ডিজিটাল এডুকেশন : চাকরিই খুঁজবে তোমাকে

করেছে Suraiya Naznin

ড. মো. আকতারুজ্জামান

কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে কিছু সম্ভাবনার দ্বারও উন্মুক্ত করেছে। পৃথিবীর প্রায় সব সেক্টরই কমবেশি এ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত, শিক্ষাক্ষেত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। সারা জীবন যে শিক্ষকেরা প্রচলিত টিচিং-লার্নিংয়ে অভ্যস্ত, তাদের পক্ষে কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়া ব্লেন্ডেড, অনলাইন বা ডিজিটাল এডুকেশনে ক্লাস নেওয়া, ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করা সহজ নয়। বিগত এক বছরের অধিক সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তাকে জীবন-জীবিকার তাগিদে বিকল্প রোজগারের পথ খুঁজতে হয়েছে, সেটা নার্সারি, প্রাথমিক বা উ”চশিক্ষা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনেকে বিকল্প রোজগারের পথ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর দীর্ঘদিন ক্লাস ও পরীক্ষা না হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হতাশা এবং বিপথে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আমরা ডিজিটালি অনেক দূর এগিয়েছি সত্যি, কিন্তু উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এখনো ডিজিটাল এডুকেশনের প্রয়োগ যেমনটি হওয়া উচিত ছিল, তা দেখতে পাইনি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ন্যাশনাল ব্লেন্ডেড লার্নিং মেথডের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।

 

প্রথমেই আমরা ফেস-টু-ফেস, অনলাইন, ব্লেন্ডেড, ডিজিটাল এবং এই সম্পর্কিত বিষয়গুলো একটু পরিষ্কারভাবে জেনে নিই। প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা যেভাবে সরাসরি ক্লাসরুমে পাঠদান করায় সেটিকে ফেস-টু-ফেস এডুকেশন বলি, যেমন ক্লাসরুমে সরাসরি গিয়ে আমরা যে লেকচার দিই। ইন্টারনেটভিত্তিক যেকোনো পাঠদান পদ্ধতিকে অনলাইন এডুকেশন বলতে পারি, যেমন জুম বা গুগল মিটের মাধ্যমে আমরা যে ক্লাস নিয়ে থাকি।

আর ফেস-টু-ফেস এবং অনলাইন এডুকেশনের সংমিশ্রণকে আমরা ব্লেন্ডেড এডুকেশন বলতে পারি, যেমন সপ্তাহের পাঁচ দিনের ক্লাস শিডিউলের মধ্যে তিন দিন সরাসরি ক্লাসরুমে এবং দুই দিন অনলাইনে পাঠদান করলে সেটা ব্লেন্ডেড এডুকেশন। তবে যেকোনো ধরনের পাঠদান পদ্ধতিকে আমরা ডিজিটাল এডুকেশন বলতে পারি যদি সেটা ডিজিটাল প্রযুক্তি বা আইসিটির সাহায্যে পরিচালিত হয়, যেমন মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি কোনো ক্লাস নিলে সেটা ডিজিটাল এডুকেশন। আর ব্লেন্ডেড বা অনলাইন এডুকেশন যেহেতু ডিজিটাল টেকনোলজি ছাড়া সম্ভব নয়, তাই উভয় পদ্ধতিই ডিজিটাল এডুকেশনের মধ্যে পড়ে।

বর্তমানে নতুন একটি কনসেপ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তা হচ্ছে ফিজিটাল এডুকেশন যা ফিজিক্যাল এবং ডিজিটাল এডুকেশনের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। এটি ব্লেন্ডেড এডুকেশন থেকে কিছুটা ভিন্ন, কারণ ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে ফেস-টু-ফেস এবং অনলাইন দুটিই পাশাপাশি চলে আর ফিজিটাল পদ্ধতিতে ফেস-টু-ফেস (ফিজিক্যাল) এবং অনলাইন (ডিজিটাল) দুটো পদ্ধতির সেরা প্র্যাকটিসগুলো ইন্টিগ্রেট করে পাঠদান করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রোবোটিকস ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের রোবটের সঙ্গে ইন্টারাকশন, একটি ক্লাসের এক-তৃতীয়াংশ ছাত্রছাত্রী সরাসরি এবং দুই-তৃতীয়াংশ অনলাইনে একই সময়ে ক্লাস করা এ ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট এনগেজমেন্ট এবং লার্নিং আউটকাম তুলনামূলক ভালো হয়। এডুকেশন ৪.০ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে ফিজিটাল এডুকেশনই হবে ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা।

ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা ফিজিটাল লার্নিং অ্যাট এডুকেশন ৪.০
এখন মূল আলোচনায় আসা যাক। ব্লেন্ডেড, অনলাইন এবং ডিজিটাল এডুকেশনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়াটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশ-বিদেশে বিশেষ করে আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনলাইন এবং ব্লেন্ডেড এডুকেশন নিয়ে সর্বমোট এক যুগের বেশি সময় ধরে কাজ করছি আমি।

