নিরাপদ খাদ্য : সচেতনতা জরুরি

করেছে Sabiha Zaman

আমাদের জীবনধারণের জন্য খাদ্যের প্রয়োজন এ কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে অনেক সময় সঠিকভাবে খাদ্য তৈরি এবং সঠিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণের অভাবে আমরা খাদ্যবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই এবং বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অথচ একটু সচেতন হলেই আমরা সহজে এ সমস্যার সমাধান করতে পারি।

নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন করো

অনেক খাদ্য যেমন ফলমূল এবং শাকসবজি ইত্যাদি স্বাভাবিক অবস্থায় নিরাপদ নয়। কাঁচা খাদ্য যেমন লেটুস, ধনেপাতা, গাজর, টমেটো ইত্যাদি ভালোভাবে ধুয়ে সহজেই খাওয়া যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় যেসব খাদ্য খাওয়া যায়, সেসব খাদ্য ভালোভাবে ধুয়ে তারপর খেতে হবে। তবে কাঁচা দুধ রান্না করা ছাড়া নিরাপদ নয়।

রান্নার মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করো

অনেক কাঁচা খাদ্য, বিশেষ করে মুরগি বা অন্যান্য মাংস এবং জ্বাল দেওয়া দুধ কখনো কখনো ক্ষুদ্র জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। রান্নার মাধ্যমে এসব জীবাণু মরে যায়। তবে তা যেন অবশ্যই খাদ্যের সব অংশে কমপক্ষে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রান্না হয়।

রান্না করা খাদ্য তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো

যখন রান্না করা খাদ্য ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকে, তখন বিভিন্ন অণুজীব এতে আশ্রয় গ্রহণ করে। যত বেশি সময় ধরে খাওয়ার অপেক্ষা করা হবে, খাদ্যে ততই ঝুঁকি বাড়তে থাকবে। আর তাই রান্নার সঙ্গে সঙ্গে গরম অবস্থায় খেয়ে নেওয়াই হচ্ছে নিরাপদ।

সতর্কতার সঙ্গে রান্না করা খাদ্য সংরক্ষণ করো

খাদ্য যদি কখনো রেখে দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তা অবশ্যই গরম (সর্বোচ্চ ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অথবা ঠান্ডা (সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) উভয় অবস্থায় রাখা উচিত। এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে, যদি তুমি সেসব খাদ্য ৪-৫ ঘণ্টার বেশি সময় পরে খেতে চাও।

রান্না করা খাদ্য পুনরায় গরম করো

রান্না করা খাদ্য রেখে দিলে বা সংরক্ষণ করা হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অণুজীবগুলো এতে বাসা বাঁধতে পারে। অণুজীব অত্যন্ত ধীরে ধীরে বংশবৃদ্ধি করে, কিন্তু জীবদেহ মরে না। তাই খাওয়ার আগে ওই সব খাদ্য পুনরায় কমপক্ষে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করে অবশ্যই খেতে হবে।

কাঁচা খাবার এবং রান্না করা খাবারের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলো

নিরাপদ রান্না করা খাদ্য কাঁচা খাবারের সঙ্গে সামান্য সংস্পর্শের মাধ্যমে দূষিত হতে পারে। এই দূষিত সরাসরি হতে পারে যদি কাঁচা বা আরাঁধা মুরগির মাংস রান্না করা খাবারের সংস্পর্শে আসে। যে ছুরি দিয়ে মুরগি কাটা হয় এবং যে পাত্রে কাঁচা মাংস রাখা হয়, সেই পাত্রে বা সেই ছুরি দিয়ে রান্না করা মাংস রাখা এবং কোনো কিছু কাটাও ঠিক নয়। এতে রোগজীবাণু রান্নার পূর্ববর্তী সময়ে সহজেই বিস্তার ঘটাতে পারে।

বারবার হাত ধুয়ে নাও

কাঁচা খাদ্য যেমন মাছ, মাংস ইত্যাদি তৈরির পর অন্য কোনো খাদ্য তৈরি করার আগে পুনরায় ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। বাড়ির পোষা পশুপাখি হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করে বা ধরে ভালোভাবে হাত না ধুয়েও খাদ্য তৈরি করা উচিত নয়। এতে রোগজীবাণু খাদ্যের মধ্যে বিস্তার ঘটাবে।

রান্নাঘর এবং তৈজসপত্র পরিষ্কার রাখো

যেসব ন্যাকড়া বা কাপড় দিয়ে রান্নাঘর ধোয়ামোছা করা হয়, পরবর্তী সময়ে সেগুলো পুনরায় ভালোভাবে পরিষ্কার করে ব্যবহার করতে হবে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত পাত্রগুলোও প্রতিদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত। মেঝে পরিষ্কারের ন্যাকড়া বা কাপড়ও প্রতিদিন পরিষ্কার করা উচিত।

পোকামাকড়, ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণী থেকে খাদ্যকে রক্ষা করো

পোকামাকড়, ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণী খুব সহজেই খাদ্যে রোগজীবাণু ছড়াতে পারে। কাজেই খাদ্য রাখার পাত্রগুলো ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে এবং নিরাপদে রাখতে হবে, যেন পোকামাকড় বা অন্যান্য প্রাণী খাদ্যের ওপর বসতে না পারে এবং মুখ দিতে না পারে। কারণ, এরা খাদ্যের মাধ্যমে সহজেই রোগজীবাণু ছড়ায়।

 

বিশুদ্ধ পানি পান করো

পান করার জন্য যেমন বিশুদ্ধ পানি দরকার, তেমনি খাদ্য তৈরির জন্যও বিশুদ্ধ পানি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহকৃত পানির ব্যাপারে সন্দেহ হলে খাদ্য তৈরির আগে তা অবশ্যই ফুটিয়ে বা সেদ্ধ করে নিতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের খাবার তৈরির ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের প্রতি অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

লেখা: প্রদীপ সাহা

 

 

 

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

11 − 4 =