ট্রিমার ট্রিটমেন্ট

করেছে Sabiha Zaman


মুখের অবয়বে মাধুর্য আনতে দাড়ি সবচেয়ে চলনসই। স্টাইলিশ এবং আকর্ষণীয় লুকের ক্যারিশমায় দাড়ির জুড়ি নেই। পাশাপাশি ধর্মীয় আচার-বিধান পালনের প্রতিশ্রুতিও বটে। পুরুষের দাড়িপ্রীতির অন্য কারণ, প্রায় প্রতিটি নারীর পছন্দও এটি!

একটি ভালো ট্রিমার
মাত্রই হয়তো নতুন দাড়ি গজানো শুরু হয়েছে তোমার। সেটিকে কীভাবে স্টাইলিশ করা যায়, তা নিয়েও ভাবনা শুরু হয়েছে নিশ্চয়। স্টাইলিংয়ের জন্য রেজর, ক্ষুর, কাঁচি এসব ব্যবহার যথেষ্ট হলেও এখন যুগ বদলে গেছে। একজন ব্যস্ত নরসুন্দরের জন্য বসে থাকার চেয়ে নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণ থাকাটাই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। ট্রিমারের মতো একটি সহজ ও ব্যবহার উপযোগী যন্ত্র হাতে পেলেই তুমি দাড়ির ওপর চালাতে পারো ভিন্ন ভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট!

তাতে সেলুনের খরচটাই যে শুধু বাঁচবে তা নয়, নির্দিষ্ট স্টাইলের জন্য তোমার ছোঁয়ায় দাড়ির যত্নও হবে চমৎকার! ব্যবহারে এক্সপার্ট না হলেও শুধু একটি ভালো মানের ট্রিমার দিয়ে নিজেকে পরি”ছন্ন ও পরিপাটি রাখতে পারবে অনায়াসেই।

ট্রিমার কেনার আগে
চাইলেই যে কোনো লোকাল দোকান থেকে একটি ট্রিমার কিনে নিতে পারো, কিন্তু তোমার জন্য সঠিক ট্রিমারটি খুঁজে কেনার জন্য কিছুটা ভাবনাচিন্তা করা আবশ্যক। বাজারের যে কোনো ট্রিমারের পেছনে এমনি এমনি টাকা না ঢেলে নিজের প্রয়োজন বুঝে সেরা ট্রিমারটি কিনে নাও। নিজের জন্য সেরা ট্রিমারটি পছন্দ করা খুব একটা সহজ কাজ নয়, বরং অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। বাজারে যেমন হরেক রকমের পণ্য, তেমনি তাদের মধ্যে নানা রকম ফিচার। এরই মধ্যে তোমার জন্য সেরাটা বেছে নেওয়া বেশ কঠিন কাজ অবশ্যই। যে প্রধান দিকগুলো তোমাকে অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে তার অন্যতম হলো পারফরম্যান্স, স্থায়িত্ব এবং আরাম।

প্রয়োজনটি আগে বোঝো
ট্রিমার কেনার আগে নিজের প্রয়োজন ও চাহিদাগুলো আগে চিনে নিতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ট্রিমার, শেভার, ক্লিপার ইত্যাদি রয়েছে। ক্লিপার মূলত বড় চুল ছাঁটার জন্য ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে এটি দিয়ে লম্বা দাড়িও ছাঁটা যায়। ট্রিমারের ব্লেড যথেষ্ট ছোট যা মুখের ছোট ও সূক্ষ্ম পশম বা দাড়ি কাটার জন্য তৈরি করা হয়। আরও ছোট ও সূক্ষ্ম পশমের জন্য রয়েছে বিশেষ গোঁফের ট্রিমার। তারপর রয়েছে নাকের পশম ও কানের পশমের জন্য ট্রিমার। একই সঙ্গে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই শরীরের পশম দূর করার ট্রিমার।

শুকনো বা ড্রাই শেভিংয়ের জন্য বাজারে রয়েছে ইলেকট্রনিক শেভার। এই নানা ধরনের হেয়ার-কেয়ার বা চুলের যত্ন নেওয়ার পণ্য বিভিন্ন জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যায়। তুমি যদি শুধু দাড়ি গজানোর পরিকল্পনা করো, তাহলে একটি আদর্শ দাড়ির ট্রিমারই তোমার জন্য যথেষ্ট। একটি দাড়ির ট্রিমার ব্যবহার করে তুমি অনায়াসে খাটো ও চাপ দাড়ির স্টাইল করতে পারবে।

