নারীর ‘অবলা’ তত্ত্ব!

করেছে Rodoshee

‘অবলা’! শব্দটি ভীষণভাবেই পুরুষতান্ত্রিক মগজধোলাইয়ের শব্দ! অবলা মানে বোঝা হয়ে থাকে যার বল নেই কিংবা যে বলে না। সাহিত্যিক ভাষায় ‘অবলা জীব’ বলে একটি টার্মের উল্লেখ থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অবলা জীব বলে বোঝানো হয় গরু, মহিষকে। কেননা এই জীবগুলো কথা বলতে পারে না। তাই তাদের দুঃখ-বেদনা মানুষের জানার বাইরে থাকে। আর পুরুষতান্ত্রিক ডিকশনারি সেই অবলা উপাধি দিয়েছে নারীকে। নারী নাকি বলতে পারে না! নারী নাকি কোমল! নারী হচ্ছে মধু। তাই ঢেকে রাখো, মাছি বসবে! তাই রক্ষা করো, সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না! তাই প্রচুর অত্যাচার করো কেননা সে তো অবলা, সে অত্যাচারের কথা কাউকে জানাতেও পারবে না।

এই বেলায় আমার লিখতেই বেদম হাসি পাচ্ছে। কারণ এই ভাবনা কিন্তু আমার পাশে বসা পুরুষ সহযাত্রীটিরই, কিংবা তোমার ঘরের প্রিয় পুরুষটিরই, কিংবা তোমার ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ভাইটিরই। মজ্জায় মজ্জায় তারা বিশ্বাস করে তুমি দুর্বল, তুমি কোমল, তোমার বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না।
তুমি অবলা তাই তুমি রাজনীতি বুঝবে না, অর্থনীতি বুঝবে না, চাকরি করতে পারবে না। অত পড়াশোনার কী দরকার বাপু! তুমি অবলা তাই সন্তান কয়টি নেবে, কখন নেবে তা নিয়ে কোনো প্রশ্নই উঠবে না। তুমি অবলা তাই পুরুষ যখন তোমাকে যেরূপে চাইবে তুমি তাই থাকবে। ‘তুমি অবলা’ এই কথা বলেই তো আরও বহু বছর আগে তোমাকে ঘরে পুরে দিয়েছিল সামন্ত সমাজ। অথচ আদিম যুগ থেকে মনুষ্য এই সভ্যতার পেছনে তোমার অবদান এতটুকু কম নয়। পায়ে পা মিলিয়ে তুমি আর পুরুষ মিলেই গড়েছ এই মানব সভ্যতা। তবু সভ্যতা তোমাকে অবলা বলে! কেন বলে? সভ্যতাকে সে প্রশ্ন করা যাক আজ।

নারীর জন্য পুরুষের তৈরি ডিকশনারি!
প্রেগন্যান্সির ঠিক ১৬ থেকে ২৫ সপ্তাহের মধ্যে বাবু লাথি দিতে শুরু করে মায়ের পেটে। প্রতিটি লাথির বলের পরিমাণ হচ্ছে ৪৫ নিউটন বা ১০ পাউন্ড করে! একটা সুস্থ সবল মানুষের হাড় ভাঙার জন্য ২৫ পাউন্ড বল লাগে, যা একটি বাবুর তিনটি লাথির সমান। তার মানে একজন মা গর্ভবতী থাকাকালীন পেটের ভেতর যে লাথি সহ্য করে সেটাই বাইরে থেকে প্রয়োগ করলে কয়েকশ হাড়গোড় ভাঙা সম্ভব। আরও বিস্তারিত বললে, নারী মা হওয়ার সময়ে এই লাথিটি সহ্য করে তার জননঅঙ্গের কাছাকাছি। পুরুষের জননঅঙ্গে এই পরিমাণ কন্টিনিউয়াস লাথি কী পরিণতি আনতে পারে? তা অনুমেয়।

