তুমি কি পারফেক্ট গৃহিণী?

করেছে Rodoshee

রোদসী ডেস্ক : 
অনেকের ধারণা, গৃহিণী হওয়া অনেক সহজ কাজ। যে কেউই ভালো গৃহিণী হতে পারেন। কিন্তু এটি আসলে ভুল ধারণা। একজন গৃহিণীকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়, অনেক কিছু একসঙ্গেই সামাল দিতে হয়। একজন সুগৃহিণী সব সময় চাইবেন সঠিকভাবে তার পরিবার ও ঘর সামলাতে। কিন্তু নানা ঝামেলার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সব সময় সব কাজ করা ঠিকমতো হয়ে ওঠে না। যদি পারফেক্ট গৃহিণী হওয়ার কোনো ফর্মুলা থাকত তাহলে দারুণ হতো, তাই না?

মনস্থির করো
‘সবকিছুর আগে পরিবার, তারপর অন্য কাজ’-এই কথাটি মনে গেঁথে নাও। তারপর তোমার সারাদিনের পরিকল্পনাগুলো করো।

লিস্ট তৈরি করো
প্রতিদিনকার কাজের লিস্ট তৈরি করে নাও। রান্না করা, পরিষ্কার করা, কেনাকাটা এমনকি বাচ্চাদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়াসহ সব কাজের একটি লিস্ট তৈরি করে নাও। তোমার নতুন বিয়ে হয়ে থাকলে, কী কী কাজ করতে হবে এবং কী কী কাজ তুমি শিখতে আগ্রহী, তার একটি লিস্ট তৈরি করে নিতে পারো। এটি তোমার কাজের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজকে সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করবে। কাজের সময় নির্দিষ্ট করে নিতে পারো। যেমন তুমি ঠিক করে রাখতে পারো ১৫ মিনিটে শোবার ঘরটি গোছাবে। এতে কাজ করা সহজ হবে, সঙ্গে সময় ম্যানেজ করা হয়ে যাবে।
ঘর গোছানো
ঘর প্রতিনিয়ত অগোছালো হয়ে থাকে। বিশেষ করে যদি ঘরে বাচ্চা থাকে, তবে তো কোনো কথাই নেই! বাচ্চা হোক বড় ঘর অনেক বেশি অগোছালো থাকে। তোমার ঘরে কোন জিনিসটি কোথায় রাখবে, তা আগে পরিকল্পনা করে রাখো। এ ছাড়া ঘর অগোছালো হলে দ্রুত গোছানোর চেষ্টা করো। পরে করব বলে রেখে দিলে দেখা যাবে ঘরটি আর গোছানো হয়ে উঠছে না।
ঘর পরিষ্কার রাখা
ঘর সব সময় পরিষ্কার রাখো। একজন মানুষের পক্ষে একা ঘর পরিষ্কার করা কঠিন। তাই ঘর পরিষ্কার করতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নাও। বয়স অনুযায়ী ঘরের সদস্যদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দাও। ঘর পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে ঘর সাজানোর দিকে লক্ষ রাখবে। তবে খেয়াল রাখবে ঘর যেন অতিরিক্ত সাজানো না হয়ে যায়।

নিজেকে সময় দাও
সংসারের কাজ করতে করতে নিজের কথা ভুলে গেলে চলবে না। একজন পারফেক্ট গৃহিণী ঘরে সব কাজ করে নিজের জন্য কিছু সময় বের করে রাখেন। সুতরাং দিনে কিছুটা সময় নিজেকে দাও। ত্বকের যত্ন করো বা চুলের যত্ন। সম্ভব হলে পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করে আসতে পারো। মনে রাখবে, তুমি যদি সুস্থ-সুন্দর থাকো, তবে তোমার পরিবারও সুস্থ-সুন্দর থাকবে। তারা তোমার ওপর নির্ভরশীল।
ইতিবাচক থাকো
সব সময় ইতিবাচক মত পোষণ করো। কারণ, তোমার থেকে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে। তাই তোমাকে নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে হবে।
মজার কিছু রান্না
কথিত আছে, ছেলেদের হৃদয়ের রাস্তা পেট দিয়ে যায়। এই কথাটি তোমার বর এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। নতুন কিছু মজাদার খাবারের রেসিপি শিখে নাও চটজলদি। এই খাবারগুলো তৈরি করে চমকে দাও প্রিয় মানুষদের।
মনে রাখবে, একজন পারফেক্ট গৃহিণী হওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। এর জন্য প্রয়োজন শুধু ইচ্ছা, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা আর মমতা।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × 2 =