ঠিকমত খাবার খাচ্ছো তো?

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। আর এই সুখের মূল খুঁজে নিতে প্রসঙ্গ আসে যখন ওয়েট লস বা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে নিজেকে ফিট রাখার চিন্তা তখনই যুক্ত হয় খাবার পরিমান সীমিত করার ব্যাপারটি। কিন্তু প্রশ্নটি হল একটি কঠোর, ক্যালোরি- নিয়ন্ত্রিত ডায়েট কি শরীর ফিট রাখতে আদৌ কি কোন কাজে আসে?

শরীর ফিট ও একটিভ রাখতে শরীরচর্চার কোন বিকল্প নেই। আর অনেকেই এই শরীরচর্চার  পাশাপাশি যে পরিমান ক্যালোরি গ্রহন করার কথা তারচেয়েও অনেক কম ক্যালোরি খাবার গ্রহন করে থাকে। এই প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদ সুসি বারেলের মতে, ‘এতে করে তুমি নিজেকে দীর্ঘস্থায়ী ক্যালোরি বঞ্চনার স্বীকার হবে এবং এতে করে নিজে ভালো থাকা বোধ হারাবে”। তাই যদি লক্ষ্য থাকে ফিট এবং স্বাস্থ্যকর থাকা তবে নিচের লক্ষণগুলোই বলে দিবে তোমার শরীর আরো খাবার চাচ্ছে কিনা-

-তুমি যদি প্রতিদিন শরীরচর্চা করো এবং তার সাথে একটি কঠোর ক্যালোরি- নিয়ন্ত্রিত ডায়েট চালু রাখো তবে দেখবে আশানুরুপ তোমার শরীরে তেমন পরিবর্তন আসছেনা। এর কারন হতে পারে শরীরে আরো জ্বালানীর প্রয়োজন। ফিট এবং একটিভ কারো জন্য, শরীরের চর্বির কার্যকরভাবে বিপাক করার জন্য পেশীগুলোর একটি নির্দিষ্ট পরিমান কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। এইজন্য প্রয়োজনের তুলনায় কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহন  করলে শক্তি সংরক্ষণের জন্য বিপাকীয় হার হ্রাস পাবে।

-সুষম খাদ্য গ্রহন করার পর তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা পর পর মানুষ ক্ষুধা অনুভব করে। আর এই ক্ষুধার অনুভূতিই বুঝিয়ে দেয় যে তমার খাবার সঠিকভাবেই নিঃশেষিত হচ্ছে। কিন্তু যারা ক্রমাগত ক্যালোরি সীমিত করেন বা কফি, প্রোটিন শেক বা কম- ক্যালোরি পানীয় এবং স্ন্যাকস গ্রহন করে থাকে, তাদের ক্ষুধার অনুভূতি কমে যেতে পারে কারন বিপাকীয় হার ক্যালোরি ঘাটতির সাথে হ্রাস পায়।

-সঠিক পুষ্টি ও ক্যালোরির অভাব মেনস্ট্রুয়াল সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। শরীরের হরমোন পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্যতালিকাগত চর্বি ও আয়রন গ্রহনের উপর নির্ভরশীল। তাই এসব গ্রহনের পরিমান কম হলে হরমোনাল মিসব্যালেন্স হতে পারে।

-দীর্ঘস্থায়ী ডায়েট সাধারনত পেট ফাঁপা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সহ হজম সংক্রান্ত সমস্যা ঘটায়। খাদ্যের পরিমান কমে যায় ফলে শরীরের বিপাকীয় হারও কমে যায়।

-ক্যালোরি রেস্ট্রিকশন সরাসরি শরীরের ইমিউনি সিস্টেমের ক্ষমতাতে প্রভাব ফেলে। কম ক্যলোরি যুক্ত খাবারগুলোতে জিঙ্ক এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটের মত অবশ্যম্ভাবী পুষ্টিগুলোর কম উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই তুমি যদি স্বাস্থ্যকর ভাবে খাচ্ছো কিন্তু নিয়মিত অসুস্থ হয়েও পড়ছো তাহলে এর মানে হল তোমার শরীর ক্রমাগত খালি হয়েই চলছে এবং এটি পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

-সবসময় এক ধরনের ক্লান্তিবোধ কাজ করবে। ত্বক শুষ্ক হয়ে উঠবে।

আমাদের শরীরের জ্বালানী হচ্ছে খাদ্য। ওয়ার্কআউটে জ্বালানী দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত খবার খাচ্ছো কিনা তা নিশ্চিত করতে ডায়েটিশিয়ান সুসি বারেলের এই চেকলিস্ট অনুসরন করা যেতে পারে-

-প্রতিদিন কমপক্ষে তিন বেলা খাবার উপভোগ করতে হবে। এবং সেই খাবারগুলোর প্রতিটিতে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন আছে তা নিশ্চিত করতে হবে।

-না খেয়ে ১২ ঘন্টার বেশি থাকা যাবেনা। প্রতি ঘন্টার একটিভিটির জন্য দৈনিক ক্যালোরি গ্রহনে অতিরিক্ত ২০০-৩০০ ক্যালোরি যোগ করতে হবে।

-শরীরচর্চার পরে, ফল এবং বাদাম বা প্রোটিন স্মুদি , স্যান্ডউইচ বা ব্রাউন রাইসের সাথে টুনা সহকারে খাওয়া যেতে পারে।

-প্রতি ৩-৪ ঘন্টা অন্তর ক্ষুধার্ত বোধ হচ্ছে কিনা তা নোট করতে হবে এবং ক্ষুধা পেলে খেতে হবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nine − eight =