ডিজিটাল লাইফস্টাইল

করেছে Sabiha Zaman

 

হিটলার এ হালিম

ধরা যাক, একজন পর্যটক যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় বেড়াতে আসবেন। তিনি নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসা থেকে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে এলেন উবারে চেপে। ঢাকায় নেমে তিনি ডাটা (ইন্টারনেট) রোমিং করা স্মার্টফোন চালু করে উবার ডাকলেন। উঠলেন বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে। দিন দশেক বাংলাদেশ ঘুরেফিরে আগে থেকে গন্তব্য ঠিক করা দিল্লি যাবেন। ইচ্ছা তাজমহল দেখার। পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে তার নির্ধারিত এয়ারলাইনসে চেকইন করলেন। আবারও উবার ডেকে বিমানবন্দরে গিয়ে দিল্লির বিমান ধরলেন। দিল্লি নেমে উবার ডেকে হোটেলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেন। একটি ডিজিটাল ডিভাইস তার যাত্রাপথকে কত সহজ করে দিয়েছে। জীবনযাপন স্টাইলই বদলে দিচ্ছে। এমন শতেক উদাহরণ দেওয়া যাবে ডিজিটাল লাইফ স্টাইলের।

কখনো কখনো স্মার্টফোন জানাচ্ছে, তুমি এত কিলোমিটার হেঁটেছ (স্টেপ), তোমার ক্যালরি বার্ন হয়েছে এতখানি। তুমি অনেক সময় ধরে ল্যাপটপে বুঁদ হয়ে আছো, সেটাও স্মার্টফোন খেয়াল করছে। হাতের স্মার্ট ওয়াচ জানিয়ে দিচ্ছে এখন তোমার কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা উচিত বা এবার এক গ্লাস পানি পান করতে হবে তোমাকে। আরও অনেক কিছু তুমি পাবে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে। হাতের ডিজিটাল ডিভাইসটি তোমার ডিজিটাল জীবনধারাই কখন বদলে দিয়েছে, তুমি নিজেও হয়তো টের পাওনি।

ব্যাংকও এখন হাতে মুঠোয়। হিসাব খোলার জন্য এখন আর ব্যাংকে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না। নিউ নরমালে কত কিছুই না হচ্ছে। ব্যাংক পছন্দ করে তাদের একটা অ্যাপ ডাউনলোড করে মোবাইলেই খুলে ফেলা যাচ্ছে ব্যাংক হিসাব। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যাচ্ছে বিভিন্ন হিসাবে। আবার মোবাইল ব্যাংকিং খোলা হিসাবে (বিকাশ বা নগদ) টাকা আনাও (অ্যাডমানি) যাচ্ছে। সেই টাকা দিয়ে সন্তানের স্কুলের বেতন, গৃহশিক্ষকের বেতন, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে। এমনকি গৃহকর্মীর বেতনও দেওয়া যাচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। নগদ, বিকাশ, রকেট, উপায়, টিক্যাশ, এম ক্যাশ, শিওর ক্যাশ কত নামের এমএফএস সার্ভিস এখন চালু আছে। তোমার পক্ষে যেটাকে সহজ মনে হয়, সেটার অ্যাপ মোবাইলে নিয়ে নাও। ঘরে বসে স্বস্তিতে জীবন কাটাও। করোনা মহামারিতে বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। ঈদের সালামি দিতে চাও কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে নতুন, চকচকে নোট নিতে পারছ না। কোনো সমস্যা নেই। ঈদের সালামি দেওয়া যাচ্ছে। ডিজিটাল উপায়ে। বিকাশ সালামি দেওয়ার দারুণ এক কৌশল চালু করেছে।

আর ঘরে বসে কেনাকাটার জন্য আছে শতেক, এমনকি হাজারো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। পণ্য পছন্দ করে অর্ডার করে ঘরে বসেই পেয়ে যাচ্ছ প্রয়োজনীয় সবকিছু। দেশীয় ই-কমার্সে বিগত বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশ, গত বছর তা ৭০-৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ৩০০ শতাংশও প্রবৃদ্ধি ঘটেছে বলে জানিয়েছে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাব। দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন শুরু হয় দেশে। আবারও ই-কমার্স খাত বড় একটা লাফ দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় গ্রোসারি পণ্যে এই আগ্রহটা বেশি দৃশ্যমান। তবে ই-কমার্সের এই বড় লাফের মূল অংশীদার ঢাকা। ই-কমার্সের বেশি উত্থান ঢাকাতেই।
ই-কমার্সের সাফল্যের কারণে দেশে কুরিয়ার সার্ভিস, ফুড ডেলিভারি সার্ভিস আলোর মুখ দেখেছে। করোনার এই কঠিন সময়ে ই-কুরিয়ার, পেপারফ্লাই, রেডেক্স কুরিয়ার সার্ভিস খুবই ভালো করছে এ খাতে। এ ছাড়া ফুড পান্ডা, পাঠাও ফুড, সহজ ফুড, ই-ফুড, হাংরিনাকির এখন জয়জয়কার। সার্ভিস ডেলিভারি দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে ফুড ডেলিভারিও বেড়েছে। অর্ডারের পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে অন্তত ৩০-৩৫ শতাংশ। ফুড ডেলিভারিতে এগিয়ে আছে ফুড পান্ডা। পাঠাও, সহজের রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও ফুডসহ অন্যান্য সেবা চালু আছে। ই-ফুডও গ্রোসারি ডেলিভারিতে অনেক এগিয়েছে।

