নারীর প্রতি অশালীন আচরণের দণ্ড কী?

করেছে Rodoshee Magazine

নারীকে অমর্যাদা করার উদ্দেশ্যে যদি কোন ব্যক্তি- কোনো উক্তি, অঙ্গভঙ্গি বা অন্য কোনো কাজ করে তবে সে আইনত অভিযুক্ত হবে। দণ্ডবিধির ৩৫৪ এবং ৫০৯ ধারায় দণ্ডের বিধান দেওয়া আছে।

ঢাকা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মিলন সরকার বলেন, ‘অশালীন আচরণ’ শব্দের কোনোরূপ ব্যাখ্যা আইনের কোনো ধারাতেই সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে দন্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় এ সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হয়েছে মাত্র। ধারাটি হলো – ‘কোনো নারীর শালীনতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আক্রমন ও তার প্রতি অপরাধমূলক বল প্রয়োগ-ই হচ্ছে অশালীন আচরন৷সাধারণভাবে বলা যায়, আমাদের সামাজিক রীতিনীতি কিংবা আচার-আচরণের সঙ্গে মানানসই নয়, এমন যে-কোনো ব্যবহার বা আচরণই অশালীন আচরন। আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের সে ভয়াবহ চিত্র বিদ্যমান তাতে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা কেউ ভাবে না। এমন কি আইনের সাহায্যে এর যে প্রতিকার পাওয়া যায় তা অনেকের কাছে অজানা। অথচ স্কুল-কলেজগামী ছাত্রী অথবা কর্মজীবী নারী যে কেউ প্রায়ই বখাটে পুরুষদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। শুধু অশ্লীল উচ্চারণ বা শিস্ দেয়া নয় বরং এদের আচরণ জামা-কাপড় কিংবা শরীরে হাত দেয়া পর্যন্ত গড়ায়৷ গ্রামাঞ্চলে শুধু বখাটেদের উত্পাতে কিশোরীদের স্কুল ত্যাগের বহু ঘটনা ঘটে এমনকি এরজন্য অনেকে আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়। এর জলন্ত উদাহরণ গাইবান্ধার তৃষা, খুলনার রুমী, নারায়নগঞ্জের চারুকলার ছাত্রী সীমা এরকম নাম না জানা অনেকে ।

দণ্ডবিধির ৩৫৪ এবং ৫০৯ ধারায় অশালীন আচরনের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। ধারাদুটি হলো-
৩৫৪ ধারায় বলা আছে -কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বা শালীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে জেনেও উক্ত নারীকে আক্রমণ করে অথবা তার উপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে তবে সেই ব্যক্তি তার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৫০৯ ধারায় বলা হয়েছে – কোনো নারীর শালীনতা অমর্যাদার উদ্দেশ্যে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো উক্তি, অঙ্গভঙ্গি বা অন্য কোনো কাজ করে তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

রোদসী/আরএস

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

twenty + thirteen =