এই সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে আমার মনে হয়েছে, দুর্বল গতির ইন্টারনেট, আর্থসামাজিক অবস্থা নিরিখে ডিভাইস ও উচ্চ মূল্যের ইন্টারনেট ইস্যু, শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে অনীহা, ডিজিটাল এডুকেশন সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা এবং সর্বোপরি একটি সমষ্টিক ও গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল এডুকেশন পলিসির অভাব এ দেশের সব স্তরে ডিজিটাল এডুকেশন বাস্তবায়ন ও প্রসারের সবচেয়ে বড় বাধা। রাতারাতি এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়, তবে কিছু সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারলে এবং আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারলে সহসাই এ পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে।

ব্লেন্ডেড, অনলাইন বা ডিজিটাল এডুকেশন নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি ইউনিভার্সিটিতে একটি করে কেন্দ্রীয়ভাবে ম্যানেজড এবং কাস্টমাইজড লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) যেমন মুডল, ক্যানভাস, ব্ল্যাকবোর্ড বা ন্যূনতম গুগল ক্লাসরুমের যেকোনো একটি অবশ্যই থাকা উচিত। এ ছাড়া সব একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্মার্ট-এডুকেশন টাইপের প্ল্যাটফর্ম খুবই জরুরি। শিক্ষক ও কর্মকর্তারা যাতে নিয়মিতভাবে এ প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করতে হবে।

আধুনিক এলএমএসের সঙ্গে ওয়েব কনফারেন্সিং সিস্টেম, লার্নিং অ্যানালিটিকস, ভিডিও এনগেজমেন্ট, ইন্টার‌্যাক্টিভ কনটেন্ট এবং মোবাইল এপ্লিকেশন যুক্ত থাকে, ফলে শিক্ষার গুণগত মানে পরিবর্তন আসে। ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্টের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রি প্র্যাকটিসের দূরত্ব নিরসনে এবং শিক্ষকদের নৈতিক মূল্যবোধ ও প্রফেশনালিজম তৈরিতে। এ ক্ষেত্রে ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্স (মুক) খুবই উপযোগী প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।

বিখ্যাত মুক প্রভাইডারগুলো যেমন এডেক্স, কোর্সেরা, উডাসিটি, ইউডেমির আদলে নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় কোর্স ডিজাইন করা যেতে পারে। এর ফলে টিচিং-লার্নিং আরও উন্নত এবং ইমপ্যাক্টফুল হয়।
ডিজিটাল এডুকেশনে কোলাবরেশন এবং স্টুডেন্টদের এনগেজমেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ জন্য খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফ্লিপড ক্লাসরুম পেডাগজি অনুসরণ করে ক্লাস শুরুর আগেই লেকচার নোট, অডিও-ভিজ্যুয়াল ম্যাটেরিয়ালস কেন্দ্রীয় এলএমএসে সরবরাহ করে, ফলে ক্লাসের সময়টা ডিসকাশন, প্রশ্নোত্তরপর্ব, ড্রিল-প্র্যাকটিস, বিষয়ভিত্তিক অধিকতর আলোচনার জন্য ব্যবহার করা যায়। লাইভ ক্লাসে গুগল ওয়ার্কস্পেস ফর এডুকেশন ফ্রি প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত প্রায় সব ফিচার ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন অনলাইনে স্ক্রিন শেয়ারের মাধ্যমে রেগুলার ক্লাসের মতো জ্যামবোর্ডে লেখা, ড্রয়িং করা, প্রেজেন্টেশনের স্লাইডে হাইলাইট করা, ফলে শিক্ষার্থীদের বুঝতে সুবিধা হয়। প্রতিটি লেকচার রেকর্ড করে ক্লাস শেষে ভিডিও এনগেজমেন্ট কুইজের মাধ্যমে সেটি শিক্ষার্থীদের কাছে এলএমএসে সরবরাহ করা যেতে পারে, যা পরে ভিডিও অ্যানালিটিকসের মাধ্যমে গ্রেডিং করা যায়।

এ ছাড়া অরিজিনালিটি চেকিং, স্মার্ট অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম, গ্রুপ অ্যাসাইনমেন্ট, ডিসকাশন ফোরাম, কুইজ, ক্রিয়েটিভ রাইটিং ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক এবং শিক্ষকদের জবাবদিহি এই দুটি বিষয় সামনে রেখে ডিজিটাল এডুকেশন পরিচালনা করা উচিত। শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক পিরিয়ডিক্যালি অ্যানালাইসিস করে সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়মিত পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষকদের প্রতি মাসে ন্যূনতম কয়েকটি বিষয়ের ওপর রিপোর্টিং এবং একটি সামগ্রিক ভিডিও প্রেজেন্টেশন জমা নেওয়া যেতে পারে স্মার্ট-এডুকেশনের মতো প্ল্যাটফর্মে, যেগুলোর মধ্যে থাকবে স্টুডেন্ট ফিডব্যাক, রিসার্চ অ্যাক্টিভিটি, সেলফ ডেভেলপমেন্ট, কন্ট্রিবিউশন ও ভ্যালু এডিশন, অ্যাটেনডেন্স, টিচার ও স্টুডেন্ট অ্যাকটিভিটি কমপ্লিশন লগ, মাসিক টাইমশিট এবং প্রেজেন্টেশন। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে শিক্ষকদের মাসিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। ইউনিভার্সিটিগুলো নিয়মিতভাবে এসব কাজ তদারক করলে কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করা সহজ হবে।

