ত্বকের যত্নে সিরাম

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

মুখের ত্বকের যত্নে আমরা প্রায়শই সিরাম এবং ময়েশ্চারাইজারকে একই বলে গুলিয়ে ফেলি।যেহেতু উভয় পণ্যই মূলত একই জিনিস। আসলেই কি তাই? ত্বকের যত্নের রুটিন থেকে সেরা ফলাফল পেতে হলে সিরাম কেন দরকার তা আজ আমরা দেখব।  

যতনে রতন মেলে। আর এই যতন যদি হয় স্কিনকেয়ারের তাহলে তো পোয়াবারো। সকলেই চায় একটি পরিষ্কার, মোলায়েম ও গ্লোয়িং স্কিন পেতে। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্ট্রেস,বাইরের দূষন, আনহেলদি লাইফস্টাইল সবকিছুই স্কিনকে প্রভাবিত করে। ফলাফল স্কিন রাফ ও ড্রাই হয়ে যাওয়া, এজিং সাইনস চলে আসা। ত্বক হারায় তারুন্যতা, লাবন্যতা এবং উজ্জ্বলতা। ক্লিনজিং-স্ক্রাবিং-ময়েশ্চারাইজিং এই ক্রমটা আমরা অনেকে মেনে চললেও সিরাম স্কিপ করে যাই। আমরা যদি ত্বকের যত্নের রুটিনকে ৩ কোর্সের খাবারের সাথে তুলনা করি তাহলে সিরাম হবে মেইন কোর্সের মত। এপেটাইজারের (ক্লিনজিং) পরে এবং ডেজার্ট (ময়েশ্চারাইজার) খাওয়ার আগে গুরুত্বপুর্ন পুষ্টি পূরনের জন্য অবশ্যই মেইন কোর্স (সিরাম) গ্রহন করতে হবে।

        

সিরাম ত্বকের যত্নের জন্য এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যার একটিভ ইনগ্রিডিয়েন্ট ত্বকের প্রবলেমগুলোর উপর ফোকাস করে কাজ করে। বেশিরভাগ , সিরামগুলো পরিষ্কার, জেল-ভিত্তিক বা তরল হয় এবং সেগুলো ময়েশ্চারাইজারের চেয়ে কম পুরু হয়। এগুলি সাধারনত আর্দ্রতা লক করার জন্য ময়েশ্চারাইজারের আগে এপ্লাই করতে হয়। বয়স ২০+ হলেই স্কিনকেয়ার রুটিনে এটি অ্যাড করা যাবে।কারন ফেস সিরামে বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপাদান থাকে। যেমন;

– ভিটামিন সি ,যা কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

-হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, একটি চমৎকার ময়েশ্চারাইজিং এজেন্ট যা আর্দ্রতাকে লক করে দেয় স্কিনকে শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করে।

-নিয়াসিনামাইড, যা পোরসকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে।

-রেটিনল, ভিটামিন এ নামেও পরিচিত। এই জনপ্রিয় এন্টি-এজিং উপাদানটি কোলাজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ব্যবহারের নিয়মঃ

ক্লিনজিং- টোনার-সিরাম-ময়েশ্চারাইজার এই ক্রম অনুসরন করতে হবে। প্রত্যেকের ত্বকের ধরন আলাদা। নিজের ধরন অনুযায়ী উপযোগী সিরামটি সামান্য পরিমানে সারা মুখে এবং ঘাড়ে প্রতিদিন দুবার ব্যবহার করা উচিত। এবং তা অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগ করার আগেই করতে হবে।

সিরামের ধরনঃ

ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে এই জাদুকরী প্রোডাক্টের রয়েছে অনেক ধরন-

এন্টি-এজিং সিরামঃ

এতে আছে রেটিনল, ক্যাফেইন, গ্রিন টি, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যা মুখের ফাইন লাইনস এবং রিঙ্কেলস মোকাবেলা করে বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে।

এন্টিঅক্সিডেন্ট সিরামঃ

এই সিরামগুলো ত্বকে প্রতিদিনের ভিত্তিতে যে র‍্যাডিকেলসগুলো প্রবেশ করে তা থেকে রক্ষা করে। শুধু তাই নয় ফাইন লাইনস কমিয়ে ত্বককে নিরাময় ও মেরামত করতে পারে। ভিটামিন এ, সি এবং ই, নিয়াসিনামাইড,মেলাটোনিন সমন্বয় রয়েছে এই সিরামগুলোতে। তবে দিনের বেলায় অতিবেগুনী রশ্মির বিরুদ্ধে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহারের সময় অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

হাইড্রেটিং সিরামঃ

নামের মতই এর কাজ। অতিরিক্ত আর্দ্রতা আনয়নের মাধ্যমে এটি ময়েশ্চারাইজারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। যাদের ড্রাই স্কিন তাদের জন্য এটি আদর্শ হলেও অদ্ভূতভাবে অয়েলি স্কিন (এমনকি ব্রন-প্রবণ ত্বক)ও কিছু টার্গেটেড হাইড্রেটিং সিরামের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। পরিপক্ক এবং তরুন উভয় ত্বকই একইভাবে এই সিরাম ব্যবহার করতে পারে। এতে আছে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, পেপটাইড এবং লুমিনসাইন। হায়ালুরোনিক পেপটাইড সিরাম তরুন ব্রণ প্রবন স্কিনের জন্য নিরাপদ।

কালার-কারেক্টিং সিরামঃ

হাইপারমিগমেন্টেশন,এনলার্জ পোরস, ফাইন লাইনস ইত্যাদি সমস্যার লক্ষে এই সিরাম ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও স্কিনের আনইভেন টোন দূর করতে, ত্বককে মসৃণ করতেও এটি কাজ করে। এতে আছে ফাইটিক এসিড, ভিটামিন সি, আরবুটিন, কোজিক অ্যাসিড, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড। এন্টিঅক্সিডেন্ট সিরামগুলো ত্বককে উজ্জ্বল করলেও এই কালার কারেক্টিং সিরামগুলোতে থাকা আরবুটিন বা কোজিক অ্যাসিড স্কিনের পিগমেন্টেশন দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

পরিশেষে এটাই বলা যায় যে, সিরাম এবং ময়েশ্চারাইজার উভয়ই ত্বকের যত্নের রুটিনের জন্য দরকারী। সিরাম যেমন ময়েশ্চারাইজারকে প্রতিস্থাপন করতে পারেনা তেমনি শুধুমাত্র ময়েশ্চারাইজার তুককে অতিরিক্ত ভিটামিন এবং পুষ্টি দেয়না। সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য উভয়ের কম্বিনেশন দরকার।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nine − 8 =