কিন্তু তোমার দাড়িগুলো একটু লম্বা ধাঁচের হলে আরও ভারি ও বিশেষ ধরনের দাড়ি বা চুলের ক্লিপার ব্যবহার করতে হবে। যদি ইতিমধ্যে দাড়ির ক্লিপার ব্যবহার করে থাকো ও ভাবো যে তোমার ট্রিমারের প্রয়োজন নেই, তাহলে কিন্তু ভুল হবে। একটি দাড়ির ট্রিমার বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে তুমি পারফেক্ট, স্টাইলিশ ও গোছানো দাড়ি রাখতে পারো। তোমাকে বুঝতে হবে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ট্রিমার ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে বাহারি স্টাইলের লুক পাওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়।

স্টাইলের মূল আকর্ষণ
সঠিক মাপের ও চাহিদা অনুযায়ী নিজের লুক তৈরি করে নেওয়ার জন্য ট্রিমারই হতে পারে তোমার জন্য সেরা পথ। যদি হালকা চাপ দাড়ি পছন্দ করো এবং ফাইভ-ও-ক্লক শ্যাডো স্টাইলে (৫টা বাজলে ঘড়ির কাঁটা যেমন দেখায়) চাপ দাড়ি রাখতে চাও, তাহলে তোমার ট্রিমারে ০.৩-০.৫ মিমি সেট করে দিয়ে ঠিক সেই সূক্ষ্ম প্রাকৃতিক ছাঁটে দাড়ি কাটতে পারবে। অতএব এমন একটি ট্রিমার বেছে নাও, যেটি চুল বা দাড়ি ছোট ও সূক্ষ্মভাবে কাটতে পারে। সাধারণভাবে কোনো রকম গাইড কম্ব বা বিশেষ চিরুনি ছাড়াই এই মাপে দাড়ি ছাঁটা সম্ভব।

কিন্তু গাইড কম্ব থাকলে পছন্দমতো যে কোনো মাপ করে নেওয়া যায়। যদি মোটামুটি লম্বা দাড়ি রাখার কথা ভেবে থাকো তাহলে তোমার দৈর্ঘ্য নির্ধারক গাইড কম্বসহ একটি ট্রিমার প্রয়োজন হবে। বেশির ভাগ দাড়ির ট্রিমারে ২ মিলিমিটার থেকে ৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যরে মধ্যে মাপ নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। এবং এই মাপ বেড়ে সর্বো”চ ১০ থেকে ১৬ মিমি দৈর্ঘ্য পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। এই মাপের মধ্যে সচরাচর মাঝারি থেকে লম্বা দৈর্ঘ্যরে দাড়ি কাটা যায়।

ট্রিমারে এক বা একাধিক ব্লেড
ভালো ব্র্যান্ডের বেশির ভাগ ট্রিমারে সেরা মানের ব্লেডই দেবে। যেগুলো দীর্ঘদিন সার্ভিস দেবে। কিছু ট্রিমারে এমন অপশন থাকে, যাতে ব্লেডগুলো পরিষ্কার করার জন্য খুলে নিতে পারবে কিংবা পরবর্তী সময়ে বদলে ফেলতে পারবে। অনেক ট্রিমারে দাড়ি, গোঁফ এবং চুলের জন্য আলাদা ব্লেড ব্যবহার করার জন্য এই রকম অপশন থাকে। আবার কিছু কিছু ট্রিমারে নাক ও কানের পশম কাটার জন্য ক্লিপ পদ্ধতির ব্লেডও দেওয়া থাকে। তুমি যে ট্রিমারই বেছে নাও না কেন, সেটায় কী কী ব্লেড রয়েছে ও সেগুলো কীভাবে কাজ করে, তা অবশ্যই জেনে নিতে হবে। বাজারে এমন ট্রিমারও রয়েছে, যেগুলোতে পরিবর্তনশীল গাইড কম্ব ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেওয়া থাকে। যেগুলোর সাহায্যে মুখের পশম যেমন দাড়ি ও গোঁফ ইত্যাদি বিভিন্ন দৈর্ঘ্যে ছাঁটা সম্ভব।

