দুর্গতিনাশিনী দুর্গা একজন নারী

করেছে Rodoshee

পৌরানিক কাহিনি সূত্রে আদ্যশক্তি মহামায়া, কায়ারূপে যিনি মূর্তিমান দেবী দুর্গা দুর্গতিনাশিনী। সৃষ্টের লালন পালন আর দুষ্টের দমন এই লক্ষ্যে ধরাধামে কালে কালে আর্বিভূত হন তিনি। জগতের সকল অসুন্দরের প্রতি অসুর বধের মধ্য দিয়ে সত্য ও সুন্দরের বিজয় কেতন উড়াতে। কে তিনি? পৌরানিক পরিচয় সূত্রে আদ্যশক্তি মহামায়া কায়ারূপে চাক্ষুস দুর্গতিনাশিনী দুর্গা একজন নারী। আবহমানকাল থেকে বাঙালির লালিত দর্শনে কোথায় ছিল নারীর আসন? দুর্গা লক্ষ্মী ও সরস্বতীর অবস্থান বিশ্লেষণ করলেই আমরা দেখতে পাই সচেতন বা অবচেতনভাবে, নারীর অবস্থান ছিলো সবার উপরে। একটি বিষয় এখানে লক্ষনীয় যে প্রাশ্চাত্যে যেখানে আরাধ্য দেবতা প্রায় বেশিরভাগ পুরুষ, সেখানে প্রাচ্য বিশেষ করে আমাদের বাঙালি চেতনায় দেবী অবস্থানে রয়েছে নারী। সৃষ্টির আদি কথায় আমরা স্বীকার করে নিয়েছি নারীরূপী মহামায়াকে, সাথে সাথে বিদ্যা-শিল্প-সংস্কৃতি ও শষ্য সুখ সাফল্যের দেবীরূপে অন্তরে লালন করেছি পাশ্চাত্য চেতনার বিপরীতে নারীরূপী সরস্বতী ও লক্ষ্মীকে। মনোস্তাত্বিক একাগ্রতায় কিংবা চেতনা দর্শনে আমরা জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতেই নারীকে আসন দিয়েছি সব সময় সবার উপরে। আমরা কি বিষয়টি কখনো ভেবে দেখেছি? সত্য দর্শন কিংবা অচেতন কল্পনায় আমরা যা লালন করেছি, তা লিঙ্গবৈষম্য নির্মূলে আধুনিক সাম্য চেতনায় আজ আমরা যে আকাঙ্ক্ষার পথ চেয়ে আছি, তার সাথে কতটা অনুবর্তী। আদিকাল থেকে আমাদের চেতনায় নারীর যে স্থান, আধুনিক প্রাত্যহিক জীবনে আমরা কি নারীর সেই আসন রাখতে পেরেছি? উত্তর আসবে ‘না’। লালিত দর্শনে নারীর অবস্থান যেখানেই থাক যাপিত জীবনে নারীর অবস্থান নাজুক। তবে আশার জায়গা এই, নারী তার কর্মদক্ষতার মাধ্যমে দশ হাতে দায়িত্ব নিয়ে তার আসনকে দিন দিন প্রতিষ্ঠিত করে চলেছে।
নারীর অবস্থান কিংবা ধর্মীয় অনুভূতির বাইরে যদি আমরা দুর্গাপূজাকে ভাবি, তা হলে দেখতে পাই দুর্গাপূজা বাঙালি জাতীর এক আনন্দময় সার্বজনীন মহাউৎসব। যে উৎসবটি উদযাপিত হয় সবচেয়ে মিষ্টি ঋতু শরতে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম কিংবা বর্ষার দিনভর বৃষ্টি নেই। আছে মন ভুলানো নীল আকাশে তুলো উড়া হালকা সাদা মেঘ, বর্ষার বৃষ্টিতে সদ্য স্নান সেরে উঠা স্নিগ্ধ প্রকৃতি। প্রকৃতির এই কোমল ছোঁয়া, দুর্গা উৎসবকে আরো সাফল্যমণ্ডিত ও আনন্দময় করে তোলে।
এই উৎসব-আনন্দে তোমাদের সঙ্গে থাকতেই ‘রোদসী’র এই বিশেষ আয়োজন-‘পূজা সংখ্যা’। এই সংখ্যায় রয়েছে পূজার রান্না, পোশাক, কেনাকাটা, ঘরের সাজ, প্রতিমা, মণ্ডপ ও দেবী দুর্গার ধরাধামে আগমনসহ আরও কিছু আকর্ষণীয় আয়োজন। আশা করি তোমাদের ভালো লাগবে।
রোদসী তোমার প্রতিচ্ছবি, তোমার কথাই বলতে চায়। তাই যদি তোমার কিছু বলার থাকে জানাতে পারো রোদসীকে। তোমার মতামত জানাও চিঠির মাধ্যমে, ই-মেইল করে কিংবা রোদসী’র ফেসবুক পেজে।
শরৎ এবং দুর্গাপূজা দুটোকেই আমরা উপভোগ করব আমাদের সবটুকু অনুভূতি দিয়ে। ভালো থাকব সবাই। সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা।

সাবিনা ইয়াসমীন

সম্পাদক

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × 2 =