অ্যাপস আমাদের জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। ঘুম থেকে উঠতে অ্যাপ এবং ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও অ্যাপ ব্যবহার হচ্ছে। জীবন সাজাতে এবং জীবন বাঁচাতে এখনো অ্যাপের কোনো জুড়ি নেই। কোথাও গিয়ে কাক্সিক্ষত জায়গা খুঁজে পাচ্ছ না, গুগল ম্যাপস চালু করে দাও। পেয়ে যাবে। উবারের কথা আগেই বলেছি। বাংলাদেশে এখন ৪ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক ফেসবুক ব্যবহার করে, যার বেশির ভাগই অ্যাপের মাধ্যমে। করোনা শুরুর আগে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ৪ কোটি। ওটিটি (ওভার দ্য টপ) অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ সাড়ে তিন কোটি, ভাইবার এ দেশের ২ কোটির বেশি মানুষ ব্যবহার করে। এমন কিছু নেই যে তা এখন অ্যাপে পাওয়া যাবে না। বাড়ি বদল করতে চাও? সেবা এক্সওয়াইজেড বা হান্ডিমামার অ্যাপ নামিয়ে ফেলো। বিশেষ ছাড়ে তাদের সেবা পাবে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাসা বদল হয়ে যাবে। পুরোনো ফার্নিচার গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেবে, ট্রাক লাগবে অ্যাপ নামিয়ে ফেলো। অর্ডার করো। সময়মতো তোমার বাসার নিচে ট্রাক এসে ভেঁপু বাজাবে। শেয়ার কেনাবেচা করতে চাও? ব্রোকারেজ হাউসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। অ্যাপ নামিয়ে নাও। হাতের মোবাইল ফোন দিয়ে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবে। এমনকি রাস্তায় বের হয়েছ কাজে। হঠাৎ প্রকৃতি ডাক দিল। সাড়া দিতে হবে। অবস্থা বেগতিক। পাবলিক টয়লেট খুঁজে পাচ্ছ না? গুগলে গিয়ে সার্চ দাও, পেয়ে যাবে। ঢাকা শহরে সুন্দর সুন্দর টয়লেট হয়েছে। প্রয়োজনে খুঁজে না পেলে গুগল ম্যাপসের সহায়তা নিতে পারো। ফলে অ্যাপস নিয়ে আর বলাই বাহুল্য।

করোনার দিনে সুরক্ষা নিয়ে এসেছে টেলিমেডিসিন। এখন ডাক্তার দেখাতে ঘরের বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে নিতে পারো। প গড় বা বাগেরহাটের রামপাল থেকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় আসার প্রয়োজন নেই। নিজের এলাকা থেকেই ডাক্তার দেখাতে পারবে। করোনাকালে লোকজন বাসাবাড়ির বাইরে এসে অনেকেই ডাক্তার দেখানো বন্ধ করে দিয়েছে।
দেশে ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠান টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সরকারের স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, পালস হেলথকেয়ার সার্ভিসেস, লাইফস্প্রিং, অর্ক হেলথ লিমিটেড, সিনেসিস হেলথ, টনিক, ডিজিটাল হসপিটাল, প্রাভাহেলথ ইত্যাদি।
বেসিস (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস) সূত্রে জানা গেছে, দেশে টেলিমেডিসিনের বাজার প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার। প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি রোগী টেলিমেডিসিন সেবা নিচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশের টেলিমেডিসিন সেবা নিতে পারছেন। তবে দেশে হাইব্রিড হাসপাতালের সংখ্যা বাড়লে এই বাজার আরও বড় হবে। করোনাকাল, বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রোগের উদ্ভব, চিকিৎসাব্যবস্থার কারণে দেশের হাসপাতালগুলো হাইব্রিড ব্যবস্থায় গেলে দেশের চিকিৎসাসেবা আরও ভালো হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য অনলাইনে ক্লাস চালু হয়েছে। বিশেষ করে শহুরে এলাকায় অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। গ্রাম বা মফস্বল শহরগুলোতে অনলাইনের সুযোগ না থাকায় সেখানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইভ ক্লাসের সুবিধা নিতে পারছে শিক্ষার্থীরা। ক্লাস শেষে সেসব পাঠ অনলাইনে তুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কোনো না কোনো মাধ্যম থেকে সেসব দেখার সুযোগ পাচ্ছে। শহরের ছেলেমেয়েরা এখন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাশতা করে স্কুল ড্রেস পরে ল্যাপটপ বা মোবাইলের সামনে বসছে ক্লাস করতে ও প্রান্ত থেকে শিক্ষকেরা পড়াচ্ছেন, পড়া দিচ্ছেন, পড়া আদায় করেও নিচ্ছেন। এমনকি পড়া শেষ পরীক্ষাও নিচ্ছেন। ক্লাস চলাকালে মোবাইল বা ল্যাপটপের ক্যামেরা অন রাখতে হচ্ছে, যাতে করে শিক্ষার্থীরা ফাঁকি দিতে না পারে সে জন্য।

