নাকফুলের নানান কথন

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

সাজতে কে না ভালোবাসে? আর সাজার অনুষঙ্গ হিসেবে তা যদি হয় নাকফুল তবে তো কথাই নেই। একটা সময় ছিল যখন শুধুমাত্র বিবাহিতারাই নাকফুল পরত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে চেঞ্জ এসেছে মনমানসিকতার ও ফ্যাশন ট্রেন্ডের। কি ট্র্যাডিশনাল আর ক্যাজুয়াল অথবা ওয়েস্টার্ণ সবকিছুর সাথেই সব বয়সেই মানিয়ে যাচ্ছে এই নাকফুলের ব্যবহার।

কোথায় যেন এক কবি বলেছিলেন, ‘প্রিয়ার নাক ফুল দেখে,মন হয়েছে উদ্বেল’। নাকফুল নারীর চেহারার সৌন্দর্যকে কয়েক গুন বাড়িয়ে দেয়। আগে নাকফুল ছিল নারীত্বের একধরনের স্বীকৃতি। বিবাহের এক প্রয়োজনীয় অলংকার ছিল এটি। সাধারন নারীর কাছে এটা যতটা না অলংকার তার চেয়েও ছিল বেশি অহংকার।  নাকফুলের ইতিহাস কিন্তু একদম নতুন নয়। এটি এমন এক প্রাচীন প্রথা যা ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং নান্দনিক কারনে সারা বিশ্বে প্রচলন ছিল। প্রাচীন ভারতে ৬০০০ বছর আগে নাকের রিং ব্যবহার করা হয়েছিল। আয়ুর্বেদিক ওষুধ অনুসারে এগুলো পরলে প্রসব এবং মেনস্ট্রুশনের ব্যথা উপশন হতে পারে। আগে স্বর্নের নাকফুলের প্রচলন বেশি দেখতে পাওয়া গেলেও বর্তমানে এর রঙে, ঢঙে ও উপাদানে এসেছে অনেক পরিবর্তন।

তুমি যখন খুব বেশি সাজগোছ করতে চাচ্ছোনা বা খুব বেশি গয়না এড়িয়ে যেতে চাচ্ছ তখন একটা সিম্পল নোজপিনের ব্যবহার চেহারার লুকে একটি এলিগ্যান্ট ভাব  আনতে পারে। মুখের ধরন অনুসারে কিভাবে নাকফুল চুজ করা যাবে? এটা এমন এক প্রশ্ন যা কমবেশি সবার মাথায় আসে। তাই নাকফুল চুজ করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার-

ছোট পাথরের নাকফুল

মুখের আকৃতি যাই হোক না কেন ছোট পাথরের  নাকফুল যেকোন মুখেই মানিইয়ে যায়। যে কোন ড্রেসের সাথে যে কোন বয়সেই এটা পরা যায়। নাকের সাইজ যদি ছোট হয় তবে এক্ষেত্রে ছোট সাইজের এক পাথরের চুজ করলে ভালো হবে। ডেইলি বেসিসে ব্যবহারের জন্য এই ধরনের নাকফুল হল আদর্শ।

 নথ

ইদানীং নাকফুলের পাশাপাশি নথেরও ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। তোমার নাক যদি লম্বা এবং তীক্ষ্ণ হয়ে থাকে তবে এক্ষেত্রে নথ বা হুপ নোজপিন ব্যবহার করে দেখতে পারো। এই নথের আবার বিভিন্ন ভ্যারাইটিজ রয়েছে। এগুলো ছোট, সিম্পল থেকে শুরু করে বড় সাইজের হয়ে থাকে। ছোট বা সিম্পলগুলো অনায়াসে কুর্তি, টপসের সাথে পরা যেতে পারে অন্যদিকে বড়গুলো যেমন মারাঠি নথ  মাঝে মাঝে শাড়ি বা লেহেঙ্গার মত পোশাকের সাথে পড়লে ভালো মানাবে.।

বালি

বালি বা ব্রাইডাল নথ সাধারনত বিয়ের সময় নববধূরা পরে থাকে। সিম্পল থেকে গর্জিয়াস বিভিন্ন ডিজাইনে এটি পাওয়া যায়। তবে এর ভালো দিক হল কোন ধরনের নাকের ছিদ্র করা ছাড়াই এগুলো পরা যেতে পারে।

নোলক

গ্রামাঞ্চলে আগে এর প্রচলন দেখতে পাওয়া গেলেও ফ্যাশন সচেতন অনেক নারী এটা বেছে নিচ্ছে। এটা চেহারায় একটা ইউনিক লুক দেয়। এটা যেহেতু ক্লিপ অন, তাই নাক ছিদ্র করার প্রয়োজন নেই।

নাকপাশা

এগুলো একটু বড় সাইজের হয়ে থাকে। বিভিন্ন কালারের নাকপাশা আজকাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। একটু ট্রেন্ডি লুক আনতে চাইলে সোনালী রঙয়ের নাকপাশাই মানানসই। যাদের নাক এবং ফেইস একটু বড় তাদের সাথে অনায়াসেই এগুলো মানিয়ে যাবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

sixteen − three =