ট্র্র্যাডিশনাল ট্রেন্ডিতে আনজারা

করেছে Sabiha Zaman

সুরাইয়া নাজনীন: বিয়ের উৎসব জমে উঠেছে। ধুম পড়েছে বিয়ের কেনাকাটায়। পথের বিচরণ আলোয় আলোয়। এবার কনের পোশাকে রয়েছে জমজমাট আয়োজন। পোশাকের কাজ আর নকশায় বিয়ের মঞ্চে কনে হয়ে উঠছে অপরূপা। বিয়ের পোশাকের ট্রেন্ড কেমন, নিশ্চয়ই তা জানতে ইচ্ছা করছে? বিয়ের পোশাকের নকশা আর ট্রেন্ড নিয়ে কথা হলো আনজারার স্বত্বাধিকারী আবির চৌধুরীর সঙ্গে-

এবারের ব্রাইডাল ড্রেসের ট্রেন্ড কেমন?
আবির চৌধুরী জানালেন, ঐতিহ্যকে ধরে যদি বলতে হয় লাল, মেরুনের ট্রেন্ড সব সময় ছিল, এখনো আছে। এই ডিমান্ড কমে যায়নি। অনেক ব্রাইড আগে থেকে পরিকল্পনা করেই রাখে আমি রেডই পরব কিংবা মেরুনই পরব, আবার অনেকে ডার্ক কালারটাও বেছে নেয়। শাড়ি, লেহেঙ্গাও চলছে ঠিক আগের মতোই। আমরা সব সময় গ্রাহকের পছন্দকে গুরুত্ব দিই। তবে ফ্যাশনের পরিবর্তন হয়নি তা কিন্তু নয়। লাইট কালারও পছন্দের তালিকায় রয়েছে। রয়েছে প্যাস্টেল শেড কালারও। আমরা লাইট কালার নিয়েও প্রচুর কাজ করেছি এবার। মজার ব্যাপার হলো থিম ধরেও কাজ হচ্ছে ব্রাইডাল ড্রেসে। ফ্লোরাল প্রিন্ট, দেশীয় ঐতিহ্যের নানা রকম মোটিফ থাকছে ব্রাইডাল ড্রেসে। বাড়ির অভিভাবকেরাও এসব মোটিফওয়ালা পোশাকে আপত্তি করছে না। যেটা পরিবর্তনের একটি অংশ। প্যাটার্নে পাকিস্তানি ডিজাইন পছন্দ করছে অনেকে, যেমন ঘারারা, সারারা, লং জ্যাকেট এসবও বিয়ের পোশাকের তালিকায় রয়েছে।

রঙের কোনো প্রথা বদল হয়েছে কি?
হ্যাঁ, অবশ্যই হয়েছে। গুগলে যদি ব্রাইড লিখে সার্চ করে, দেখবে লাল কিংবা মেরুন ব্রাইডের ছবিই বেশি আসবে। তবে এখন অনেকেই ভিন্ন রঙের পোশাক পরে অনুষ্ঠান করতে চাইছে। ব্রাইডের পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পুরো ইভেন্টের রং নির্বাচন করা হয়। স্টেজ সাজানো, গাড়ি সাজানো, বাসর সাজানো, কার্ডের নকশা এসব সবই হচ্ছে কনের পোশাকের রংকে কেন্দ্র করে। আবার ফটোগ্রাফিতে কোনটি ফুটবে বেশি, সেটার হিসাব-নিকাশও মাথায় রাখতে হচ্ছে। চাহিদার প্রথম সারিতে রয়েছে প্যাস্টেল কালার, ডাস্টি কালার, খুব লাইট শেড কালারও।

