ডিম ফ্রিজে রাখছো কী?

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের খাওয়া দাওয়ার এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ডিম। কি সকালের নাস্তায় হোক, কিংবা দুপুরের খাবার; ডিম হল সবচেয়ে বহুমুখী কিন্তু ঝামেলা মুক্ত খাবার। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছো কি ডিম সংরক্ষণের সঠিক উপায় কী? হয়তো মনে আসতেই পারে এই আবার নতুন কি? ডিম কিনো আর ফ্রিজে রেখে দাও। কিন্তু কিছু দেশে এটা বিশ্বাস করা হয় যে ডিম কখনোই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ঠিক না কারণ এটি ডিমের স্বাদকে প্রভাবিত করতে পারে, যেখানে অন্যান্য জায়গায় বলা হয় ডিমের শেলফ লাইফ বাড়ানোর সঠিক উপায় হল তাদের ফ্রিজে সংরক্ষণ করা। আসলেই কোনটি দরকার? ডিমের সতেজতা ধরে রাখার সঠিক উপায় সম্পর্কে আসো জেনে নিই।

অনেকেই সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় প্যান্ট্রিতে ডিম সংরক্ষণ করে, অন্যরা ফ্রিজে ডিম সংরক্ষণ করে। এমতাবস্থায় আমি কি করবো? এর উত্তরটি খুবই সহজ। কারণ তুমি কোথায় থাকবে, তাপমাত্রা এবং কীভাবে ডিম প্রস্তুত বা পরিষ্কার করবে তার উপর সম্পূর্ণরুপে নির্ভর করে কীভাবে ডিম সংরক্ষণ করবে। পরিষ্কার করার পাশাপাশি অঞ্চলের তাপমাত্রা ডিম সংরক্ষণে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে এবং এই সহজ পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করে সংরক্ষণ করার আগে ডিম পরীক্ষা করতে পার।

বছরের পর বছর ধরে এটা বিতর্কের বিষয় ছিল যে সংরক্ষণ করার সর্বোত্তম উপায় কী কারণ এটি খাদ্য নিরাপত্তার সাথে জড়িত। ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। ডিমের খাবারে বিষক্রিয়া হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হল সালমোনেলা নামে পরিচিত একটি ব্যাক্টেরিয়া। সালমোনেলা হল এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা অনেক উষ্ণ রক্তের প্রানীর অন্ত্রে বাস করে। পশুর অন্ত্রের ট্র্যাক্টের মধ্যে থাকা অবস্থায় এটি সম্পূর্ণ নিরাপাদ কিন্তু এটি খাদ্য সরবরাহে প্রবেশ করলে গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। সালমোনেলা প্রাদুর্ভাবের উৎস হলো আলফালফা স্প্রাউট, পিনাট বাটার, মুরগির মাংস এবং ডিম। ১৯৭০ এবং ১৯৮০ এর দশকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭৭% সালমোনেলা প্রাদুর্ভাবের জন্য ডিম দায়ী ছিল। এইজন্য আমেরিকা ও এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশ ফ্রিজে ডিম রাখাকে নিরাপদ মনে করে। এতে করে এই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়না, শুধুমাত্র বৃদ্ধি রোধ করে। এছাড়াও ডিম ফ্রিজে থাকলে ডিমের খোসা ভেদ করে ব্যাকটেরিয়ার জন্য ভেতরে প্রবেশ করা জটিল হয়ে পড়ে। তবে ডিম জীবাণুমুক্ত করা থাকলেই এই হিমায়িত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা উচিৎ।

কিছু দেশে ডিম পরিষ্কার করা হয়, ফ্রিজে রাখা হয় এবং পরে পাঠানো হয়। আদর্শভাবে যখন ডিম ফ্রিজে রাখা হয় তখন তাদের সতেজতা ধরে রাখতে ফ্রিজ্র রাখা অপরিহার্য। ফ্রিজে ডিম বেশিক্ষণ বাইরে রাখলে ব্যাকটেরিয়া দূষণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। সুতরাং ডিম কোথায় রাখলে ভালো হবে তা মূলত নির্ভর করে ডিম সংগ্রহের এবং কীভাবে সেগুলোকে সংরক্ষন করা হয়েছে তার উপর। তবে প্রোপার স্যানিটাইজেশনের পরে সেগুলোকে যদি ফ্রিজে রাখা না হয় তবে সেগুলোকে সাধারণ ঘরোয়া তাপমাত্রায় রাখতে পারো।

অন্যান্য অসুবিধা

ফ্রিজে রাখা এর কিছু সুবিধা থাকলেও এর অসুবিধাও রয়েছে।। যেমনঃ

ডিম ফ্রিজের স্বাদ শুষে নিতে পারে

ডিম তোমার ফ্রিজের অন্যান্য খাবার থেকে গন্ধ শোষণ করতে পারে। যেমন তাজা কাটা পেঁয়াজ। তাদের কার্টনে ডিম সংরক্ষণ করা এবং বায়ুরোধী পাত্রে তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার সিল করা এই ঘতনাতি প্রতিরোধ করতে পারে।

ফ্রিজের দরজায় সংরক্ষণ করা উচিৎ নয়

অনেকেই তাদের ফ্রিজের দরজায় ডিম রাখেন। তুমি যখনই তোমার ফ্রিজ খোলো তখন এটি তাদের তাপমাত্রার ওঠানামা করতে পারে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এবং ডিমের প্রতিরক্ষামূলক ঝিল্লিকে দুর্বল করে দিতে পারে। অতএব ফ্রিজে রাখলেও তা পেছনে একটি শেলফে রাখা ভাল।

ঠাণ্ডা ডিম বেক করার জন্য সেরা নয়

শেষ অবধি কিছু শেফ দাবি করেন যে ঘরের তাপমাত্রা ডিম বেক করার জন্য সেরা। যেমন কেউ কেউ ব্যবহার করার আগে রেফ্রিজারেটেড ডিমগুলোকে ঘরের তাপমাত্রায় আসতে দেয়ার পরামর্শ দেয়।

পরিশেষে বলা যায় যে, ডিম ফ্রিজে রাখা প্রয়োজনীয় কিনা তা নির্ভর করে তোমার অবস্থানের উপর, যেহেতু সালমোনেলার চিকিৎসা দেশ অনুসারে পরিবর্তিত হয়। তুমি যদি ফ্রিজে ডিম রাখতে চাও তবে একটি এয়ারটাইট পাত্রে ঢাকনা বন্ধ করে কোন তাকে রাখো। এভবে রাখলে সঠিক তাপমাত্রায় প্নেকদিন সংরক্ষণ করা যাবে। আর যদি তা হয় রান্না করা ডিম, তবে তা ভূলেও কখনও তিন থেকে চারদিনের বেশি ফ্রিজে রাখবেনা। এতে ডিমের গুন নষ্ট হয়ে যায় । এতে এর থেকে কোন উপকার তো আশা করা যাবেনা উলটো পেটের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিবে।

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four × four =