তাহলে একজন নারী দুর্বল এই কথার আসলে ভিত্তি কোথায়!
কার শক্তি বেশি বা স্ট্যামিনা বেশি তা মূলত পরিমাপ করতে হয় কিছু স্ট্যান্ডার্ডে। পেশিশক্তি তথা কে কত ভার তুলতে পারবে, কতক্ষণ সে ভার সে সহ্য করতে পারবে এবং সে ভার নিয়ে কতক্ষণ দৌড়াতে পারে!
এ জন্য পেশিশক্তিতে ভরপুর জিম পেটানো শরীরও একটু হাঁটলে হাঁপিয়ে যায়। কারণ, স্ট্যামিনা কম।
হ্যাঁ, প্রাকৃতিকভাবে নারীর পেশিশক্তি কম পুরুষের চেয়ে। কিন্তু ভার সহ্য করার ক্ষমতা আবার বেশি। তাই ধুম করে ‘দুর্বল’ বলাটা ভিত্তিহীন। ওই যে বললাম, শক্তি মাপার জন্য খালি ‘পেশিশক্তির’ ব্যাপারে মাথা ঘামালেই চলবে না।

মার্শাল আর্ট জানা একজন মেয়ে কিন্তু চাইলেই একজন ছেলেকে উড়িয়ে ফেলে দিতে পারে। কুপোকাত করতে পারে হাত-পায়ের ক্যারিশমায়। তার মানে মারামারি করার কৌশলটা রপ্ত করে নিতে হয় কেবল! এইটা কোনো পুরুষালি সম্পত্তি নয়। তবু নারীকে কোমল বলে একটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়।
নারী কোমল নয়, আসলে বিশ্বের প্রতিটি মানুষই কোমল। মায়াময়। নারীর ভেতর এই মায়াটা বেশি কারণ সে মা হয় এবং সে বাচ্চার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় কাটায়। পরের প্রজন্মকে পৃথিবীতে টিকে থাকতে শেখায়, ভাষা শেখায়। সেটা কিন্তু একজন পুরুষও শেখায়। তাই সেই জায়গা থেকে নারী-পুরুষ উভয়ই কোমল গুণের অধিকারী।
কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক কনসেপ্ট নারীর কোমল বিষয়টি এমন বানিয়ে দিয়েছে যে নারী মানেই সফট, পুরুষ মানেই হার্ডকোর। এইটা পুরুষতান্ত্রিকের নিজের ভাবনা, আধিপত্য বিস্তারের ভাবনা। তোমাকে যত বলা হবে তুমি অবলা, তুমি কোমল, তুমি ফুল। আমি তোমাকে রক্ষা করার জন্য এসেছি। তুমি নিজে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। কারণ তুমি আমার অধীনে। তখন প্রতিটি নারী তাই ভাবতে শেখে। সে হয়তো আসলেই পুরুষের অধীনে। নিজেকে রক্ষা করার কোনো অধিকারই তার নেই। তাই সে পারিবারিক কাজে কোনো ডিসিশন দেবে না, শিক্ষিত হবে না, পুরুষের এবইউজিভ দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেবে। কারণ সে বিশ্বাস করে পুরুষ তার মালিক, আর সে দাসী। তাই একজন পুরুষ যা ইচ্ছা তা করতে পারে। একজন নারী পারে না। শুধু কিছু কথা আর চিন্তায় পরিবর্তন এনে যদি এত দাসী পাওয়া যায়, তাহলে আধিপত্য বিস্তারের এই মওকা কে ছাড়বে বলো! পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিও ছাড়েনি!
‘নারী যে অবলা’ এ কথার বাহক অনেক নারীও!
