ডিমের বিকল্প ব্যবহার

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

স্ক্র্যাম্বল বা সিদ্ধ করা হোক অথবা পোচ বা ভাজা- যেভাবেই তৈরি করা হোক না কেন ডিম একাই সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। কত কত মুখরোচক আইটেম করা যায় এই ডিম দিয়ে তার কোন ইয়ত্তা নেই। শেফ, বেকার এবং আইসক্রিম প্রস্তুতকারকদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। যেহেতু এমন অনেক রেসিপি আছে যেখানে সম্পূর্ণ ডিমের প্রয়োজন হয়না। এমতাবস্থায় বাকি অংশগুলোর সাথে কি করা যায় তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

ডিমের লেফটওভার সাদা অংশ

ফেস মাস্ক

মুখের ত্বকের যত্নে ডিমের সাদা অংশ অনেক কাজে দেয়। একে অল্প পানি দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিয়ে মুখে ব্যবহার করা যাবে। এতে অ্যান্টি-এজিং এর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এছাড়া ডিমের সাদা অংশ ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে, পোরস ছোট করে এবং স্কিনকে টানটান করতে সাহায্য করে।

গ্লু  হিসেবে ব্যবহার

ডিমের সাদা অংশ শুকানোর সাথে সাথে সেগুলো ক্রমশ আঠালো হয়ে যায়। যদিও বিশেষভাবে শক্তিশালী নয়, তবে কাগজ বা হালকা কার্ডবোর্ডের জন্য আঠালো হিসেবে ভাল কাজ করে।

লেদার ক্লিনার

ডিমের সাদা অংশের আঠালো গুণও কিছু কিছু সারফেসে, বিশেষ করে চামড়া পরিষ্কার করতে ভালো কাজে দেয়। আলতো করে জুতা, ব্যাগ বা এমনকি সোফাতে ঘষে তারপর একটি কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। ডিমের সাদা অংশে কোন গন্ধ নেই, তাই চামড়ায় ডিমের গন্ধের কোন ঝুঁকি নেই। ডিমের সাদা অংশ চামড়ার উপর একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে।

হেয়ার ট্রিটমেন্ট

কৃত্রিম চুলের পণ্য কেনার পরিবর্তে, সহজেই ডিম ব্যবহার করতে পারো যা সহজেই বাসায় তৈরি করা যায় এবং কার্যকর। ডিমে প্রচুর প্রোটিনের পাশাপাশি চুলের জন্য উপকারী অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে। চুল যদি অয়েলি হয়ে থাকে তবে শুধুমাত্র ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ডিমের লেফটওভার কুসুম

বিস্কুট ডেকোরেশন

ডিমের কুসুমের সাথে সামান্য পানি এবং খাবারের রঙ মিশিয়ে নিয়ে তা বেক করার আগে বিস্কুটের উপর ব্রাশের সাহায্যে হালকা প্রলেপ লাগিয়ে দেয়া যায়। বেক করার পর অনেক সুন্দর রেজাল্ট পাওয়া যাবে।

হেয়ার কন্ডিশনার

একটি রিচ কন্ডিশনারের জন্য একটি ডিমের কুসুম পানি বা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। শ্যাম্পু করার পর মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে চুল হবে ঝকমকে এবং সিল্কি।

ডিমের খোসা

সার হিসেবে

মাটি তৈরিতে কম্পোস্টে ডিমের খোসা চূর্ণ যোগ করলে ক্যালসিয়ামের পরিমান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং এতে মাটি আরও সমৃদ্ধ হবে।

বীজ ধারক

ডিমের খোসা থেকে পাওয়া ক্যালসিয়াম বীজের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করতে পারে। ডিম ব্যবহার করার সময়, খোসাগুলো এমন ভাবে ভাঙতে হবে যাতে ছোট বাটি তৈরি হয়। এরপরে তাতে মাটি দিয়ে ভরাট করে বীজ পুঁতে দিতে হবে। শাঁস থেকে পাওয়া পুষ্টি মাটিকে সমৃদ্ধ করবে। এতে গাছ সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে।

কীটপতঙ্গ প্রতিরোধক

ডিমের খোসা গুঁড়ো করে গাছপালা বা মাটিতে ছিটিয়ে দিলে, তাতে কীটপতঙ্গ যেমন শামুক এবং স্লাগগুলোকে প্রতিরোধ করতে পারে।

এখানেই শেষ নয়। ডিম সিদ্ধ করার পর তার পানি ফেলে না দিয়ে এটিকে ঠান্ডা হতে সময় দাও, তারপর তা গাছে ঢেলে দাও। এই পানি থেকে গাছ অনেক পুষ্টি পাবে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

9 − 6 =