দেশের কয়েকটি পাবলিক এবং প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ডিজিটাল এডুকেশন সেক্টরে ভালো করছে যেমন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, শাহজালাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এর মধ্যে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিকে ব্লেন্ডেড, অনলাইন এবং ডিজিটাল এডুকেশনে বাংলাদেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হয়। ২০১৩ সালে ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল এডুকেশন শুরু করেছিল ড্যাফোডিল। বর্তমানে নিজস্ব এলএমএস, মূক প্ল্যাটফর্ম এবং স্মার্ট-এডু সিস্টেমসহ অসংখ্য সল্যুলশন নিয়ে টিচিং-লার্নিং পরিচালনা করছে শীর্ষ এ প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ কর্মসূচির অধীনে ৩০ হাজারের অধিক ল্যাপটপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি ক্যানভাস এলএমএস এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এডেক্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পাবলিক ইউনিভার্সিটির মধ্যে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, শাহজালাল ইউনিভার্সিটিসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান করোনা মহামারির শুরু থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম পরিচালনা করে আসছে।
অনলাইন এডুকেশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি। আমাদের দেশে মোট মার্কের বেশির ভাগ (৭০-৮০%) বরাদ্দ থাকে সেমিস্টার ফাইনাল/মিড টার্ম পরীক্ষায়, যা আধুনিক অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে মোটেও মানানসই নয়। অন্যদিকে অনলাইনে প্রক্টরড এক্সামের সাফল্য আশাব্যঞ্জক নয়, বিশেষ করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে। এ ক্ষেত্রে মিক্সড পদ্ধতি কার্যকরী হতে পারে।

৬০-৭০ শতাংশ মার্ক অনলাইনে অথেনটিক এসেসমেন্টের মাধ্যমে হতে পারে, যেমন ধরো ক্রিয়েটিভ অ্যাসাইনমেন্ট, কুইজ, কেস স্টাডিজ, প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট ডেভলপমেন্ট ইত্যাদি। আর বাকি ৩০-৪০ শতাংশ মার্কের জন্য ট্রাডিশনাল এক্সাম পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওপেন ও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার নিয়ে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করা যেতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার মান ভালো হবে, অন্যদিকে দেশব্যাপী তাদের বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কাজে লাগিয়ে সত্যিকারের ব্লেন্ডেড অনলাইন এডুকেশন, বিশেষ করে অ্যাসেসমেন্ট, কাউন্সেলিং, ভিডিও স্ট্রিমিং সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

অনলাইন এডুকেশনের নিজস্ব কোনো সমস্যা নেই, যে প্রতিষ্ঠান এটি পরিচালনা করবে তার গ্রহণযোগ্যতা এ ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাতারাতি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন এডুকেশন যাওয়া ঠিক নয়, ধীরে ধীরে ছাত্র-শিক্ষক-স্টাফদের এর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীল এলএমএস প্ল্যাটফর্ম এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল থাকা অত্যাবশ্যকীয়। দেশে প্রতিবছর যত শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পাস করে, তাদের সবার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন কার্যকরী শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে অনলাইন ডিজিটাল এডুকেশনের বিকল্প নেই। সরকারের পক্ষ থেকে ডিজিটাল এডুকেশন বাস্তবায়নে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতিমালা নির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যেমন ডিজিটাল এডুকেশন প্ল্যাটফর্মগুলো অ্যাকসেস করতে নামমাত্র মূল্যে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া, লাইব্রেরি থেকে ডিভাইস লোন হিসেবে দেওয়া, শিক্ষকদের প্রমোশনে অনলাইন ট্রেনিং সার্টিফিকেশন অন্তর্ভুক্ত করা, সক্ষমতা অনুসারে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রাথমিকভাবে কিছু কোর্স অনলাইনে পরিচালনা করতে অনুমতি দেওয়া, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সটাকে গুরুত্ব দেওয়া ইত্যাদি।

বর্তমানে বাংলাদেশের মাত্র দুটি ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি এবং বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি-অনলাইন এডুকেশন দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন আছে। যেহেতু ডিজিটাল বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি, তাই ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মতো যারা অনেক বছর ধরে ডিজিটাল এডুকেশনে সাফল্য দেখিয়ে আসছে, তাদের শর্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। চলো সবার জন্য ডিজিটাল এবং কার্যকরী এডুকেশন নিশ্চিত করি, তখন তোমাকে আর চাকরি খুঁজতে হবে না, চাকরিই তোমাকে খুঁজবে।

 

ড. মো. আকতারুজ্জামান
ডিজিটাল এডুকেশন এক্সপার্ট এবং পরিচালক, ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টার
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি, আশুলিয়া, ঢাকা
প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান, আইসিটি ও শিক্ষা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × 3 =