‘তুমি মেয়ে, তোমাকে বুঝতে হবে। স্বামী যতই অন্যায় করুক সে স্বামীই। অ্যাডজাস্ট করতে হবে।’
‘তুমি মেয়ে, এইটা কি মাথায় থাকে না! রাত করে বাড়ি ফিরতে পারবে না। আরও অনেক কিছুই তুমি পারবে না।’
‘আপনাদের মতো মেয়েদের জন্যই আমাদের মেয়েদের গায়ে কলঙ্ক পড়ে। আপনারা পুরুষের সমকক্ষ হতে চান। কিন্তু নারী যে কোমল, মাতৃত্ব নারীর কত বড় পাওয়া এসব আপনারা বুঝবেন কীভাবে।’
এই কথাগুলো তোমার চারপাশের নারীদের। বিশেষত যখন তুমি স্বাবলম্বী। যখন তুমি ঘরের পুরুষকেও মেধায়-মননে ছাড়িয়ে যেতে পারো নিজের যোগ্যতায়। তখন চারপাশে এসে জেঁকে ধরে অনেক নারীই। তোমাকে আগাতে দেয় না। তখন তুমি রায় দাও ‘নারীরাই নারীদের শত্রু’।
না গো! এসব নারী পুরুষতান্ত্রিক মগজধোলাইয়ের শিকার। তারা চোখ মেলে কোনো দিন বুঝতেই চায়নি, কিসে তাদের অধিকার! কীভাবে তারা নিজেদের সম্মান নিজেরাই দিতে পারে। তারা এতই মগজধোলাইয়ের শিকার! তাই তারা বিশ্বাস করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ঠিক করে দেওয়া অনুশাসনে। এই অনুশাসন তাদের রানি করে রাখে সেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজেই!
নারীদের শত্রু পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। জেন্ডার নারী বা পুরুষ না। কারণ প্রচুর পুরুষ রয়েছে যাদের বদৌলতে নারী আজ তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারছে। কমলা ভাসিনের মতে, তিনি প্রচুর বায়োলজিক্যাল পুরুষ দেখেছেন যারা নারীবাদী। তাই নারীবাদ কেবল নারীর বিষয় নয়। এটি সাম্যের বিষয়।
মানবতাবাদের একটি ব্রাঞ্চ এই নারীবাদ। মানবতাবাদ বিশ্বাস করে প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ-অধিকার ভোগ করবে। কিন্তু এই মানবতাবাদ প্রচারের পরেও দেখা গেল নারীকে একই কাজে পুরুষের চেয়ে কম টাকা দেওয়া হচ্ছে, ভোটের সময় নারীকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না! তখনই এলো নারীবাদ। কথা তো ছিল সব মানুষের সমান অধিকার! নারী কেন তাহলে বাদ পড়ছে? মানবতাবাদ কি তাহলে শুধুই জেন্ডারে পুরুষের কথাই বলছে না।
কিন্তু বিশ্বাস করুন আর নাই-বা করুন, পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত সর্বোপরি মগজধোলাইয়ের শিকার কিছু নারী চায় না এই সাম্যের অধিকার। পুরুষতান্ত্রিক এমনভাবে সেসব নারীকে হিপটোনাইজ করেছে যে তারা এমনটি ভাবতেই ভয় করে।
সেই নারীরাই বহন করে ‘নারী অবলা’ টাইপের পুরুষতান্ত্রিক জাদুটোনার কথা। সেই নারীরাই ধুম করে আরেক নারীকে ‘খারাপ মেয়ে’ বিচার করে, তাদের মতো জীবনযাপন না করলেই।