এ সময়ে অনলাইন ক্লাস ও অনলাইন মিটিংয়ের জন্য দেশে এই সময়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে জুম, মাইক্রোসফট টিমস, গুগল মিট, গুগল ক্লাসরুম, হাউস পার্টি, ওয়েবেক্স ইত্যাদি অ্যাপভিত্তিক এই ভিডিও কলিং সফটওয়্যারগুলো। তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে মেসেঞ্জার রুম। দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইএসপিএবি ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাব সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মোবাইলে গেমস খেলা খুব বেড়েছে এ সময়। মোবাইল গেমস বা অনলাইন গেমস বরাবরই জনপ্রিয় ছিল। করোনাকালে ছেলেপুলেদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম। ফলে সময় কাটাতে বাবা-মায়েরা তাদের হাতে মোবাইল তুলে দিয়েছিলেন। এখন তারা মোটামুটি মোবাইলে বা গেমে আসক্ত। গেম থেকে তাদের ফেরানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ঢেউ শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ছড়িয়েছে। বন্ধের দাবি উঠেছে ফ্রি ফায়ার, পাবজির মতো গেমগুলোর।
দেশে এ সময় শীর্ষে আছে পাবজি, ফোর্টনাইট, ফ্রি-ফায়ার, ভ্যালোরেন্ট গেমস। আইএসপিগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে খুব খেলা হচ্ছে পাবজি, ফোর্টনাইট, ফ্রি-ফায়ার, ভ্যালোরেন্ট, লিগ অব লেজেন্ড, ফিফা-২০২০, কাউন্টার স্ট্রাইক ইত্যাদি গেমস। দেশে এই মুহূর্তে গেমসে ব্যয় হচ্ছে সাড়ে ৫০০ জিবিপিএসর বেশি (আপ ও ডাউন স্ট্রিম মিলিয়ে) ব্যান্ডউইথ। করোনাকালের আগে যার পরিমাণ অনেক কম ছিল। তবে সবাই যে গেমস খেলে সময় নষ্ট করছে, তা নয়। অনেক শিক্ষার্থী এ সময় ইউটিউব দেখে ভিডিও বানানো শিখে ফেলছে। নিজেরাই ভিডিও শ্যুট করে বানিয়ে ফেলছে মজার বা হাসির কিছু একটা। শিক্ষামূলক ভিডিও থাকছে। নিজেই ইউটিউবে চ্যানেল খুলে ছেড়ে দিচ্ছে। লাইক, ভিউ বাড়ছে। তাদের আলাদা সক্ষমতার প্রকাশ হচ্ছে। কেউ কেউ ছবি সম্পাদনা শিখে ইমেজ প্রসেসিংয়ের কাজও করছে।

করোনাকালে লকডাউন দিলে দেশে নতুন এক সংস্কৃতির জন্ম নেয়। ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাসা থেকে কর্মক্ষেত্রে কানেক্টেড থাকা। মিটিং, অফিস ওয়ার্ক, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন সবই এখন ঘরে বসেই হচ্ছে। অফিসের কর্মীরা ঘরে ফরমাল শার্ট পরে মিটিং করছেন, হয়তো পরনে লুঙ্গি নয়তো শর্টস! তাতে কী। ক্যামেরায় না এলেই তো হয়। অনেকে ঘরের কাজ সারতে সারতে অফিস করেন। আর এই সুযোগে অনেক প্রতিষ্ঠান অফিস ছেড়ে দিয়ে কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে অফিসের ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, পানি ও অন্যান্য বিল, অফিস খরচ সেভ হচ্ছে। পরিচলন ব্যয় (ওপেক্স) কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো লাভের মুখ দেখছে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, সেগুলো টিকে যাচ্ছে। অনেকে অফিস স্পেস কমিয়ে ফেলছে খরচ কমানোর জন্য। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান চলে যাচ্ছে কো-স্পেসে। এটা হলো অন্য একটা অফিসে নিজেদের জায়গা বেছে নেওয়া। অফিসের জন্য সব আছে সেখানে। নতুন করে কোনো কিছু কেনার প্রয়োজন নেই। মাস শেষে শুধু বিল পরিশোধ করলেই হয়। কো-স্পেস ধারণা আগে থেকে থাকলেও করোনাকালে তা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ভালোভাবে দাঁড়িয়ে গেছে, যার পোশাকি নাম কো-স্পেস। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দু-তিনজনের বসার ব্যবস্থা করে সবাইকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বাসায়। বাসা থেকে তারা কাজ করছে। নতুন এই সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে সবাই।


