ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় টেলিমেডিসিন

করেছে Sabiha Zaman

সাবিহা জামান: সময়ের অভাব কিংবা রাস্তার যানজটের কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে ইচ্ছা হয় না অনেক সময়। শুধু তাই নয়, এই করোনা মহামারির সময়ে ঘরে থাকাটাই যেন স্বস্তি। কিন্তু যদি অসুস্থতা ভর করে বাসায়, তখন উপায়? বাইরে কি তবে যেতেই হবে? না, এখন ঘরে থেকেও সরাসরি চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে।

টেলিমেডিসিন কী
ঘরে বসেই ভয়েস কল কিংবা ভিডিও কলের সাহায্যে সরাসরি চিকিৎসকের কাছ থেকে সেবা নেওয়াকেই টেলিমেডিসিন সেবা বলা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই টেলিমেডিসিনের ক্ষেত্রে। করোনাকালে আমরা যেন আরও বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছি টেলিমেডিসিনে। এখন রোগীকে আর চিকিৎসকের কাছে যেতে কষ্ট করতে হয় না। চিকিৎসাক্ষেত্রে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল অগ্রযাত্রার মাধ্যমেই। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই রোগী ও চিকিৎসক যুক্ত হতে পারছে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ছাড়াই এখন নিরাপদে ঘরে বসে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, চিকিৎসকের পরামর্শ পাচ্ছেন রোগীরা। শুধু এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে।

চিকিৎসাসেবায় এখন ডিজিটাল উন্নতির জয়জয়কার
সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসা, আমাদের প্রয়োজনীয় সব ক্ষেত্রেই এখন ডিজিটালের ছোঁয়া বিরাজমান।
৩০টির বেশি সরকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে আসছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বাতায়ন, নম্বর ১৬২৬৩। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বাতায়ন ২০১৫ সাল থেকে সেবা দিচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে কাজ করছে টনিক, ডিজিটাল হসপিটাল, পালস হেলথকেয়ার সার্ভিসেস, লাইফস্প্রিং, অর্ক হেলথ লিমিটেড, প্রাভাহেলথ সিনেসিস হেলথ, ইত্যাদি।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, আমাদের দেশে টেলিমেডিসিনের বাজার প্রায় আট হাজার কোটি টাকার। করোনাকালে টেলিমেডিসিন সেবা আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মানুষের কাছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার রোগী টেলিমেডিসিন সেবা নিচ্ছে। করোনা মহামারির দুই বছরে চিকিৎসা থেমে থাকেনি, বরং এ সময়ে টেলিমেডিসিনে সেবা নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।


গ্রামীণফোনের ডিজিটাল হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল কনসালট্যান্ট ডা. শেখ নওশীন ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে টেলিমেডিসিন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে এই করোনার সময়ে। ভিডিও কল, অডিও কল ও লাইফ চ্যাটের মতো বিভিন্ন সুবিধা থাকায় মানুষ সহজেই তার সুবিধামতো টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে সেবা ও পরামর্শ নিতে পারছে। এখন একজন চিকিৎসক গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন রোগীকে পরামর্শ দিতে পারছেন টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে।

সরকার পরিচালিত স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩) টেলিমেডিসিন সেবা নিয়ে রোগীর সংখ্যা কোটির ঘরে। স্বাস্থ্য বিষয়ে নানান তথ্য নিয়ে মানুষকে করোনার ক্রান্তিকালেও সাহস দিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বাতায়ন। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেও তারা মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।
অনেক প্রবীণ চিকিৎসক করোনার সময়ে ভার্চ্যুয়াল চেম্বারের মাধ্যমে সরাসরি রোগীর চিকিৎসা করেছেন উভয় পক্ষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভার্চ্যুয়াল রাউন্ড। অনেক হাসপাতালে ভার্চ্যুয়াল রাউন্ডের মাধ্যমে রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে।
এসব সম্ভব হচ্ছে শুধু দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলেই। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ এই মহামারির সময়ে টেলিমেডিসিন সেবায় রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের দেশ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বাস্থ্য বাতায়নের মতো টেলিমেডিসিন মাধ্যম সাহস জুগিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ঘরে বসেই ই-ফার্মেসির সেবা
শুধু চিকিৎসা নয়, প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ঘরে বসে ওষুধ কেনাও অসম্ভব কিছু নয়। এখন তুমি চাইলে তোমার ঘরে বসেই ওষুধ কিনতে পারবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন অনলাইন সাইটের মাধ্যমে ওষুধ হোম ডেলিভারির সুবিধা দিচ্ছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ওষুধ ডটকম, ওষুধওয়ালা ডটকম, ডিফার্মা, ফার্মেসি ডটকম, ই-মেডি ডটকমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
২০১৬ সালে যাত্রা গুরু করে ওষুধ ডটকম। তুমি চাইলে সরাসরি তাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ অর্ডার দিতে পারো। এ ছাড়া হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে তুমি সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলে নিজের ওষুধ কিনতে পারবে। ওষুধ ডট কমের মতো অনেক ইফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশনের ছবি ওয়েবসাইটে দিলে তারাই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ তোমার বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে।


স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবকাঠামোগত এ পরিবর্তন আর আধুনিক যাত্রা সম্ভব হয়েছে সবখানে ইন্টারনেটের ব্যবহার আর তা কাজে লাগাতে পারার কারণেই। গ্রাম আর শহরের চিকিৎসাসেবা আর অভিন্ন নয়, যার মূল কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে টেলিমেডিসিনের অগ্রযাত্রা আর অগ্রগামী ভূমিকা।

ছবি : সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eight + 16 =