অবলা বলেও কি আটকে রাখা যায়!
কত অবলা আর কোমল বলে বিশ্বের গোটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কি লাফানিটাই না দিচ্ছে!
তাতে কী হচ্ছে! নারীরা প্রচুর শিক্ষিত হচ্ছে, ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছে। খোদ সৌদি আরব যেখানে নারী ড্রাইভিং লাইসেন্স পেত না, সেখানে নারী গাড়ি চালাচ্ছে। রিসার্চ করছে, জব করছে, রেমিট্যান্স আসছে দেশে, জিডিপি বৃদ্ধিতে পায়ে পা মিলিয়ে টেক্কা দিচ্ছে। নিশ্চিন্তে দেশ ঘুরছে, দেশে-বিদেশে নাম কুড়াচ্ছে।
তবু এত এত কিছুর পরেও তাদের একলাই সংসার সামলাতে হতে হচ্ছে, বাচ্চা পালতে হচ্ছে। নারীরাই এগিয়ে গেছে। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক মাইন্ডসেট রয়ে গেছে সেই পুরোনো জায়গায়। বাহির আর সংসারের ভার একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। আবার কারণে-অকারণে বলা হচ্ছে তুমি কোমল। কী আশ্চর্য না!
এত শিক্ষিতের হার বাড়া সত্ত্বেও ধর্ষণ কিংবা ডমেস্টিক ভায়োলেন্স বেড়েছে। অদ্ভুত না! মানুষ শিক্ষিত হলে নাকি অপরাধ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেশির ভাগ পুরুষ এখন একজন নারীকে ধর্ষণেচ্ছা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
এইটাও ঠিক অবলা তত্ত্বের ফলাফল। মানে আমি বললাম তুমি অবলা, ঘর থেকে বাইর হবা না, তাও বাইর হইছ, এখন তোমাকে আমি শিক্ষা দিব। রূপা প্রামাণিক, গারো তরুণী, তনু প্রত্যেকেই সেই ‘শিক্ষার’ শিকার।
কিন্তু মজার বিষয়, এককালে রেপ করলেই সমাজ থেকে ভাবা হতো ‘নারীর আর কিচ্ছু নাই’। সতী নারী খুব একটা আহ্লাদী কনসেপ্ট ছিল সমাজে (এখনো আছে)। কনফুসিয়াস মতবাদে, নারীর শরীর ছিল তার জীবনের চেয়ে বড়। তাই ধর্ষণের শিকার নারী আত্মহত্যা করত। আর ধর্ষক ‘বেশ করেছি, ধর্ষণ করেছি’ টাইপ একটা মুড নিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়াত।
নারী শিক্ষিত হওয়ার পরে এই মনোজগতে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। আজ ধর্ষিত বা এবইউজের শিকার নারী জীবন দেয় না। বরং রুখে দাঁড়ায় অপরাধীর বিরুদ্ধে। গিয়ে মামলা করে তাদের নামে। অন্তত এই বিশ্বাসে তাদের পরিবর্তন এসেছে, ‘নারীর শরীরের অধিকার নারীর নিজের। তাই এই শরীরে আঘাত করলে নারী আঘাত পায়, কিন্তু সম্মানহানি হয় না। সম্মান নারীর যোনিতে নয়।’
অবলা তো কেবল মগজের ব্যাপার নয়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ধর্ষণ বা অন্যান্য ভায়োলেন্সকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে এই অবলা তত্ত্ব দিয়ে।