প্যাটার্নে এগিয়ে কোনগুলো?
প্যাটার্নের কথা বলতে গেলে এবার লেহেঙ্গা, সারারা, ঘারারা, গাউন এগুলোই চলছে বেশি। আবার দামটা সাধ্যের মধ্যেই থাকছে। তবে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে লং ট্রিল গাউন। লং ট্রিল গাউনের নকশা বেশি আর জাঁকজমক। এতে রয়েছে অনেক বেশি কাজের সুযোগ। তাই বিয়ের প্রধান পোশাক হিসেবে গাউন অনেকে পছন্দের তালিকায় রাখছে। তবে লং ট্রিল গাউনে লাইট কালারের থেকে ট্র্যাডিশনাল কালার বেশি থাকছে। ঘারারা, সারারা কনসেপ্টটাও এখন ব্রাইডাল ড্রেসে অনেকেই অ্যাকসেপ্ট করছে। এই ড্রেসগুলোর প্যাটার্নটা হলো ওপরে ৩৫-৪০ ইঞ্চি কামিজের মতো হয়ে নিচে লেহেঙ্গা টাইপ। অনেক ব্রাইড আছে, যারা বেলি শো করতে চায় না। হিজাব পরে কিংবা পারিবারিক কিছু ডিমান্ডের কারণেও এই পোশাক বেছে নেয়। তবে পোশাকটি গুছিয়ে পরলে বেশ সুন্দরই লাগে। বিয়ের পোশাকে শাড়ির আবেদন সব সময় ছিল, এখনো আছে। কাতান শাড়ি এখন বেশ চাহিদার জায়গা দখল করে রয়েছে।

ডিমান্ডের জায়গা নিয়ে বলো
যখন যে জিনিস আমরা আমাদের জায়গা থেকে প্রমোট করছি কিংবা ট্রেন্ডে রয়েছে এমন কিছু প্রোডাক্টই ডিমান্ডের জায়গা দখল করে নেয়। আবার অনেকে দেখে আমাকে কোনটা মানাচ্ছে, সেই পোশাকটাই বিয়েতে পরো। যে পোশাকটি নিজে ক্যারি করতে পারবে কিংবা কমফোর্ট এবং ফ্যাশনেও এগিয়ে, সেই ধরনের পোশাকগুলোর চাহিদা সব সময় বেশি।

বিয়ের পোশাক-কমফোর্ট নাকি ফ্যাশন?
শেষ প্রশ্নে আবির চৌধুরী জানালেন, বিয়ের পোশাক ডিজাইনের ক্ষেত্রে দুটো জিনিসই মাথায় রাখা হয়। তবে কমফোর্ট খুব জরুরি বিষয়। কমফোর্টের কথা মাথায় রেখে আমরা এখন কলির সংখ্যা বাড়িয়ে দিচ্ছি। কলি কম থাকলে লেহেঙ্গাটা ফিস কাটের মতো হয়ে যায়, এটা পরে হাঁটা কিংবা বসা কষ্টই বটে! সে জন্য আমরা ঘেরের দিকে ফোকাস দিচ্ছি বেশি। ঘের এবং কলি বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে দেখতেও যেমন গর্জিয়াস লাগে, তেমনি কমফোর্টটাও ঠিক থাকে। এখন আসি ফেব্রিকে। আগে দেখা যেত লেহেঙ্গা মানেই খুব পুরু ভেলভেট কাপড়। তবে এখন যে ভেলভেট ব্যবহার হচ্ছে না, তা নয়। ভেলভেট কাপড়ের অনেক ধরন রয়েছে। মোটা ভেলভেট কাপড়ের লেহেঙ্গা খুব গরম অনুভূত হয় আর আরামদায়ক নয় একেবারেই। কিন্তু লাইকার ভেলভেট যদি ব্যবহার করা হয়, এই পোশাকটি হবে কমফোর্টের জায়গায় নিশ্চিন্ত। আবার ঘারারা, সারারার ক্ষেত্রে নেট ফেব্রিক ব্যবহার করা হচ্ছে। গর্জিয়াস লুক দিচ্ছে কাতানও।

আনজারার স্বত্বাধিকারী আবির চৌধুরী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ছবি: আনজারা 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

seven + 7 =