ত্বকের যত্নে আবশ্যকীয় উপাদান

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমরা সবাই টুকিটাকি ত্বকের যত্ন করে থাকি। শধুমাত্র ফেসওয়াশ এবং ময়েশ্চারাইজ হোক অথবা ৪ স্টেপের রুটিন হোক, প্রায় প্রত্যেকেরই ত্বকের যত্নের রুটিন রয়েছে। আর এই যত্নের নিমিত্তে ব্যবহৃত প্রোডাক্টের এমন কিছু উপাদান থাকা আবশ্যক যা তোমার ত্বকের যত্নের রুটিনে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

একটি উজ্জ্বল কোমল ত্বক কে না চায়। ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে ভাল যত্ন নেয়ার মাধ্যমে। আর এই পরিচর্যার জন্য সঠিক উপাদান আর প্রোডাক্ট খুঁজে বের করা নেহাত সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু আমরা বেশিরভাগ সময়ই যে পন্যগুলো কিনছি বা ব্যবহার করছি তার উপাদানগুলোর তালিকাটি ভালোভাবে পড়ে দেখিনা। কারন আমাদের মধ্যে খুব কম মানুষই জানি যে প্রতিটি পৃথক স্কিনকেয়ার উপাদানের আসলে কী কী সুবিধা রয়েছে। প্রোডাক্টে ব্যবহৃত উপাদানগুলো সম্পর্কে ধারনা থাকা তোমার ত্বককে চেঞ্জ করতে সাহায্য করতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে যে সেগুলো ত্বকের প্রয়োজনের সাথে মানানসই। ত্বকের যত্নের এমন কিছু উপাদানের সাথে আমরা পরিচিত হয়ে নিই-

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড

এটি শুধুমাত্র ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করেনা, সেই আর্দ্রতাকে বাতাসে বাষ্পীভূত হতে বাধা দেয়। এটি তৈলাক্ত ও শুষ্ক উভয় ধরনের ত্বকের জন্য কার্যকর। একটি হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম ত্বকের যত্নের রুটিনে দুর্দান্ত সংযোজন। বিশেষ করে গ্রীষ্ম থেকে শরৎ এবং শীতের মাসগুলোতে, যখন তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা হ্রাস পায়।

ভিটামিন সি

স্বাস্থ্য বিষেষজ্ঞরা অনেক আগে থেকেই খাবারে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি পাওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সর্বোপরি , সঠিক ফল এবং শাকসবজি খাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ত্বকের যত্নের পন্যগুলোতেও বিস্তৃতভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি দূষন ও মুক্ত র‍্যাডিকেলের মত পরিবেশগত আবর্জনা থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সহায়তা করে। ফাইন লাইনস এবং বলিরেখা কমিয়ে চেহারায় উজ্জ্বল এবং প্লাম্প ভাব নিয়ে আসে।

রেটিনল

সব স্কিনের ধরনের উপর প্রযোজ্য এই উপাদানটি স্কিনকেয়ারে বিস্তৃত ভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি ত্বককে রিনিউ করে, ব্রন কমাতে এবং কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এন্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে, ফাইন লাইনস ও রিঙ্কেলস দূর করে। সহজভাবে বলতে গেলে কি না করে?

ভিটামিন বি৫

ভিটামিন বি৫ শুষ্ক ত্বকের ত্রানকর্তা স্বরুপ। এটি স্কিনের ব্যারিয়ারকে স্থিতিশীল রাখে। ত্বককে প্লাম্পি করে এবং ফাইন লাইনস ও রিঙ্কেলস কামিয়ে আনে। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন বি৫ ব্রন কমাতেও কার্যকর।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরার শান্ত এবং সুদিং বৈশিষ্ট্যের জন্য একে ত্বকের যত্নের পন্যে বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়। শুধুমাত্র সানবার্ন ট্রিটমেন্টের জন্য নয়, প্রাকৃতিক ভাবে প্রাপ্ত এই উপাদানে আছে পুষ্টি ও মিনারেলে ভরপুর। তোমার স্কিন যদি শুষ্ক হয়ে থাকে এবং যদি এক্সট্রা হাইড্রেশন খুঁজো তবে এই উপাদানটি অগ্রাধিকার দেয়া উচিৎ।

উইচ হ্যাজেল

উইচ হ্যাজেল প্রাকৃতিক ভাবে উত্তর আমেরিকার একটি উদ্ভিদ থেকে আহরণ করা হয় এবং এটি ব্রণ ও প্রদাহজনিত সমস্যা যেমন একজিমা এবং সোরিয়াসিস কমাতে কাজ করে। গবেষণায় পাওয়া গেছে এই জাদুকরী হ্যাজেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যার অর্থ এটিতে বার্ধক্য প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।

জিঙ্ক

জিঙ্ক শরীরের জন্য এমন একটি উপকারী পুষ্টি যা ডিএনএ তৈরি করা, কোষ বৃদ্ধি করা, প্রোটিন তৈরি করা এবং ইমিউন সিস্টেমকে সমর্থন করার মত কাজ করে। যাইহোক, স্কিনকেয়ারে, এটি ব্রণের চিকিৎসাগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে। জিঙ্ক তেল উৎপাদন সীমিত করার পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া কমিয়ে ত্বকের চিকিৎসা করে বলে মনে করা হয়।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

fourteen + fourteen =