গণমাধ্যম কি অবলা তত্ত্ব ছড়ায়নি?
‘স্বামী মারুক ধরুক আমি তাকে ছাড়ব না’, ‘মেয়েদের সম্মান তো শরীরে, শরীর গেলে আর কী থাকে’, ‘স্বামীর পায়ের নিচে একজন স্ত্রীর আসল সুখ’, ‘সংসারের জন্য জীবন-যৌবন ত্যাগ করলেই সে ভালো বউ’ এগুলো এই দেশের ম্যাটিনি শো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা আমার। সেই ছোটবেলায় শুক্র, শনি বিকেলে বসে বসে আমি এগুলো শিখতাম বিটিভি থেকে, বাংলা সিনেমা দেখে দেখে। বেশির ভাগ এই চরিত্রগুলো শাবানা অভিনীত ছিল বলে অনেকে শাবানা টাইপ ছবি বলে। তবে কমবেশি সব অভিনেত্রীই এই ধরনের ক্যারেক্টার করেছে। আমি আজ অবধি দেশে এমন কোনো সাহসী অভিনেত্রী পাইনি, যে এসব ‘করব না’ বলে প্রতিবাদ করেছে।
দুটি জিনিস মাথায় রাখো! এই ছবি কারা বানায়? তারা পুরুষতান্ত্রিক ধ্বজাধারী এই সমাজের একাংশ! তাদের ছবিতে এগুলো আসবে না কেন? আলমগীর কবির, কিংবা তারেক মাসুদ এই ধরনের মুভি তো বানাননি কোনো দিন। আর দ্বিতীয় ব্যাপার হচ্ছে এই ছবিগুলো যত লোকে দেখবে, তত লগ্নি করা টাকা ঘরে আসবে। যারা দেখবে তারাও কি পুরুষতান্ত্রিক ধ্বজাধারী নয়?
তাই ‘তুমি তেল খেতে চাচ্ছ, তেল দিচ্ছি’ বলেই এই বাংলা সিনেমা বানানো হয়েছে। কেউ কখনো ভেবে দেখেনি এর বাইরের কিছু টোটকা দিলে হয়তো প্রথম খেতে অসুবিধা হবে। পরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
আসলে কোন দেশই বা ভেবেছে? জেমস বন্ডের নায়িকা এখনো সেক্স ডল ছাড়া কী? ‘জিন্দেগি মিলে না দোবারা’তে নারী পরিচালক তিন ছেলে বন্ধুকে নিয়ে কথা বলল! তিনি মাথাতেও আনেননি সেখানে জমতে পারে তিন মেয়ের গল্প! তিন মেয়েও দেশ ছেড়ে বেরোতে পারে নিজের ফ্রাস্ট্রেশন কাটাতে।
এমনকি মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি নারীকে চিরকাল পণ্যরূপে দেখা হয়েছে। গ্লাস সিলিং এখানে এক মামুলি ব্যাপার। নারী যত ভালো অভিনয় করুক অভিনেতার চেয়ে সে পারিশ্রমিক কম পাবে।
বেশ কিছুদিন আগে কঙ্গনা রনৌত ‘সিমরান’ ছবির প্রচারণায় একটি গান গেয়েছিলেন। যেখানে বলা হয়েছে একজন অভিনেত্রীর বিয়ে হলেই ক্যারিয়ার শেষ। অথচ একজন অভিনেতা মেয়ের বয়সী মেয়ের সঙ্গে নাচতে পারে। শুধু পুরুষ বলেই শুটিংয়ের সময় এক্সট্রা খাতির পায় সে, বেশি টাকা পায় ফালতু অভিনয় করেও।
কেননা, নারীর ভ্যাজাইনে আছে। পুরুষাঙ্গ নেই। লিঙ্গপূজা তো এই অঞ্চলে বিখ্যাত। যোনিপূজার কথা কে কবে শুনেছে?
লালগালিচা আর এত আলোর ভিড়েও অবলা তত্ত্ব রয়ে গেছে গণমাধ্যমে। তাই সেটার প্রচারণাও চলে। তবে দিন বদল একেবারেই যে হচ্ছে না, তা না! তার অনেক বড় প্রমাণ কুইন, কাহানি, পরমার মতো মুভিগুলো।
এখনো অনেক দূর বাকি!
এই লেখাটা ১০০ জন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিশ্বাসী মানুষ (নারী এবং পুরুষ) পড়লে ১০০ জনের গা রি রি করে উঠবে। ‘আমি মেয়েদের খারাপ বানাচ্ছি’ কিংবা ‘এটি একটি বাজে মেয়ের লেখা, তুমি পড়ো না’ টাইপ কথা আসবে।
মানে যা বলতে চাচ্ছি, নারী বেরিয়ে আসছে ধীরে ধীরে অবলা তত্ত্ব থেকে। কিন্তু এই সমাজ থেকে অবলা তত্ত্ব যেতে লাগবে আরও বহু বছর। ৬০০০ বছর ধরে পোষণ করা অবলা তত্ত্ব যেতে মিনিমাম তো আরও ছয় হাজার বছর লাগবে। আশার কথা এই যে এখন বিশালসংখ্যক নারী বিশ্বাস করতে শিখেছে তারা একজন পুরুষের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়, তারা অবলা বা কোমল টাইপের কোনো জিনিস না, একজন মানুষের যতটুকু বল থাকা দরকার তাই তাদের আছে। এইটাও কিন্তু এত দিন নারীবাদের লড়াইয়ের ফল।
সারা বিশ্বেই ফেমিনিজমকে ভালো চোখে দেখা হয় না। নারীবাদ ভুল তা কেউ বলে না! নারীবাদ নারীকে বেশি অধিকার দিচ্ছে এইটা লোকে বলে। যদি নারীবাদ নারীকে কম অধিকার দিত তাহলে অবশ্য অনেকের মানতে সমস্যা হতো না।
ভেবে দেখো ৬০০০ বছর ধরে যে অধিকার ভোগ করে এসেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, এই অধিকার ভোগে কেউ ভাগ বসালে গা তো জ্বলবেই!
তাই নারী বেরিয়ে এলেও সমাজ থেকে অবলা তত্ত্ব চলে যেতে এখনো সময় বাকি। আমি অবশ্য আশা করি, নারীরাই তাদের শক্তি, মেধা আর বুদ্ধি দিয়ে এই অবলা তত্ত্বকে ‘নাই’ করে দিবে শিগগিরই!

লেখা: মারজিয়া প্রভা

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

three × 3 =