এই গাইড কম্বগুলো পরিষ্কার করার জন্য সহজেই খুলে নেওয়া যায় এবং এগুলো দিয়ে মোটা বা ভারী চুলও কাটা যায়। এমন ট্রিমারও রয়েছে, যেগুলোর গাইড কম্ব নন-রিমুভাবল হয় বা খোলা যায় না এবং এগুলোকে একটি লিভার বা জুম হুইলের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই লিভার কিংবা হুইল তোমাকে কম্বের দৈর্ঘ্য ও অন্যান্য সেটিংস ঠিক করতে সাহায্য করে। কিন্তু মাঝেমধ্যে এগুলো পরিষ্কার করা খুব কঠিন হয়ে যায়। আর মোটা চুল বা দাড়ি কাটার সময় জ্যাম হয়ে বা আটকে যেতে পারে।
এ ছাড়া ব্লেডগুলোর স্থায়িত্ব এবং উৎপাদনকারীদের যে কোনো উচ্চতর প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। যেমন সেলফ শার্পেনিং বা নিজে নিজেই ব্লেড ধার দেওয়ার প্রযুক্তি। তেল বা এ-জাতীয় যেকোনো লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক পদার্থ ইত্যাদি ব্যবহার করে তোমার ট্রিমারটির যত্ন নিতে হবে নিয়মিত।

নতুন ব্র্যান্ডের ভালো মানের ট্রিমারগুলোতে সেলফ শার্পেনিং ব্লেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যেখানে ব্লেডগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘষা খেয়ে ধারালো হয়ে ওঠে। এ ছাড়া ভালো মানের উপাদান যেমন স্টেইনলেস স্টিল কিংবা টাইটেনিয়ামের প্রলেপযুক্ত ব্লেড রয়েছে। যেগুলো সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে কাটতে পারে এবং বেশ লম্বা সময় পর্যন্ত টেকসই।

তারবিহীন নাকি তারসহ
আরাম, স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা ইত্যাদির পর যে জিনিসটি নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি ভাবি তা হলো তারবিহীন নাকি তারসহ দাড়ির ট্রিমার, কোনটি কেনা উচিত। উত্তরটা খুব সহজ। সেরা ট্রিমারের অভিজ্ঞতা পেতে কর্ডলেস কেনাই সবচেয়ে ভালো! কিন্তু তার মানে এই নয়, তারসহ ট্রিমার খারাপ। তারবিহীন ট্রিমারগুলো দাড়ি যেকোনো অবস্থানে থেকে সুবিধামতো কাটা বা ছাঁটার স্বাধীনতা দিতে পারে। তার ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় চলাচল করাটা অপেক্ষাকৃতভাবে সহজ। বাথরুম, বেডরুম বা বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়াটা বেশ নিরাপদও বটে। ব্যাটারিচালিত বা তারবিহীন দাড়ির ট্রিমারগুলো তারসহ বা কর্ডেড ট্রিমারের চেয়ে কম শক্তিশালী, এমন ভুল ধারণা অনেকেরই আছে। তার থাকুক আর নাই-বা থাকুক, ভালো মানের ট্রিমারগুলো কোনোভাবেই দুর্বল বা কম শক্তিশালী হয় না।

এ ছাড়াও বেশির ভাগ নতুন মডেলের তারবিহীন বা ব্যাটারিচালিত দাড়ির ট্রিমারে সেটিকে তারযুক্ত অবস্থায় ব্যবহার করার অপশনও দেওয়া থাকে। অতএব, তুমি যেমন তোমার ট্রিমারটির রিচার্জেবল ব্যাটারির স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছ, তেমনি প্রয়োজনের সময় সেটিকে তারযুক্ত করেও ব্যবহার করতে পারবে।

ভালো ট্রিমারের কিছু বৈশিষ্ট্য

  • ব্যবহারের সুবিধার জন্য কর্ডলেস বা তারবিহীন ব্যবহারের অপশন।
  • তারবিহীনভাবে ব্যবহার করার সময় সর্বো”চ সময় ধরে চলার জন্য ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ।
  • প্লাগ-ইন বা তারসহ ব্যবহারের সুবিধা : বিভিন্ন কর্ডলেস ট্রিমারে তারযুক্ত অবস্থাতেও ব্যবহার করার অপশন।
  • বাথরুমে ব্যবহার ও সহজে পরিষ্কার করার জন্য পানিরোধী বা ওয়াটারপ্রুফ সুবিধা।
  • রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিমুভাবল বা পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি।
  • সর্বো”চ স্টাইলিংয়ের অপশন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দৈর্ঘ্য নির্ধারণের সেটিংস।

লেখা: রোদসী ডেস্ক

ছবি: ইন্টারনেট

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

one × three =