁড়িতে। এখন আবায়া, গাউন পরেও বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে। তো ট্রেন্ড এভাবেই বদলায়। আসে ফ্যাশনের বিশেষ বিশেষ পরিবর্তন।

আবায়া অ্যান্ড গাউন প্রত্যেক বছরই নতুন বউয়ের জন্য পোশাক সংগ্রহে রাখে। তবে ব্রাইডমেডদের জন্য থাকে বাহারি ডিজাইন। আবায়া অ্যান্ড গাউন- ‘এঅ্যান্ডজি’ সব সময়ই গতানুগতিক অবস্থা থেকে একটু ভিন্ন কাজ করতে পছন্দ করে। এবার বিশেষ আকর্ষণ ওয়েডিং কালেকশন। বিয়ে, হলুদ, মেহেদিতে যারা আসবে, তাদের জন্য ডিজাইন করে স্বনামধন্য এই ফ্যাশন হাউস। এখানকার প্রতিটি কালেকশন নিজস্ব ডিজাইনে করা। নিজস্ব কারচুপি ফ্যাক্টরি, এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরি, প্রডাকশন ফ্যাক্টরি আছে। যেখানে ড্রেসগুলো তৈরি হয়, জানালেন মারুফা জাহান।

এবার বিয়ের মৌসুমে আরেকটা চমক নিয়ে এসেছে আবায়া অ্যান্ড গাউন। যারা মসলিনের ওপর জামদানির কাজ করছে এবং নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে কারচুপি, এমব্রয়ডারি, ক্যাটওয়ার্কের কাজ করছে। সেই সঙ্গে থ্রিডি ফ্লোরাল ওয়ার্কও করা হয়েছে। পোশাকের নানা রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সংগ্রহ সম্ভারে রয়েছে গর্জিয়াস হিজাবের কালেকশন। যেসব হিজাব একদম নিজস্ব ডিজাইনে ফ্যাক্টরিতে তৈরি। এসব হিজাব অনায়াসে বিয়েতে পরা যাবে।

দেশের ঐতিহ্যের জনপ্রিয়তায় আছে মসলিন এবং জামদানি, যা প্রত্যেক উৎসবের জন্য চাহিদার শীর্ষে থাকে। কিন্তু গাউন কিংবা আবায়াতে কি এগুলো সম্ভব? যারা এই পোশাকগুলো পরে তারা কি ঐতিহ্যের ছোঁয়া পাবে না? কেন? সেই ভাবনা এবং উত্তর দেওয়ার জন্যই মারুফা জাহান বাংলাদেশে প্রথম গাউন আর আবায়াতে নিয়ে এসেছে মসলিন ও জামদানি। তিনি ভাবেন, এসব পোশাকে ফ্যাশনপ্রিয় মানুষের রুচিবোধের প্রকাশ পায় অনায়াসে। মারুফা জাহান উদ্যোক্তা হওয়ার আগে খুব সমস্যায় পড়তেন পোশাক নিয়ে। মনের মতো পোশাকটিই যেন পেতেন না। নিজের সমস্যা থেকেই অনুধাবন করলেন অন্যদেরও তো এমন সমস্যা হতে পারে। তারপর সাত বছর আগে ‘এঅ্যান্ডজি’র যাত্রা শুরু করলেন। এখন গ্রাহকের নানা প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এই ফ্যাশন হাউস। ঝকমকে দেখে সবাই ভাবতে পারেন দাম হবে হাতের নাগালের বাইরে। সাধারণের এসব ধারণা টপকিয়ে মারুফা জাহান সব প্রডাক্টের দাম নির্ধারণ করেছেন সবার সাধ্যের মধ্যে। আর কমফোর্টকে গুরুত্ব দিয়েছেন শতভাগ।

ছবি: মারুফা জাহান, স্বত্বাধিকারী আবায়া অ্যান্ড গাউন

 

 

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four + 9 =