গত মার্চ মাসে দেশে মোবাইল সিমের সংযোগ সংখ্যা বাড়লেও কমেছে এপ্রিলে। লকডাউনের কারণে কমেছে সংযোগ সংখ্যা। মার্চে দেশের মোট মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি প্রকাশিত এপ্রিল মাসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ১৭ কোটি ৪১ লাখ। এক মাসের ব্যবধানে সংযোগ কমেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার। যদিও প্রতিবেদনে মোবাইল সংযোগ বাড়া, কমার কোনো কারণ উল্লেখ নেই।

বিটিআরসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মার্চে দেশের মোবাইল সিমের সংযোগ সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার। ফেব্রুয়ারি মাসে যা ছিল ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার। মার্চে এক মাসের ব্যবধানে এই সংখ্যা বাড়ে ১২ লাখ ৭৩ হাজার।
অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীও কমেছে, বিশেষ করে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে ৭ লাখ ১০ হাজার। বিটিআরসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ বছরের মার্চ মাসের শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজারে। এপ্রিলের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫৪ লাখ ৩০ হাজারে। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক বাড়েওনি, কমেওনি। মার্চে যা ছিল, এপ্রিলেও তাই, ৯৮ লাখ ১০ হাজার।

এপ্রিলে দেশের তিন মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের সংযোগ সংখ্যা কমেছে। বেড়েছে শুধু টেলিটকের। মোবাইল সংযোগ কমার শীর্ষে রয়েছে রবি। অপারেটরটি এক মাসে গ্রাহক হারিয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার। গ্রামীণফোন হারিয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার। আর বাংলালিংক হারিয়েছে ৬০ হাজার সংযোগ। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের সংযোগ সংখ্যা এপ্রিলে বেড়েছে ৬০ হাজার। মার্চে অপারেটরটির গ্রাহক ছিল ৫৬ লাখ ৯০ হাজার, এপ্রিলের শেষে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার।
সরকারিভাবে বলা হচ্ছে দেশে বর্তমানে ২০৩৪ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হচ্ছে। যা এক বছরের কিছু সময় আগে ছিল ১০৫০ থেকে ১১০০ জিবিপিএস। করোনাকালে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে। এক বছরে ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুণ। যদিও আইএসপি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে বর্তমানে ২৫০০-২৭০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক বর্তমানে দেশে প্রায় এক কোটি। এই সংখ্যক গ্রাহক দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ১৭ শতাংশ। কিন্তু এই গ্রাহকেরা দেশের মোট ব্যান্ডউইথের ৫৮ শতাংশ ব্যবহার করে।

ইন্টারনেটে ভালো রেজল্যুশনের মুভি দেখা, ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা, অনলাইনে গেম খেলা, রান্নার অনুষ্ঠান দেখা, হালে নাটক দেখার পরিমাণ বেড়েছে। বাসাবাড়ির ইন্টারনেট ব্যবহারের চিত্র এটি। বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার আগে গেমাররা জানতে চান ম্যাক্সিমাম ব্যান্ডউইথ কত পাওয়া যাবে? সিঙ্গাপুর, ইউরোপের বিভিন্ন অনলাইনের গেমস স্পটের ল্যাটেন্সি কেমন?

অনলাইন বা অ্যাপ স্টোরে নেটফ্লিক্স, হৈ চৈ, বঙ্গ, জি-ফাইভ অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, বায়োস্কোপ, সিনেম্যাটিক নামের অ্যাপগুলো এখন বেশি খোঁজে বিনোদনপ্রত্যাশীরা। এসব অ্যাপের ডাউনলোডের হারও বেড়ে গেছে। টিভিতে নাটক দেখা হালে বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞাপনের অত্যাচারে অনুষ্ঠান হারিয়ে যাচ্ছে। তা থেকে মুক্তি দিচ্ছে দেশীয় এবং বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলো। কম বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞাপনবিহীনভাবে এসব অ্যাপে উপভোগ করা যাচ্ছে বিনোদনের নানান শাখা।

ছবি: সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

one × 5 =